#মহীয়সী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বয়ান#

 

মহীয়সী’র সাত বছর পূর্তিতে
সম্মানীত এ্যাডমিন প্যানেলের পক্ষ থেকে নিবেদনঃ

আমরা লেখালেখি কেন করি? এটি করে কি লাভ? এ দুটো প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমি হয়রান হয়ে গিয়েছি। সদূত্তর পাইনি। কেউ পেয়েছেন কিনা, আমার জানা নেই। এটি হতে পারে আমার সীমাবদ্ধতা। আমার সীমার মধ্যেই তো আমার বসবাস। বাবা বলেছিলেন, তোমার পৃথিবী তোমার গন্ডিটুকু। এর বাইরের বিষয়-আশয় গুলো তোমার পৃথিবী নয়। তোমার জানার রাজ্যটুকু তোমার। তুমি যদি এটি প্রসারিত করতে চাও তবে জানা দিয়ে এটিতে বিস্তৃত করতে পারবে। যতদূর বিস্তৃত হবে তার তুমি সম্রাট। তোমাকে এর বাইরে বের করা যাবে না। বাবার কথাগুলো প্রায়ই কানে বাজে। আমরা এক অস্থির সময়ের মধ্যে পতিত হয়েছি। অস্বাভাবিক যখন স্বাভাবিক আচরণে দৃশ্যমান তখন কিন্তু সুকুমার বৃত্তিগুলো চুপসে যায়। সৃজনশীল বিষয়গুলো যা সমাজ আর রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য তাকে আমরা সুকুমারবৃত্তি বা সুকোমল সুন্দর কর্মতৎপরতা হিসেবে গন্য করতে পারি। আমাদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সততা আর নিষ্ঠার অভ্যাস গড়ে তোলা। এ দুটি যদি হুমকির মুখে পড়ে তবে সমাজ বাঁচানো মুশকিল হয়ে যায়।
আমি আমার ঔরষজাত সন্তানকে যখন বলি যে,তোমার মাকে নিয়ে তুমি এখন বাইরে ভ্রমন করতে পারবে না বাবা। তখন ও আমার দিকে বিস্ফারিত নেত্রে তাকায় ! ও জানে ওর শরীরে এখন তেজ আছে। ওতো ওর মাকে নিয়ে যাবে। তবে সমস্যাটি কোথায়? ও জানে না ওর একক শক্তি সমষ্টিগত পাশবিকতার কাছে হেরে যাবে। আমি যদি ওর প্রেমিকার কথা বলতাম তবে কি ও এরকম আচরণ করতো ! আমাদের সুবিধা গুলো হলো আমাদের অতীত ইতিহাস। যারা সমাজের নিয়ামক শক্তি তারা মহৎ আন্দোলনগুলোর রূপকার ছিলেন। এরা সবাই যুবক বয়সী। সমাজ পরিচালনায় যুবক না থাকলে সমাজ এগিয়ে নেয়া যায় না। ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বয়সের যোদ্ধারাই তো রচনা করেছে। জবুথবু চিন্তা আর শারিরীক শক্তি কতদূর এগোতে পারে? লেখালেখি দিয়ে কিছু না হলেও দায়মুক্তি অর্জন করা যায়। ২০১৪ সাল থেকে ২০২০ পর্যন্ত সাত বছর ভিজ্যুয়াল একটি জগৎ ধরে রাখা সত্যিই বিস্ময়ের। মহীয়সীর চলার পথ মসৃন ছিলো না। ফেসবুকের কল্যানে যত্রতত্র গ্রুপ করে লেখালেখি চালানো যেতে পারে। কিন্তু এর সমঝদার প্রায়োগিক বিষয়টি দেখার বিষয়। লিখতে লিখতে লেখক হওয়া যায় না। রসদ সমৃদ্ধ না হলে তো বিপদ। বেশি দিন তিষ্টানো যাবে না। এজন্য জানার জগৎ সমৃদ্ধ হওয়া চাই। এখানে ডিম আগে না মুরগী বিষয়টি তুলে কেউ বলতে পারেন, আগে বাবা না মা। আমরা বলি বাবা তো শক্তিশালী তাই দূর্বলতম সুন্দরী শক্তিশালী মাকে আমরা পরিচর্যা করি। মা না বাঁচলে আমার স্ত্রী, প্রেমিকা, সন্তান-সন্ততি নেই। তখন আমার ঘোর অন্ধকার চারিদিকে। আমি কাকে নিয়ে ফুল পাখি আর নদীর কাব্য করবো। মহীয়সীর সপ্তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আজ। আমাদের আশাবাদি শ্লোগান মায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক, মা আমার মহীয়সীর আসনে অধিষ্ঠিত হোক। আমরা ফুল পাখী আর নদীর কাব্য নিবেদন করি মায়ের চরন তলে। আসুন , মহীয়সী আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। আপনি যদি সুস্থ মানসিক বিকাশ আর চর্চার জন্য আকুল হয়ে থাকেন তবে আমরা আপনার পাশে আছি। শালীন শব্দ দিয়ে লড়াই করি। কাউকে আঘাত করে নয়। ধন্যবাদ।

০৭.১০.২০২০ খৃঃ

লেখকঃ নুরে আলম মুক্তা, কবি ও সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন