Ads

##ম গল্প#

সৃষ্টির গল্প

– নুরে আলম মুকতা

তোমার জন্য দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে গেলাম। এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা যায়? রাস্তায় বেরোলে তো আর হুশ থাকে না। একজন পরিচিত লোক পেলেই হল। এত কথা কোথা থেকে আসে বল ত? আমার সাথে ত এত গল্প করার সময় পাও না। আজ শুক্রবার।  বলি কি একটি দিন দুপুরে একসাথে বসে দুমুঠো খাওয়া। তাও আবার অপেক্ষা! এতক্ষণ ধরে দরজা রাস্তা করছি, না বাবা সবাই ফিরে এলো।
তোমার ভাই পো ও ত একই মসজিদে গিয়েছিল তাই না?
ও, আজ আবার সবার ছুটি কিনা, এজন্য অবশ্যই কোন বন্ধুর সাথে গল্পে মেতেছিলে, আচ্ছা, বল ত কি এত গল্প থাকে তোমাদের?
আমি সাথে থাকলেও ত দেখি একই রকম। কোন বন্ধু সামনে এলেই হল। তখন ত আর আমার দিকেও তাকাও না। আমি খেয়াল করেছি নিজের স্ত্রীকেও ভুলে যাও!
ভুলে যাই?
কি সব আবোল তাবোল বকে চলেছ !
তোমাকে ভোলা যায়?
আচ্ছা ভালো যায় না মানলাম। কিন্তু আজ এত দেরি হল কেন বল। জেনে বুঝে এত দেরি করে?
হাঁ জেনেই দেরি হয়ে গিয়েছে।
ত সব কিছু জেনে ইচ্ছে করে এক ঘন্টা !

কি সব আবোল তাবোল বকে চলেছ !
তোমাকে ভোলা যায়?
আচ্ছা ভালো যায় না মানলাম। কিন্তু আজ এত দেরি হল কেন বল। জেনে বুঝে এত দেরি করে?
হাঁ জেনেই দেরি হয়ে গিয়েছে।
ত সব কিছু জেনে ইচ্ছে করে এক ঘন্টা !

শুক্রবারের জন্য আমি সকালে ঠিকমত নাস্তাও করি নি। পেটের ভেতর কেমন মোঁচড় দিয়ে উঠছে।
আমি ক্ষুধায় এতক্ষণ বকেই যাচ্ছি —
হাঁ, তুমি আসলে ক্ষুধাতেই বকছ
ক্ষুধাই তোমাকে বকাচ্ছে ,
এখন ত আবার ওয়াশ রুমে ঢুকলে পনের মিনিট!
না অত দেরি হবে না,
তুমি বরং রেডি কর। আমি দ্রুত পাঞ্জাবি খুলে আসছি ।
দেখ আমি জানি তোমার অপেক্ষার বাঁধ ভেঙ্গে গিয়েছে । কিন্তু আমি নিরুপায়। আমার কিছুই করার ছিল না ।
আমি একধাপও সামনে এগোতে পারি নি,
আমি জানি সামনে তুমি দাঁড়িয়ে। তারপরও এগোতে পারছিলাম না।
মসজিদ থেকে বেরোনোর পর দেখি স্বয়ং সৃষ্টি কর্তা !
কার আর সাধ্য আছে ওখান থেকে নড়ার?
হাঁ নড়ে হয়ত কেউ ! কোন সাহসে নড়ে আমার জানা নেই ।
কত বড় বুকের পাটা থাকলে ওখান থেকে চলে যাওয়া যায় আমি ভাবতে পারি না!
কী সব পাগলের প্রলাপ বকে চলেছ বল তো ?
টেবিলে সব প্রস্তুত। এসো না হয় আমি শুরু করলাম।
কর,
আমি আসছি।
নামাজ শেষ হলে সবাই চলে যায়। আজ অনেকে যায় নি। আমি সামান্য দেরি করে মসজিদ থেকে বেরিয়েছিলাম। কিন্তু আর নড়তে পারি নি।
স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা?
কি বকছ! আসলেই কি তোমার মাথা ঠিক কাজ করছে?
আমি ঠিক আছি। শান্ত, স্থির, কারও বিনা প্ররোচনায় কথা বলছি। স্বয়ং সৃষ্টি কর্তার নির্দেশে বলছি ,
তোমাকে আর কথা বলতে হবে না।
খানার টেবিলের কাছে এলে বুঝব তুমি ঠিক আছ।
তাই হবে,
আমি মসজিদ থেকে বেরিয়ে দেখি স্বয়ং সৃষ্টি কর্তা  অসংখ্য মানুষের মাঝে বসে আছেন!
কে এমন শক্তিশালী আছে যে তাঁকে ডিঙাতে পারে ?
একজন মৃতের সৎকার হবে বলে খাঁটিয়া সামনে রাখা হয়েছে।
কিছুক্ষণের মধ্যে জানাজা শুরু হবে ।

১৫.১০.২০২১

লেখকঃ সাহিত্যিক,শিক্ষক ও সহ-সম্পাদক,মহিয়সী।

আরও পড়ুন