মুভি রিভিউঃ রোমান্টিক সিনেমা কাঠবিড়ালি

মাসুদুল হাসান রনি

হোম কোয়ারান্টাইনে থাকার একটা সুবিধাই হলো। ঘরে বসে আয়েশ করে নিয়মিত সিনেমা দেখছি। কিছুদিন আগে দেখা হল কাঠবিড়ালি। আমি সিনে সমালোচক নই। কিন্ত সিনেমা দেখা শেষে আমি নিজের ভাল লাগা, মন্দলাগা প্রতিক্রিয়া লিখি।যা একান্তই নিজের অনুভুতি। এ সিনেমা দেখার আগ্রহ ছিল অনেক কারনেই। প্রথমত আমার অতি আদরের প্রিয়জন, ভাগ্নি অর্চিতা স্পর্শিয়ার কারনে। দ্বিতীয়ত অটোয়া প্রবাসী আমার বন্ধু সুমিত উস্কে দিয়েছিল সিনেমাটি দেখার জন্য।

যাহোক কাঠবিড়ালি নিয়ে দু’চারটা কথা বলি। এটি একটি রোমান্টিক সিনেমা। এর কাহিনী ও পরিচালনা করেছেন নিয়ামুল হাসান মুক্তা। তার প্রথম চলচ্চিত্র।তাই দেখতে বসে প্রত্যাশা বেশী ছিল না। একঘন্টা একান্ন মিনিটের গ্রাম বাংলার নিটোল প্রেমের সিনেমা। কিছু অংশ জুড়ে রয়েছে থ্রিল।

কাহিনীর শুরুতেই দর্শক জেনে যায় গ্রামের চেয়ারম্যানের ছেলের প্রেমের অবৈধ সম্পর্ক, গর্ভে সন্তান আসার সংবাদ ফাঁস হয়ে যাওয়ায় প্রেমিকাকে খুন করে। বাবার অগাধ টাকা ও ক্ষমতার দম্ভে ছাড়া পেয়ে যায় চেয়ারম্যানের ছেলে। সিনেমার শেষার্ধেও আরেকটি খুন হতে রেহাই পেয়ে যায় শুধু ক্ষমতার কারনে।কিন্তু গ্রাম্য কিশোরী কাজলকে পেতে বিদেশ থেকে ফিরে আবার মরিয়া হয়ে উঠে এবং স্বপ্ন দেখে জীবন গুছিয়ে সংসারী হবার। কুকুরের লেজ সোজা হয় না যেমন, তেমনি তার চরিত্র ঠিক হয় না। ফলে তার হাতে খুন হয়ে যাওয়ার অভিযোগে দু’টো মেয়েই ছিল অন্তঃসত্ত্বা। যদিও শেষেরটি সে করেনি। ঘটনাচক্রে পরকীয়া জড়িয়ে কাজলও খুন হয়ে যায়। নাকি আত্মহত্যা করে ? নাকি খুন করে আজগর , নাকি আনিস? এ রহস্যের উন্মোচনের জন্যে হলেও দেখতে হবে কাঠবিড়ালি।

কাঠবিড়ালীর কাহিনী আমাদের চেনাজানা সমাজের চিত্র।যেখানে দাম্পত্য জীবনে যৌনতার ক্ষুধা না মিটলেও একপক্ষকে সারাজীবন মুখ বুঁজে অতৃপ্তির হাহাকার নিয়ে সংসার করতে হয়। এই অতৃপ্তির কোন এক ফাঁকে অনুপ্রবেশ ঘটে কাঠবিড়ালির! জড়িয়ে যায় পরকীয়া প্রেমে। মোটা দাগে সিনেমার কাহিনীটা এরকমই। তবে বিরতির ঠিক আগে আসে কাহিনীতে টুইস্ট, অনেকক্ষণ ধীরগতিতে চলতে থাকা গল্পে হঠাৎ করেই যেন মোড় ঘুরে যায় ! এরপর একটু মাঝারি বেগে গল্পের গতিবিধি পরিবর্তন হয়ে গতি পায়। সেইসাথে চরিত্রগুলোরও রঙ বদলে যায়। রোমান্টিক গল্পের মধ্যে ধীরে ধীরে রহস্য প্রবেশ করে। মাঝেমধ্যে উঁকি দেয় একাধিক দারুণ টুইস্ট ! এ সিনেমায় মন ভালো করে দেওয়ার মতো দারুণ কিছু সংলাপ খুজেঁ পাওয়া যায়। যা একজন দর্শককে কিছুটা হলেও চিন্তার খোরাক জোগাবে, ভাবাবে।

এবার আসি অভিনয় প্রসংগে। অর্চিতা স্পর্শিয়া, শিল্পী সরকার অপু ছাড়া অন্যরা তেমন কেউ পরিচিত মুখ নয়। কিন্তু আবির, শাওন নতুন মুখ হিসেবে ভাল অভিনয় করেছেন। কাজল চরিত্রে স্পর্শিয়া চমৎকার অভিনয় করেছেন। তার মধ্যে গ্রাম্য কিশোরীর মায়া, কোমল, সহজ সরলতা যেমন ছিল আবার তেমনই তেজীস্বনিভাব ও দ্রোহ ছিল। শেষ পর্যন্ত এ দ্রোহই তার মৃত্যুর কারন হয়ে উঠে।

এই সিনেমার লোকেশান, দৃশ্যায়ন গ্রহন ভাল লেগেছে। ক্যামেরার কাজ, লংশটগুলো চমৎকার। কিন্তু সিনেমার শুরুর শট কিছুটা ঝাপসা বা আউট অফ ফোকাস ছিল।আরো দু’একটি সিকোয়েন্সের শটও এরকম থাকায় কারিগরি মান নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে পরিচালকের কাছে আরো একটু যত্ন আশা করা কি ভুল! এছাড়া বিভিন্ন সিকোয়েন্সে একইরকমের ফ্রেমের বারবার ব্যবহার দৃষ্টিকটু লেগেছে বৈকি।

” আমার উথালি পাথালি মন, তোমারে দেখিবো আমি কিংবা সুন্দর কইন্ন্যা” গানগুলো অনেকদিন মনে থাকবে। আবহ সংগীত যথাযথই মনে হয়েছে। প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অর্চিতা স্পর্শিয়া ও আসাদুজ্জামান আবীর। এছাড়া অভিনয় করেছেন সাঈদ জামান, শাহরিয়ার ফেরদৌস, শিল্পী সরকার অপু, হিন্দোল রায়, এ কে আজাদ, তানজিনা রহমান।

শেষ কথা বলবো,ভাল লাগার মতন একটি সিনেমা কাঠবিড়ালি ।

লেখকঃ জাতীয় পত্রিকার মুভি রিভিউ লেখক ও প্রবাসী বাংলাদেশী, কানাডা

আরও পড়ুন