এ লজ্জা কার

 

আজ আমি স্বাধীন জাতি হিসেবের গর্বিত হতে গিয়ে
লজ্জায় মাথা নত করে চলি।
পাক হানাদারের হাতে মা বোন ইজ্জত হারিয়ে
বীরঙ্গনার দীর্ঘায়ত তালিকা দেখে অশ্রু ঝরাতে গিয়ে,
স্বাধীন মাটিতে ধর্ষিত শিশু কন্যার রক্তাকত্ত দেহ দেখে
ঘৃনা ভরে নিজেকেই ধিক্কার দেই—-

এই কি আমার সেই আকাঙ্খিত স্বাধীনতা
যেখানে ১৯ মাস বয়সের শিশু কন্যাটি ধর্ষকের লোলুপ থাবায়
রক্তাক্ত হয়ে পরে থাকে ডাস্টবিনের পাশে বা কোনো নর্দমায়

৭১ এর ভয়াল দিনগুলোর চারিদিকে অবিরাম গুলি বর্ষণের শব্দ
আর বারুদের ঝাঁজালো গন্ধের ভয়াবহ চিত্রে শিহরিত হতে গিয়ে,
চলন্ত বাসে পেট্রল বোমায় ঝলসানো শরির দেখে
নিজেকে স্বাধীন ভাবতে আমি অসস্হ্যি বোধ করি।

শোষিতের, শাসন, শোষন আর নির্যাতনের হাত থেকে
মা মাটিতে মুক্ত করতে গিয়ে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিল
জীবন বাজি রেখে দিনের পর দিন খালি পেটে আধ পেটে
শুকনা চিড়া মুড়ি আর চাপ কলের পানি খেয়ে বন্দুক হাতে
ছাপ্পান্ন হাজার বর্গ মাইল চোষে বেড়িয়েছে মায়ের মান বাঁচাতে।

সেদিন রক্ত চোষা পাক শকুনের দল মায়ের সম্ভ্রম ছিঁড়ে খেয়েছে
ভয়াবহ দৃশ্যে শকুনের ঝাঁক স্তুুপাকৃত মৃত দেহে ঠোঁট চালিয়েছে,
আজ সেই মাটি কলঙ্কিত করছে মুখোশধারী দুর্নীতিবাজের দল
মুক্তিযোদ্ধার লেবাস গায়ে জড়িয়ে যখন রাজাকারের দল
স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়িয়ে গাড়িতে চড়ে রক্ত চোষে
পাশেই পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা বাবা আমার রাস্তার পাশে বসে ছিল
পেটের জ্বালা মেটাতে যে থালা হাতে , পালিশ করা জুতা তা গুড়িয়ে দেয়
তখনি আমি ঘৃনা লজ্জায় বেঁচে থেকেও মরে যাই
এভাবে এই স্বাধীন মাটিতে আরও কত কাল মরে মরে বেঁচে থাকব।
মা তোমার এই অবমাননা আর কত দিন চেয়ে চেয়ে দেখব?

 

মঞ্জিলা শরীফ – কবি ও গল্পাকার  

আরও পড়ুন