একটি যুদ্ধ অন্যটি মেয়ে

 

আমার এক পাশে যুদ্ধ আর এক পাশে মা,
কোনটা বেছে নেবো আমি?
মা বলে আমি তো যুদ্ধ চাই যুদ্ধ! তোকেও চাই দেশও চাই।
আমি হাসি মুখে তুলে নিলাম অস্ত্র
তখন আকাশে পূর্ণিমা তিথির চাঁদ ছিলোনা
ছিলোনা নক্ষত্রের আনাগোনা
নিকষ কালো অন্ধকার রাত
মাঝে মাঝে কুকুরের আর্তনাদ,
যেন ব্যবচ্ছেদ এক ফাঁদ।
যেতে হবে তাই,
অমিয়, মিজান, শামীম, আরিফ আর আমি,
আর একটু সময়,
আর একবার মাকে দেখে নিয়ে বলি বিদায় তবে, মাগো।
তোর গোয়াল ঘরটা আর ঐ যে গোলা ঘর টা ঘুণে করলো জড় জড়,
তুইতো মা বলে ছিলি খোকা শক্ত করে বাঁধিস এবার ঘর।
এবার তোর ঘর বাঁধার পালা।
তবে এবার বিদায় দেনা মা।
আমার এক পাশে যুদ্ধ আর এক পাশে প্রেম
আমি হাতে তুলে নিলাম অস্ত্র
মেয়েটির এলো চুল পড়নে মলিন বস্ত্র।
আমার পাশে যুদ্ধ, আর আমি তার পাশে,
সরে এসে আরো একটু কাছে,
কাজল কালো চোখে জলে টলোমল্
চোখে জল নিয়ে মেয়েটি তার আঁধো আঁধো
কাপা হাতে হাত দুটি ধরে
বললো ঐ রেল স্টেশনটার পাশে
রেল পথটা পেরিয়ে
প্রতিক্ষায় রবো আমি তোমার ফেরার পথে ।
না জানি কত দিন তুমি ফিরবেনা ঘরে।
ওদের ফিস্ ফিস্ ডাক আসে
যেতে হবে ভেবে তাই সেই দুটি মায়াবী
হাত ,
শিথিল করে, শীর্ণ দেহে স্বকরুণ
চোখে দাঁড়ায়ে রয়েছে। পাশে তার অনিশ্চিত কালো রাত।
কোনো কথা না বলে
শুধু চোখে চোখে জল ফেলে
আরো একটু সময় অনেক হলো বুঝি দেরি, অনেকটা সময় হলো পার
এ ভাবেই বিদায় কাল্ শেষ হলো তার আর আমার।
অচেনা পথ ধরে অজানায় যেতে যেতে
এবার আমি যুদ্ধ পথে
এক দিকে জীবন অন্য দিকে মরন
এখানে ওখানে ওঁৎপেতে
কত হানাদার রাজাকার হায়না
ধ্বংশ করে একাকার
তবেই না যুদ্ধ হবে শেষ
তবেই না মুক্ত আমি মুক্ত আমার দেশ।
আবার আমরা চলতে থাকি কোথা হতে কোন পথে
কোথা হবে হানাদার অবরোধ
ফের আমরা হাঁটি, হেঁটে যাই বহু দূরে অনন্তকাল রাত দিতে হবে পাড়ি।

 

রত্না আফরোজ- কবি ও গল্পকার  

আরও পড়ুন