দেয়ালে আঁকা চোখ

সুস্মিতা মিলি

আমার সামনে যে মেয়েটা বসে আছে তার নাম জেনি। সে আমার পাশের বাসার নতুন ভাড়াটিয়া। জেনি এর আগেও অনেকবার এসেছে আমার বাসায়। আমার চেয়ে বয়সে অনেক ছোট। তাই মেয়েটা আমাকে আপু বলেই ডাকে। আজ সদাহাস্যজ্বল জেনিকে কেমন যেন একটু মলিন দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে তার কোন সমস্যা হচ্ছে। জেনি আর তার হাসবেন্ড তিনমাসও হয়নি এই বাসায় এসেছে। অবশ্য গত তিন বছরে এই ফ্ল্যাটে কোন ভাড়াটিয়াই দুইতিন মাসের বেশি টেকেনি। বিষয়টা কেমন যেন রহস্যময় লাগে আমার কাছে। সকল ভাড়াটিয়া আসে খুব খুশি হয়ে আর যায় খুব তাড়াহুড়ো করে। যেন তাদেরকে ভূতে তাড়া করে।

জেনিকে দেখেও বুঝতে পারলাম ওরাও চলে যাবে,হয়তো এই কথা বলতেই এসেছে। মেয়েটাকে দেখে আমার খুব মায়া হচ্ছে। আহারে! মনে হয় আমার কাছে আসার আগে কেঁদে এসেছে। আমি বললাম

— কি হয়েছে জেনি? মন খারাপ?

—- আপু আমার বসায় চলেন,আপনাকে একটা জিনিস দেখাবো,জেনি বললো।

—-কি দেখাবে জেনি? জরুরি কিছু?

—-আপনি একটু আসুন প্লিজ,আপনাকে ছাড়া এই বিল্ডিংয়ের অন্য কাউকে আমি চিনিনা। তাই আপনাকেই দেখাবো,একটু আসুন। জেনি আকুল হয়ে আমার হাতটা ধরে অনুনয় করে বললো।

আমি আর মানা করতে পারলাম না। গেলাম জেনির বাসায়। মেয়েটার বিয়ে হয়েছে দুবছর হলো। পড়ালেখা শেষ হওয়ার আগেই বিয়ে হয়েছিলো বলে এখনও বাচ্চা হয়নি তার। খুব ছিমছাম পরিপাটি করে গোছানো তার বাসাটা। বেডরুমে একটা বিয়ের ছবি বাঁধানো। তার শাশুড়ী পাশের রুমেই ঘুমাচ্ছেন। কাজের মেয়েটা রান্না ঘরে রান্নায় ব্যাস্ত। জেনি আমাকে তার বেডরুমে বসিয়ে দরজাটা বন্ধ করে দিলো। তারপর বললো,

—আপু দেয়ালের ছবিগুলো দেখেছেন? এগুলো কে এঁকেছে?

আমি দেয়ালটার দিকে তাকিয়ে কোন ছবি দেখলাম না। শুধু দেখলাম দেয়াল ঘড়িটার ঠিক নিচে এক আনাড়ি হাতে আঁকা দুটো চোখ। ভালো করে তাকাতেই বুঝতে পারলাম পুরো মুখটাও আছো। মুখটা দেয়ালে পেইন্ট করার কারনে বেশ ঝাপসা হয়ে গেছে। কিন্তু চোখগুলো যেন জীবন্ত! যেন আমার ভেতরের আমিটাকে দেখতে পাচ্ছে। মনের অজান্তেই আমার শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠলো।

এই চোখগুলো দেখে আমার তিন বছর আগের কথা মনে পরলো। এই বাসাতেই তুলি নামের একটা বউ সুইসাইড করেছিলো। তুলি ও জেনির মতো অল্পবয়সী আর খুব হাসিখুশি ছিলো। শাশুড়ী একটা কাজের মেয়ে কলেজে পড়া খালাত ননদ আর ওরা দুজন। খুব সুখি সংসার ছিলো তাদের। কিন্তু হঠাৎ করেই তুলির ভেতরে পাগলামী দেখা গেলো। রাতে সে ঘুমাতো না। বলতো ঘুমালেই নাটক শুরু হবে,নাটক!
আস্তে আস্তে বদ্ধ পাগল হয়ে গেলো সে,শুধু চিৎকার করে বলতো, আমি সব দেখেছি, সব দেখেছি। আমার এই চোখ মিথ্যা কিছু দেখেনা।
তুলি পাগল হওয়ার পর দেয়ালে শুধু ছবি আঁকতো। বাচ্চাদের মতো করে কালারপেন্সিল দিয়ে দিয়ে পুরোটা দেয়াল সে ছবি এঁকে নষ্ট করে ফেললো। তারপর একদিন তার প্রতিদিনের জন্য রাখা ঘুমের টেবলেটের সবগুলো খেয়ে ঘুমিয়ে গেলো চিরতরে।

তুলি মারা যাওয়ার পর ওদের পরিবার আর এই বাসায় থাকেনি। ফ্ল্যাটটা খুব তাড়াতাড়ি সস্তায় বিক্রি করে দিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। যারা ফ্ল্যাটটি কিনেছেন তারা আবার নতুন করে ইন্টেরিয়র ডিজাইনার এনে ফ্ল্যাটের কাজ করিয়েছেন। তারপর খুব আয়োজন করে এলেন থাকতে। কিন্তু ফ্ল্যাটে আসার পনেরোদিন পরই অজ্ঞাত করনে ওরা বাসাটা থেকে পুরনো বাসায় চলে গেলেন। কিন্তু তারা আর বিক্রি করেনি বাসাটা। ভাড়া দিয়ে দেন। কিন্তু কোন ভাড়াটিয়াই টিকেনা বাসাটাতে। তিন বছরে বহু হাত বদল হয়ে জেনিদের পরিবার এসেছে।

জেনির বয়স কম। মাঝে মাঝেই আমার বাসায় আসে। আমার ছেলে মেয়েদের সাথে সময় কাটায়। কিন্তু আজ জেনি যা বললো,তা আমাকে হতভম্ব করে দিলো। সে দেয়ালের চোখগুলো দেখিয়ে বললো,

—আপু এই বাসায় বিশেষ কিছু আছে।অন্যরকম কিছু।

—-অন্যরকম কিছু থাকলে আমি আগে জানতে পারতাম। সবচেয়ে কাছেতো আমিই থাকি। শুধু তুলির মৃত্যটা ছাড়া। তাছাড়া যারা এখানে থেকেছে তারা কেউ কখনো এমন কিছু বলেনি। আমি বললাম।

——আপু দেয়ালের এই চোখগুলো দেখুন! আপনি জানেন! রাতের বেলায় এই চোখগুলো একদম জীবন্ত হয়ে যায়। আপনি বিশ্বাস করবেন না,কিন্তু সত্যি বলছি আপু। এই চোখগুলো আমাকে টেনে চোখের ভেতরে নিয়ে যায়। তখন আমার ভেতরের আমিটাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যায়। আমি তখন আর আমি থাকিনা।আমার তখন দুইটা অস্তিত্ব হয়ে যায়।

আমি অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে জেনির দিকে তাকালাম। জেনি বললো, আপু আমি আপনাকে সব খুলে বলছি,তাহলেই আপনি সবকিছু বুঝতে পারবেন।
তারপর অনুমতির তোয়াক্কা না করে মেয়েটা আপন মনে বলতে লাগলো তার অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতার কথা।

জেনির কথা

——–প্রথম যেদিন এই বাসাটাতে এলাম আমার খুব ভালো লাগলো। এত সুন্দর বাসা আর ভাড়া এতো কম! আমি খুব মন দিয়ে বাসাটা সাজিয়ে তুলতে লাগলাম। পরীক্ষা শেষ। তাই ফুরফুরে মন আমার। শাশুড়ী ইদানীং ইনিয়েবিনিয়ে তার বংশধর চাচ্ছে। আমিও তাই চাচ্ছি। আপনার বাচ্চাদের দেখলেই মনে হয় আমারও এমন কয়েকটা বাচ্চা আমার দরকার।

এখানে আসার প্রথম সাত-আট দিন খুব ভালো ছিলাম। তারপরে একদিন ঘটলো একটা ঘটনা। ঐদিন আমি বিকালে ঘুমিয়েছিলাম তাই রাতে ঘুম আসছিলো না। আমার বর পাশেই বেঘোরে ঘুমাচ্ছেন। হঠাৎই খেয়াল করলাম ঘরের দেয়ালের বিভিন্ন জায়গায় শুধু চোখ আঁকা।
আমি বুঝতে পারলাম না,কে এমন করে পুরো ঘর এঁকে নষ্ট করেছে। ঘড়িটার নীচে হঠাৎ চোখ গেলো। সেখানে একটা মুখের অবয়ব ফুটে উঠেছে। আমি প্রচণ্ড বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে আছি ছবিটার চোখের দিকে। হঠাৎ আমার কি হলো জানিনা, আমি উঠে বসলাম। এগিয়ে গেলাম চোখগুলোর দিকে। তারপর চোখগুলো আমাকে টেনে ভেতরে নিয়ে গেলো। আমার শরীরটা বিছানায় শুয়ে আছে আর আমি মূহুর্তেই চলে গেলাম বাসার বাইরে। আশ্চর্যের কথা আমি ভয় পেলাম না। আমি রাস্তায় হাঁটছি। এই প্রথম আমি একা একা এমন করে মাঝ রাতে বাইরে এলাম। কয়েকটা কুকুরকে দেখতে পেলাম। ওদের ভাষা আমি বুঝতে পারছি। “ওরা বলছে দেখ! দেখ! আপা চলে এসেছে আর লোকটার কোন ভয় নেই।” বলেই ওরা আমাকে নিয়ে চললো, শহরের একটা নির্জণ গলিতে। সেখানে কয়েকটা লোক একটা লোককে জোর করে ধরে নিয়ে যাচ্ছে কোথাও। আমি বুঝতে পারলাম ওরা লোকটাকে হত্যা করতে নিয়ে যাচ্ছে। লোকটার পকেটে অনেকগুলো টাকা। আমি চলেগেলাম দুষ্ট লোকগুলোর সামনে। লোকগুলো যেন ভূত দেখলো! তারা আমার মাঝে কি দেখলো কে জানে প্রাণ নিয়ে যে যেদিকে পারছে ছুটে পালালো। আমি বুঝতে পারলাম না ওরা কি দেখে এমন ভয় পেয়ে পালিয়ে গেলো। কিন্তু যে লোকটাকে ওরা নিয়ে যাচ্ছিলো সে লোকটা আমাকে দেখেনি।

আমি বাসায় চলে এলাম। আমি আবার আমার মাঝে বিলিন হয়ে ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে উঠে দেখি ঘরের দেয়ালে কোন আঁকা ছবি নেই।শুধু ঘড়িটার নিচে অস্পষ্ট একজোড়া চোখ। আমি একটা মজার স্বপ্ন দেখেছি ভেবে বেশ মজা পেলাম।

তারপর কয়েকদিন চলে গেলো। ইদানীং আমার বরের খুব মন মেজাজ খারাপ। কিছু জিজ্ঞেস করলে রাগ করে ফেলে। বলে ব্যাবসা করতে হলে কত ধরনের ঝামেলা হয় এত কিছু শুনতে চেওনা। শুধু দোয়া করো যেন মান ইজ্জত নিয়ে মরতে পারি। ওর হেয়ালি কথাবার্তার কোন মোটিভ না পেয়ে চুপ থাকলাম। কিন্তু তখনই আবার এলো একটা রহস্যময় রাত। সে রাতে আমার বর তার ব্যাবসায়িক কাজে বাইরে গেছেন। আবার আগের মতই ঘরের চেহারা পাল্টে গেলো। আমি আবার দেয়ালে আঁকা চোখের ভেতরে হারাতে লাগলাম। আমি খুব মজা পেয়ে বিভিন্ন মানুষের ঘরে উঁকি দিতে লাগলাম। আপনার বাসায়ও উঁকি দিলাম। আমি বাতাসেই হাঁটতে পারছি। সামনের বিল্ডিংয়ের একটা ফ্ল্যাট থেকে একটা চিৎকারের আওয়াজ এলো। আমি ঐ বাসায় গিয়ে দেখি বাসার কাজের মেয়েটাকে বাসার ভেতরে গৃহস্বামী রেপ করেছে। আর সে লোকটার স্ত্রী তার স্বামীকে কোন কিছু না বলে মেয়েটাকে কুৎসিত গালি দিচ্ছে আর লাঠি দিয়ে মারছে।
আমার খুব রাগ হলো, আমি ওদের ঘরে ঢুকে গেলাম। লোকটা কাচুমাচু হয়ে বসে আছে। হঠাৎ ওরা দুজন আমাকে দেখে ফেললো। লোকটা ভয়ে জ্ঞান হারালো আর মহিলাটাও গগনবিদারী চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারালো।

আমি বাসায় চলে এলাম। আগের মতই আমার শরীরের মাঝে আমি বিলীন হয়ে গেলাম। পরদিন বিষয়টি আমাকে ভাবালো অনেক। দিনের আলোয় আমি ঐ বাসাটার কাছে গেলাম। গিয়ে দেখি পুলিশের গাড়ি। মহিলা আর লোকটাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। কাজের মেয়েটাকেও দেখলাম নিয়ে যাচ্ছে। ওখনে গিয়ে যা শুনলাম তা শুনে আমি হতভম্ব! লোকটাকে রেপ কেসে আর মহিলাকে গৃহকর্মীকে অমানুষিক নির্যাতনের কারনে গ্রেফতার করেছে। বুঝতে পারলাম রাতে যা কিছু দেখেছিলাম তা নিছক স্বপ্ন নয়, এগুলো বাস্তবে ঘটছে। কিন্তু কিভাবে! বুঝতে পারলাম না।

আপু আপনি বিশ্বাস করবেন না আমি মনে হয় পাগল হয়ে যাচ্ছি। গতকাল রাতেও এমন হলো। আপনাকে বলেছিলাম আমার হাসবেন্ড এর ইদানীং খুব মুড খারাপ থাকে। গতকাল রাতেও সে বাসায় আসেনি। ব্যাবসায়িক কাজ ছিলো তার। আমি তাকে ফোন দিলাম রাত এগারোটার সময়। ওর গলা শুনে মনে হলো সে একটু আগে কেঁদেছে। খুব তাড়াতাড়ি ফোনটা রেখে দিলো। আমি খুব মন খারাপ করে ঘুমাতে গেলাম।

ভাবতে লাগলাম ওর কি হলো? গলাটা এমন ভারি শোনা গেলো কেন! ঠিক তখনই কেউ আমাকে জোর করে টেনে দেয়ালের কাছে নিয়ে এলো। আমি এগিয়ে যেতে লাগলাম চোখের গহীন গহ্বরে।এক সময় আমি রাস্তায় চলে এলাম।

আজও কুকুরগুলো ছিলো। ওদের কথা শুনে মনে হলো ওরা যেন আমার আসার অপেক্ষায় ছিলো। ওরা কথা বলছিলো,একটা কুকুর বললো,
১ম কুকুর –আপা এতো আস্তে হাটছে কেন? দেড়ি হলেতো ভাইজানকে বাঁচাতে পারবো না।
২য় কুকুর—- আমরা তুলির আপুর মতো কাউকে মরতে দেবোনা।
তারপর ওরা সমস্বরে বললো না না না

আমি খুব স্বভাবিক ভাবে কুকুরদের সাথে কথা বলছি,যেন কুকুরের ভাষাতেই আমি কথা বলি।
এই বিষয়টা আমার কাছে মোটেও অস্বাভাবিক লাগছে না। ওদের সাথে কথা বলে বুঝতে পারলাম আমার হাসবেন্ড এখন বিরাট বিপদে আছে। তার গার্মেন্টস ব্যাবসা। রেজা মানে আমার হাসবেন্ড সহ তিনজন পার্টনার । দুজন পার্টনার তাকে একদিন এক গোপন মিটিং এর কথা বলে এক জায়গায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরজবরদস্তি করে একটা খারাপ মেয়ের সাথে নেকেড ছবি তুলতে বাধ্য করে। এই ছবিগুলো অনলাইনে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে তাকে রেগুলার ব্ল্যাকমেইল করছে। তার ব্যাংকের সকল টাকা নিয়ে গেছে ওরা।আজ ব্যাবসার অংশটা লিখে নিয়ে তাকে মেরে ফেলবে। স্বাভাবিক ভাবে এগুলো শুনতে শুনতে
এক সময় আমরা পৌছে গেলাম একটা বিল্ডিংয়ের ছাদে। আমি দেখলাম রেজাকে ওরা একটা চেয়ারে বেঁধে রেখেছে। সামনে একটা টেবিল। টেবিলের উপরে দলিলগুলো রাখা।
পাশেই একটা কাগজে লেখা,
এই পৃথিবীতে আমি আর বেঁচে কি করবো। সব কিছু শেষ। আমি হেরে গেলাম। তাই চলে যাচ্ছি।
আমাকে ক্ষমা করে দিও।

হঠাৎ দেখলাম তার পার্টনার দুজন এগিয়ে এলো। তারা দলিলে হাত দিতেই আমাকে দেখতে পেলো। কি দেখলো আমি জানি না। একজন গো গো শব্দ করে মাটিতে লুটিয়ে পরলো। আরেকজন কোন এক ইশারায় সুইসাইড নোটটা হাতে নিয়ে ছাদ থেকে লাফিয়ে পরলো। অলৌকিক ভাবে রেজার বাঁধন খুলে গেলো। তারপর রেজা সম্মোহিতের মতো থানায় চলে গেলো।

তারপর আমি বাসায় এলাম। এসে দেখি আমি মাটিতে পরে আছি আর আমার শাশুড়ী কাঁদতে কাঁদতে হয়রান। আমার হাতে পায়ে তেল মালিশ করছে। আমি আবার আমার মাঝে বিলীন হলাম। আমি উঠে বসলাম। আমার শাশুড়ী অবাক হয়ে আমাকে দেখছে। সকাল হতেই পুলিশ রেজাকে বাসায় দিয়ে গেলো। তার পার্টনার সকল অপরাধ স্বীকার করলো। তারা বললো,রাতে নাকি ভয়াবহ এক প্রাণী তাদের সামনে আসে। প্রানীটার একটা মুখ মানুষের আর দুইটা মুখ কুকুরের। প্রাণীটা তাদের একজনকে ছাদ থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।
প্রাণীটা নাকি তাকে ও বলছিলো যদি পুলিশকে সত্যি কথা না বলে তাহলে তাকে খেয়ে ফেলবে।।

এইটুকু বলেই জেনি থামলো। আকুল হয়ে সে বললো,

— আপু আমি কি পাগল হয়ে গেলাম।

—-আমি সবকিছু শোনে বোবা হয়ে গেলাম। আমি জানি তুলি রাস্তার কুকুরদের খুব ভালোবাসতো, তাদের খাবার দিত। তার সাথে দেখা হলেই রাস্তার সব কুকুর দৌড়ে কাছে চলে আসতো। তাই বললাম, তুলি সুইসাইড না করলে বুঝা যেতো বিষয়টা কি, এই সব কি হচ্ছে? কেন সকল ভাড়াটিয়া চলে যায়।

জেনি আমাকে অবাক করে বললো,
— আপু তুলি মারা যায়নি,ওকে মেরে ফেলা হয়েছে।
আমি অবাক হয়ে জেনির মুখের দিকে তাকালাম। এ কি বলছে মেয়েটা? জেনি কি সত্যিই পাগল হয়ে গেলো?
আপু আমি জানি আপনি বিশ্বাস করবেন না। কিন্তু এটাই সত্যি তুলিকে মেরে ফেলা হয়েছে।
আমি আপনাকে এটা বলিনি, আমি চোখের ভেতরে গিয়ে দেখেছি,আবার কুকুরগুলো ও বলেছে,
–তুলির বাচ্চা হয়না দেখে ওর শাশুড়ী খুব বিরক্ত ছিলো ওর উপর। একদিন তুলি রাতে ঘুম থেকে উঠে দেখলো তার হাসবেন্ড তার খালাতো ননদের ঘরে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত । তুলি চিৎকার করতেই তাকে তার শাশুড়ী বললো সব মিথ্যা, চোখের ভুল।
এরপর প্রতিদিন একই ঘটনা ঘটে আর ওরা বলে তুলি পাগল হয়ে গেছে।উল্টাপাল্টা দেখছে। ওকে ভুল অষুধ দিয়ে আরও পাগল করা হয়। তারপর একদিন অনেকগুলো ঘুমের টেবলেট একসাথে জোরকরে তুলিকে খাইয়ে দেয় তিনজনে মিলে। তারপর,,,

সবকিছু শুনে আমি কেমন বোকা হয়ে রইলাম। শুধু বললাম,
—জেনি তোমরা এই বাসাটা ছেড়ে দাও। আমার কেনজানি ভালোলাগছে না।
জেদের সাথে জেনি বললো,
—-না আপু, আমি তুলির হত্যাকারিদের বিচার দেখতে চাই। হয়তো এই কারনেই তুলির আত্মা এখনো রহস্যময় চোখে রয়ে গেছে। আমি কালই পুলিশের কাছে যাবো। একটা নিরিহ মেয়ের হত্যার বিচার যে এখনো বাকি রয়ে গেলো আপু।

(রহস্য গল্প)

লেখকঃ কবি ও সাহিত্যিক

আরও পড়ুন