মুভি রিভিউঃ উত্তর জনপদের চিত্রায়ন “উত্তরের সুর”

মাসুদুল হাসান রনি

হোম কোয়ারান্টাইনের তেতাল্লিশতম সন্ধ্যায় দেখা হলো বাংলা সিনেমা উত্তরের সুর। চলচ্চিত্রটির কাহিনী ও চিত্রনাট্য লিখেছেন এবং পরিচালনা করেছেন শাহনেওয়াজ কাকলী।

সিনেমা দেখতে বসে প্রথম দৃশ্য থেকেই ভাওইয়া গানের সুরে মন হারিয়ে যাচ্ছিল উত্তরের জনপদে। যেখানে ধূলিধূসর আঁকাবাঁকা পথে গরুর গাড়ি চালাতে চালাতে আর কোনো গাড়িয়াল ভাইয়ের কণ্ঠে শোনা
যায় না ‘বাওকুমটা বাতাস যেমন ঘুরিয়া ঘুরিয়া মরে,
ওই মতন মোর গাড়ির চাকা পন্থে , পন্থে ঘুরে রে…
ওকি গাড়িয়াল মুই চলঙ রাজপন্থে।’
আর কোনো বাউলকে দোতারা হাতে গান গাইতেও দেখা যায় না।আজ দোতারাও নেই , সারিন্দাও নেই , নেই বাউদিয়ার কণ্ঠে ভাওয়াইয়ার সুর। এসব বাদ্যযন্ত্রের স্থান দখল করেছে আধুনিক বেহালা, গিটারের মতো যন্ত্র। আধুনিক সুর আর বাদ্যযন্ত্রের ভিড়ে বিলীন হতে চলেছে উত্তরের সুর।

কাকলী তাঁর সিনেমায় উত্তরবঙ্গের একজন গায়েন চাঁন মিয়ার বেঁচে থাকার সংগ্রাম, তাঁর কন্যা আয়েশার সঙ্গীতশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন , উত্তরবঙ্গের দরিদ্র‍্য জনগোষ্টির জীবনসংগ্রামের কাহিনী সেলুলয়েডের রুপালী পর্দায় তুলে এনেছেন।

এ সিনেমার বড় সম্পদ ভাওইয়া গান, উত্তর জনপদের অপুর্ব ল্যান্ডস্কেপ। লুসির অভিনয় ভাল লেগেছে। প্রয়াত শিল্পীবন্ধু সফিউল আলম রাজার কন্ঠে ভাওইয়া গানগুলো মন ভরিয়ে দিয়েছে। আমার ভাললাগা সিনেমার তালিকায় আরো একটি নাম যুক্ত হলো রংপুরের আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত উত্তরের সুর।

২০১২ সালে উত্তরের সুর মুক্তি পেয়েছিল। গ্ল্যামার জগতের পরিচিতমুখবিহীন এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন উৎপল, লুসি তৃপ্তি গোমেজ, মেঘলা এবং আরও অনেকে।

উত্তরের সুর ২০১২ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-এ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ চারটি পুরস্কার অর্জন করে।

লেখকঃ কলামিস্ট

আরও পড়ুন