তবুও ঝরে যায়

শরীফ উদ্দীনঃ

মাঝে মাঝে কাঁদি। জীবনে এক লাইন কবিতা লিখি নি। প্রায়শই ইনবক্সে মেসেজ পাই, ‘কবি, আপনার সব কবিতা আমি পড়ি।’

কবিতা না লিখেও কবি স্বীকৃতি পাবার আনন্দে কাঁদি। ভাবলাম, এভাবে ফাঁকি দিয়ে আনন্দ নেয়া ঠিক হচ্ছে না বরং কয়েকটি কবিতা লিখি।

শুরু করতে গিয়ে বুঝতে পারলাম, কবিতা লেখা বড় কঠিন কাজ। ঠেকে যাচ্ছি। এমন সময় বউ চা নিয়ে এসে কাছে দাঁড়াল। বউয়ের চোখের দিকে তাকাতেই কবিতার দুলাইন মাথায় চলে এলো। দেরি করলে মাথা থেকে হারিয়ে যেতে পারে বলে তাড়াহুড়া করে লিখতে লাগলাম—

আমি কখনও সমুদ্র দেখি নি.
যেদিন তোমার চোখের দিকে তাকালাম—
সেটাই আমার প্রথম সমুদ্র দেখা।

লাইন দুটি পড়ে বউ গদগদ হয়ে প্রস্তাব দিল, ‘ডুয়েট কবিতা হয়ে যাক? প্রথম পংক্তি তুমি লিখবে, দ্বিতীয়টা আমি তারপর আবার তুমি এভাবে?’

খুশিতে ডগমগ হয়ে পাশে জায়গা করে দিতে দিশা পেলাম না। কলমটা আমার হাত থেকে নিয়ে লিখতে লাগল—

সেই সমুদ্রে এত লবন আছে
তোমার সাথে বিয়ে না হলে—
আমার জানা হতো না, সখা।

একেবারে কঞ্চিসমেত বাঁশ। কলমটা একটানে হাত থেকে কেড়ে নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ করতে গেলাম কিন্তু গলায় আটকে গেল।

সত্য কথা অস্বীকার করা কঠিন। দেশ-বিদেশ ভেদ নেই। বিয়ের পরে মেয়েরা দুচোখ ভরা স্বপ্ন নিয়ে স্বামীর বাড়ি আসে। অনেকেরই সেই স্বপ্ন ঝরে পড়ে চোখের নোনা জল হয়ে। কখনও ভাবি না, বউয়ের সাময়িক রাগকে দর্পে আঘাত দেয়া ভেবে পৌরুষত্বের বাহাদুরি না দেখালে সেই নয়ন সমুদ্র ঝরে পড়ার বদলে সেখানে দেখতে পেতাম– জল জোছনা।
লেখকঃ সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন