কবি! তোমার কবিতায় বাজে বিবর্তনের সুর!

হাছিনা মমতাজ ডলিঃ

কবিতার কিছু দুর্বোধ্য সোপান আছে
সেই পথটুকু কন্টকময়,বন্ধুর!
যে পৌঁছে যেতে পারে জীবনের অবাধ্য সময়ের দহিত ভাঙন শেষে—–
কবিতার পর্বতচূড়ায়!
জয়ীতার মতো অরুন্ধতী কাব্যের মোড়কে সাজায় সে,
জীবনের পদাবলী!
কবি তুমি কি সেই জন!—-
আমি তপ্তদিনের ছোঁয়ায় কেবলই খুঁজেছি
কোনো এক সুপ্ত অগ্নিস্ফুলিঙ্গ,
অবশেষে ছুরির ফলার মতো সমাজকে খুঁচিয়ে জাগ্রত করার শব্দাবলী পেয়েছি তোমার কবিতায়।
তোমার চিত্রিত পোড়খাওয়া জীবনের সাতকাহন
ঝুলিয়ে দিতে চাই ব্যানার করে শহরের প্রধান সড়কে—-
দুলে উঠবে কি সমাজপতির আসন!

অথচ বহু বিনিদ্র রাত চিলেকোঠার জোনাকির আলোয়
লিখতে চেয়েছি আমি বিবর্তনের ধারা,
সহজ জীবনবোধের গতিময় সুর কিংবা প্রেমের জোয়ারে ভেসে যাওয়া কোনো কাহিনী!

কিছুই হয়নি লেখা!
মধ্যরাতের তক্ষকের ক্রমাগত বিলাপ,
ছায়াময়ী আত্মার ফিসফিসানি, তারাদের নীরব কথোপকথন, রহস্যের ধুম্রজাল আমাকে করে বোহেমিয়ান মায়ায় বিচ্ছিন্ন!
আমার কবিতাগুলো কেবলি জীবনানন্দের কুয়াশায় হয়ে থাকে আচ্ছন্ন।

ঘাসফুলে শিশির ছুঁয়ে বেতফলের গভীরে প্রিয়ার চোখের অতলান্ত খুঁজি——
কখনো সোনালি ডানার চিল হয়ে ভরদুপুরে উড়ে যাই
ধানসিঁড়িটির তীরে,বনলতা সেনের প্রেমেতে মজি!

অথচ কবিতায় আমি মশাল জ্বেলে প্রতিবাদের,
জ্বালাতে চেয়েছি ঘুণধরা সমাজের অবিচার!
শামুকের মতো অবগুণ্ঠিত খোলসে আজ শুধু বিদ্রোহের বর্ণমালা খুঁজে বেড়াই অন্যের কবিতায়!
আমার ঝিমধরা সকালটা আড়মোড়া ভাঙে
তোমার কবিতার তাপদহনে—-
তুমি যে পৌঁছে গেছো দুর্গম সোপান পেরিয়ে
কবিতার পর্বতচূড়ায়!——-
আমার কবিতাগুলো কেনো আজও কাঠগোলাপের ভাজে আবদ্ধ হয়ে রয়?

লেখকঃ কবি ও সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন