রেল পথে একদিন

 

নিভেছে আলো থেমে গেছে ঝাঁঝালো রোদের তাপ,
তখন পরন্ত বেলা মধ্য চৈতিমাস,
রেল পথে বেড়ে ওঠা অবাঞ্চিত যত ঘাস,

নৈশব্দে কান পেতে অবিরাম,
মনে হয় অবিরত, মনে জাগে ত্রাস।
হেঁটে হেঁটে আমি তাদের এক পাশে
জলের কিনারে দাঁড়িয়ে প্রতি বিম্ব দেখে
থমকে দাঁড়াই কথা বলি সেই সব,
সেই সব দিন চলে গেছে পিছে
অকারণ কেন ভাবি মিছে।
প্রতি বিম্ব আমায় প্রশ্ন করে
আমিও করি প্রশ্ন তারে।
তুমি ছায়া? না তুমি মায়া?
আসলে তুমি আমি কেউ না,
শুধু একটুকরো দমকা হাওয়া।
কোথা হতে এসে কোথা যাবো চলে,
ঠিকানা বিহীন ভিন্ন দেশে।
অজান্তেই ঢিল ছুড়ি জলে, যাও তুমি চলে,
আমিও যাই অন্য কোনো পথে।
চমকে দেখি পাশে যত গাছ ঘাস পাখি
আমায় দেখে তারা অবাক সব আঁখি।
প্রশ্ন করি ফের, ওগো জলের ছায়াৃময়ী
কে তুমি বিস্ময়ী?
পাখি উড়ে গেছে পড়ে আছে পালক,
সব প্রশ্ন সাথে নিয়ে স্মৃতি ফেলে গেছে পথে।
প্রশ্ন করি ফের প্রতি বিম্বকে
এইখানে এই জলের কাছে
কেন বাঁধো আমায় মিছে ভুল মায়া ছলে
তাই আজ বেলা শেষে বিষাদে ঢেউ তোলে বিষন্ন আঁখি পল্লবে।
ছায়া মায়া সব ফেলে আবার দোলা দেই সেই জলে,
হাঁটি একা রেল পথে আনমনে যেতে যেতে
সব প্রত্যাশা শেষে জীবনের সব রঙ
এই বিকেলের আবিরে ঢেলে
সব দুঃখ নিঃশেষ করি।
কারা আমায় স্নিগ্ধ করে
কারা আমায় সুদ্ধ করে
দুচোখ মেলে দেখি উড়ে যায় বক উড়ে যায় পাখি
জানিনি কখন আমি ধন্য হলাম
সেই সব পেয়ে।
তন্ময়ে যেতে যেতে একা আমি রেল পথে ।

 

 

রত্না আফরোজ- কবি

আরও পড়ুন