রাত্রি নামে অমাবস্যা ‘পর্ব-৫ (একটি মুক্তিযুদ্ধের গল্প)

হাসিনা সাঈদ

“প্রিয়তমেষু/সুরঞ্জনা’
-জানিনা এ আমার স্পর্ধা না একান্ত অপারগতা? তবু  বলবো আমি যে মায়ায় পড়েছি ঐ নীলিমার জলে আঁকা কাজল নয়নপানে,আর অদ্ভুত জাদুমাখা হাসির দস্যিপনায়!কখনোবা রিনিকঝিনিক কনক কাঁকনের ছন্দে?কবির ভাষায় শখি ভালোবাসা কারে কয়,একি শুধু যাতনাময়?সত্যি কি তাই?এ যাতনা আমার হৃদয়ে অদ্ভুত ভালোলাগার স্ফুরণ। আমি তা স্বাচ্ছন্দ্যে জানাতে চাই।একটিবার কি দেখা হতে পারে আপনার সাথে?উত্তর জানালে স্থান,কাল সময় অবশ্যই জানাবো।
চিঠির অপেক্ষমান বন্ধু

চিঠিটি পড়ার পড় স্পন্দন বেড়ে গেল বহুগুনে রাত্রির।
দুরুদুরু বুকে আরও একবার পড়ে চিঠিটা রাত্রি।
চিঠির কি জবাব দিবে?দিবে নাকি দিবে না,ভাবনা আর বিহ্বলতায় ছেঁয়ে যায়।চিঠির কোথাও রাত্রির নাম ও রাশেদের নিজের নাম লেখা নেই।কারনটা তাকে আরও একবার ভাবায়।চিঠির জবাব কি লেখা উচিত কি করবে রাত্রি ভেবে পায় না আর…।

রাশেদকে চিঠির উত্তর কিভাবে দিবে?বা কিসের মাধ্যমে রাত্রি যখন ভাবছিল একথা তখন সীমান্ত আসল তার সন্নিকটে।
তার হাতে জীবনানন্দ দাসের কবিতার বই।
-কি এটা?
-বই তোমার জন্য
-আমার জন্যে?
-হ্যা রাশেদ স্যার বলছিলেন যদি তুমি পড়ো আর পড়া শেষ হলেই দিয়ে দিতে।
-কখন দিলো?
-এইতো আজ।
-ঠিক আছে।
বইটা খোলে রাত্রি।

“সুরঞ্জনা’
-চিঠির জবাবটা এর ভিতর জানিয়ে দিতে পারেন।
অপেক্ষমান বন্ধু
আর একটা চিরকুট পেয়েই মুখে যেন আবারও বাঁকা চাঁদের হাসিতে স্মাত হয় রাত্রি।

সীমান্তের কাছ থেকে কবিতার বইটা ফেরত নেয় রাশেদ।
-পড়া হয়ে গেছে তোমার বুবুর?
-জ্বী স্যার
সীমান্তের চোখের আড়ালে বইটা ফাঁকা করে দেখে নেয় কিছু দেখার আশায় রাশেদ।
সীমান্তকে পড়ানো শেষ করে,এরপর হলে আসে রাশেদ বইটা যেন নিজের সাথেই রাখতে চায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হলে নিজ ঠিকানায় ফিরে বইটা থেকে কাক্ষিত জিনিসটা বের করে এবার।

-সালাম নিবেন।শুরুতেই বলি আপনাকে কি ডাকবো অপেক্ষমান বন্ধু না চিঠি প্রেরক?যাই হোক,আমি এই ঢাকা নামক বিশাল শহরে নতুন। কখনো একা বের হই নি এমনকি বাড়িতেও একা খুব কম বের হয়েছি।চেনা নেই,জানা নেই কোথায় দেখা করবো?আর যদিবা তা করি,মামা,মামি আমাকে খারাপ জানবেন।
আচ্ছা আর একটা কথা নিজের নাম না লেখার কি কারন?নাকি ধরা পড়ার ভয়…তাহলে স্পর্ধা হলো কেমন করে?আমার নাম রাত্রি কি সুবিধের নয়?সুরঞ্জনা/প্রিয়তমেষু তবে কারে কয়?
চিঠিটি এক নিঃশ্বাসে পড়ে রাশেদ।এত বেশী মুগ্ধ যেন কোনো কথা নেই আর অবশিষ্ট।
গোটা গোটা হরফে কতনা স্নিগ্ধতার ছোঁয়া সুন্দর হাতের সে লেখায়?তার ওপর বাংলা সাহিত্যে রাত্রির দখল আছে মনে হলো রাশেদের।
আর কোনো কিছু না ভেবেই কাগজ কলম হাতে নেয়  সেই চিঠির প্রাপক।
জবাব লিখতে বসে যায় ফের….।(চলবে)

হাসিনা সাঈদ সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন