মহীয়সীর কলাম

চিরায়ত আবেগ

নুরে আলম মুকতা
“ওগো কমলিকা
তুমি বুঝলেনা আমি কত অসহায়,
তোমার ভুবনে ফুলের মেলা
আমি কাঁদি সাহারায়…. “
আমাদের বাংলা ভাষা সাহিত্যে প্রানের আবেগের যে অপ্রতিরোধ্য গতিবেগ আর প্রকাশ তা পৃথিবীর আর কোন ভাষায় আছে কিনা আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কারন হিসেবে আমরা প্রথমেই আমাদের প্রাণপ্রিয় বদ্বীপের অবস্থান আর জলবায়ুর বিষয়ে আলোচনা করতে পারি। অতীত ইতিহাস ঘেটে দেখা গিয়েছে বঙ্গোগসাগর আর গাঙ্গেয় অববাহিকায় সুপেয় জলাধারের ধারে ধারে প্রাণের উন্মেষ ঘটেছে। কিন্তু এখানে জীবন কখনোই কঠিন হয়ে যায়নি। মনুষ্য সৃষ্টি কঠিন ঘুর্নাবর্তে জীবন অতিবাহিত হয়েছে কিন্তু প্রকৃতি আমাদের উজাড় করে দিয়েছে অকৃপণ হাতে। এজন্য আমার বাংলার জীবনে কাব্য আর মহাকাব্যের জন্ম হয়েছে। কবি মহাকবিদের নাম উল্লেখ করলে এখানে শুধু তালিকা দীর্ঘতর হবে। আলোচনার ইতি টানা যাবে না। আজ আমরা কাব্য আর গানের বিষয়ে আমাদের বাংলা ভাষায় নর-নারীর আবেগ সামান্য আলোকপাত করার চেষ্টা করি। কবিতা সাহিত্যের আদিম রূপ এ বিষয়ে প্রায় সকল মনিষী একমত হয়েছেন। কিন্তু প্রথম যে সাহিত্যের প্রমানটুকু পাওয়া গিয়েছে তা কিন্তু একদম ছোট গল্পের। প্রাচীন মিশরে প্যাপিরাস পাতার ওপরে একটি ছোট্ট গল্পের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। ওটার নাম বিশেষজ্ঞ গন দিয়েছেন, পাপা আর অনপুর গল্প। কারা লিখেছিলেন প্রমাণ মেলেনি। সে যাই হোক। আমরা কাব্য যখন করি তখন কিন্তু এটি পৌঁছাতে পারে সীমিত পরিসরে। কিন্তু সঙ্গীত বা গানের বিষয়টি একদম আলাদা। গান বিশাল এক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে যায়। মরমে বিদ্ধ করে। আকুল হয় প্রাণ। শিরোনামের গানটি বাংলা ভাষার একদম আধুনিক ঘরানার গান। পুলক বন্দোপাধ্যায় এর লেখা। রবীন্দ্রনাথ আর নজরুল তো হিমালয়। তাতে আরোহন করার দুঃসাহস আজ দেখাচ্ছি না। সময় বুঝে চেষ্টা করা যেতে পারে। নর-নারীর চিরন্তন আবেগ বাংলা গানে যেভাবে প্রকৃষ্ট হয়েছে তা সার্বজনীন। প্রাকৃতিক আর সুন্দর। এখানে সাম্য বা সমান প্রানের হাহাকার চিত্রায়িত হয়েছে। নারী কিংবা নর কারো ক্ষেত্রে অবিচার করা হয়নি। এখানে আরো একটি বিষয় দেখার মতো নারীর আবেগটি বেশি প্রকাশিত হয়েছে বার বার। কিন্তু শালীনতার সাথে। আমরা বিস্ময়াভিভূত হয়ে যাই যখন শুনি ” প্রান সখীরে ঐ শোন কদম্ব তলে বংশী বাজায় কে ” কিংবা “বনমালি তুমি পরজনমে হইও রাধা।” এবার উল্টোদিকে যাই, সুন্দরী গো দোহাই দোহাই মান কোরো না কিংবা জগন্ময় মিত্রের, “তুমি আজ কতদূরে?  আহা এত আবেগ আর হৃদয় মথিত সুরের ধারা পৃথিবীর আর কোথাও নেই। একটি বিষয়ে আমরা সকলকে অনুরোধ করবো কোন বিশেষ লিঙ্গের প্রতি এখানে বৈষম্য বা অবিচার করা হয়নি। আমাদের সামাজিক আর আর্থিক কাঠামোতে বৈষম্য যায় না। আবহমান কাল ধরে চলে আসা আমাদের কৃষ্টি আর কালচারে বৈষম্য ছিলো না। আবেগ আসে তো পারিপার্শ্বিক অবস্থা থেকে। সামগ্রিক পরিবেশ আবেগ নিয়ন্ত্রন করে। আমরা গর্ব করতে পারি আমাদের সাহিত্য নিয়ে, গান নিয়ে, আমাদের পূত পবিত্র আবেগ নিয়ে। ড.আবু হেনা মোস্তফা কামাল এজন্য তৈরি করতে পেরেছেন কালজয়ী গান, “তুমি যে আমার কবিতা,
আমারো বাঁশীর রাগিণী
আমারো স্বপন
আধো জাগরণ
চিরদিন তোমারে চিনি। “
১১.১১.২০২০

 

নুরে আলম মুকতা,কবি,সাহিত্যিক ও সহ-সম্পাদক,মহীয়সী

আরও পড়ুন