আত্নজা

শামীমা নাসরিন

আজ রূপার কান্নার দিন। ফুলে ফুলে কাঁদছে সে। আগামীকাল রূপার বিয়ে। সারাজীবনের জন্য এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে সে। নাহ্ এজন্য কাঁদছে না রূপা। সে কাঁদছে তার এতদিনকার পৃথিবীটাকে হঠাৎ করে চোখের সামনে ভেঙে পড়তে দেখে। এ কি শুনলো সে? বাবা কি বলে গেল? যাকে সে এতদিন বাবা বলে জানতো যার বুকে মাথা রেখে সে পিতার স্নেহের পরশ নিয়েছে সে তার কেউ নয়? না এ হতে পারে না। এ সে মানে না। উদভ্রান্তের মত উঠে দাঁড়ায় সে। হলুদশাড়ীর আঁচল মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। মোবাইল ফোনটা একটানা বেজে বেজে থেমে যায় রূপার কোন দিকে কোন খেয়াল থাকে না। খুব ছোটবেলা থেকে বাপ ন্যাওটা মেয়ে বাবার কাছে মানুষ রূপা। বাবার ও রূপাকে ঘিরেই জগৎ সংসার। সেই বাবা তার কেউ নয়? তাইলে রূপা কে? কি তার জন্ম পরিচয়? সেকি তার মায়ের অবৈধ সন্তান? তাইলে তো রূপমকে বিয়ে করার কোন অধিকার নেই রূপার। আস্তে করে মোবাইল ফোনটা হাতে তুলে নেয়। রূপমকে এখনি জানিয়ে দেয়া দরকার যে আগামীকাল রূপমের সাথে বিয়েটা হচ্ছে না রূপার। শুধু আগামীকাল কেন কখনোই হচ্ছে না।আজ থেকে রূপম আর রূপার রাস্তা আলাদা। রূপমের নাম্বারটা টিপতে গিয়ে থমকে যায় রূপা। নাহ্ ফোন সে করবেনা তার চাইতে একটা ম্যাসেজ করে দেয়া ভাল।ফোন করলে আজাইরা কথার কচকচি। ফেঁসে যাবে রূপা। ম্যাসেঞ্জারে দ্রুত দু লাইনের ম্যাসেজটা লিখে দেয় রূপা। ” আগামীকাল আমাদের বিয়েটা হচ্ছে না। তোমার আমার রাস্তা এক নয় তাই একসাথে পথ চলা আমাদের হলো না। কারন জানতে চেও না। দেখেশুনে বিয়ে করে নিও। পারলে ক্ষমা করো আমাকে।” এটুকু লিখে মোবাইল টা অফ করে দেয় রূপা। মোবাইল অফ না করে উপায় ছিল না রূপার। এখন কোন অবস্থাতেই রূপমকে ফেস করতে পারবে না সে। হেঁটে মায়ের কাছে যায় রূপা। মঞ্জরী লাইট নিভিয়ে অন্ধকার ঘরে শুয়ে আছে। লাগোয়া বারান্দার রকিং চেয়ারে শাহেদ চৌধুরী বসে আছেন।

– মা….
– ওওও তুই? কিছু বলবি? আয়
– আমার বাবা কে?
মঞ্জরী কিছু না বলে চুপ করে বসে থাকে।
– কি হলো মা? চুপ করে আছ কেন? তাইলে কি আমি ধরে নেবো আমি তোমার অবৈধ সন্তান? আমি তোমার পাপের সন্তান? কোন এক লম্পট পুরুষ তোমাকে ব্যবহার করে আমাকে জন্ম দিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে গেছে?
– রূপা….. গলা চিরে আর্তনাদ ঝড়ে পড়ে মঞ্জরীর
– হ্যা মা আমি জানতে চাই আমি কে?
– তুই বোস্ আমি বলছি তোকে….
শাহেদ চৌধুরী ধরে বসান রূপাকে।
– তার আগে বলতো এতদিন পরে তোর এসব কথা জানতে হচ্ছে কেন? না মানে আমি জানতে চাই আমাকে নিয়ে কি তোর মনে কোন সংশয় তৈরি হয়েছে?
– তা নয় বাবা , আমার আইডেনটিটি সম্পর্কে জানার রাইট আমার আছে
– অবশ্যই আছে। শান্ত হয়ে বোস্ আগে আমি তোকে বলছি সব…. বলে একটু দম নেয় শাহেদ। মঞ্জরী আর্ত চিৎকার করে ডাক দেয় ,
– শাহেদ…
– মঞ্জরী বাঁধা দিও না , আমাকে বলতে দাও। আমি চাইনা রূপা তোমাকে ভুল বুঝুক। ও এ যুগের মেয়ে। ও নিশ্চয় বুঝবে দুইটা নারী পুরুষ যখন একজন আর একজনকে ভালবাসে আর সে ভালবাসার ফসল যদি কেউ আসে তাকে নিশ্চয়ই পাপের ফসল বলা যায় না। মঞ্জরী কিছু বলে না। আবার শুরু করে শাহেদ চৌধুরী।
শাহেদ , আদনান আর মঞ্জরী তিনজনেই একি ক্লাসে য়ুনিভার্সিটিতে ইংলিশ ডিপার্টমেন্ট এ পড়ে। খুব ভাল বন্ধু ওরা। ওদের সাথে ছিল রুদ্র , শিহাব , বন্যা আর সুদীপ্তা। সাতজনের গ্রুপ তো নয় এ যেন মান্নাদের সেই কফি হাউসের আড্ডা। যতক্ষন ক্লাস থাকেতো থাকে এরপর সাতজন মিলে আড্ডা তো আড্ডা। চলতেই থাকে চলতেই থাকে। ওদের এই বন্ধুত্বে ছেলে মেয়ে কোন ভাগাভাগি ছিল না। সব এক জেন্ডার। বেশ যাচ্ছিল দিনগুলি। দেখতে দেখতে অনার্স থার্ড ইয়ার ফাইনাল এসে যায়। ক্লাস সাসপেন্ড হয়। শাহেদের কিছু ভাল লাগে না। বন্ধুূদের আড্ডাটা মিস করতে থাকে সে। মাঝে মাঝে আদনান, রুদ্র এদের সাথে দেখা করে। তারপরে ও যেন কেমন ফাঁকা ফাঁকা মনে হয় সবকিছু। পড়তে মন বসে না। এর মধ্যে একদিন রুদ্র সবাইকে তাদের বাসায় ডাকে কোন এক উপলক্ষ্যে। দেখা হয় সবার সাথে। মঞ্জরী আসে না। তাদের বাসায় ও সেদিন গেস্ট আসে। এত হৈচৈ এত আড্ডা সব কিছু যেন পানসে মনে হয় শাহেদের কাছে। এই প্রথম উপলব্ধি করে শাহেদ , মঞ্জরী কে সে ভালবাসে। মঞ্জরী ছাড়া তার জীবন অচল। বোধটা আসতে শাহেদ একটু স্বস্তি বোধ করে। মনে মনে সিদ্ধান্ত নেয় পরীক্ষাটা শেষ করে মঞ্জরীকে মনের কথা জানাবে সে।
পরীক্ষা শেষ। পরীক্ষা শেষে শিক্ষা সফরে যায় সবাই রাঙামাটি। তিনদিন ছিল তারা সেখানে। এই তিনদিনের প্রথমদিন বিকেলে সবাই একসাথে বেড়াতে বেরিয়ে শাহেদ টের পায় তাদের সাথে মঞ্জরী আর আদনান নাই। মনে মনে খুৃঁজতে থাকে তাদের সে। বেশিক্ষন খুঁজতে হয়না মোটেলে যেতেই বন্ধ রুমে তাদের কথার আওয়াজ পায় সে। সবকিছু বুঝতে দেরী হয় না তার। শাহেদের উপস্থিতি তাদের টের পেতে দেয় না শাহেদ । নিঃশব্দে মোটেল ছেড়ে বেরিয়ে আসতে যায় সে। মনটা দমে যায় শাহেদের। অন্যমনস্ক শাহেদের পায়ের সাথে ধাক্কা লেগে দরজার পাশের গাছের মাটির টব টা ভেঙ্গে যায়। ওরা টের পাওয়ার আগে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে শাহেদ। মন খারাপ বিষয়টাকে বেশিক্ষন স্থায়ী হতে দেয় না । যতই হোক আদনান তার বন্ধু। বিকেলে কামরায় আদনান ডাকে তাকে
– শাহেদ
– বল…
– তুই বিকেলে কামরায় এসেছিলি?
– কেন জিজ্ঞেস করছিস?
– স্যরি দোস্ত
– কেন?
– তোকে ব্যাপারটা এতদিন চেপে গিয়েছি তাই। তোকে আরো আগে জানানো উচিত ছিল। একচ্যুয়ালি উই আর ফল ইন লাভ…
শাহেদ একটু হেসে আদনানের কাঁধে হাত রেখে বলে ,
– ভালো তো… তবে আমাকে আরো আগে বললে পারতিস। আমি তোদের হেল্প লাগলে হেল্প করতে পারতাম।
– সত্যি তুই মাইন্ড করিস নি?
শাহেদ আদনানের কাঁধে হাত রেখে আস্বস্ত করে।
পরের দুইদিন শাহেদ সত্যি ওদেরকে একা থাকার যথেষ্ট সুযোগ করে দেয়।
এই পর্যন্ত বলে শাহেদ থামে। রূপা বলে ,
– তারপর? তারপর কি হলো বাবা?
– তারপর? বলতে বলতে হাতের কনে আঙ্গুলে চোখের পানি মুছে শাহেদ আবার বলতে শুরু করে,
– তিনদিন যেন হাওয়ায় উড়ে যায়। সবাই খুব টায়ার্ড কিন্তু এই ক্লান্তির মাঝে মঞ্জরী আর আদনান যেন আরো নতুন জীবন লাভ করে। ওদের চোখে মুখে খুশি ঝিকমিক করে। সিদ্ধান্ত নেয় এভাবে একা থাকবেনা ওরা। বাসায় ফিরে মাকে দিয়ে বাবার কাছে বিয়ের কথাটা পাড়বে। দরকারে এখন আকদ্ করে রাখবে। মাস্টার্স শেষ করে তুলে আনবে।সিদ্ধান্ত টা নিয়ে বেশ হালকা বোধ করে দুজনে…।
দুপুরের পরে সবাই রওনা দেয়।সবাই ক্লান্ত। হালকা মেজাজে আড্ডা চলছে। ক্লান্ত মঞ্জরী কখন আদনানের কাঁধে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ে। অন্যান্যরা ও বেশিরভাগ তাই। পিছনের সিট খালি পেয়ে শাহেদ ওখানে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ে। হঠাৎ বাসটা প্রচন্ড শব্দে ঝাঁকি খেয়ে থেমে যায়। বড়সড় ধাক্কা খেয়ে নীচে পড়ে যায় শাহেদ।মাথার একদিক থেকে রক্ত পড়ে তার। দুই হাতের কনু ছিলে যায় এ ছাড়া মনে হয় পা ও মচকে গেছে। প্রচন্ড ব্যাথা। সারা বাসে মেয়ে, পুরুষের চিৎকার চেঁচামেচি। কোন রকমে একটা সীটের হ্যান্ডেল ধরে উঠে দাঁড়ায় সে।বাসের জানালা। দিয়ে দেখে একটা বড় গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে বাসটা একটা খাদের কিনারে উল্টে আটকে আছে। একমুহূর্ত তাকিয়ে বিপদের ভয়াবহতা বুঝতে পারে সে। বাসের উল্টোদিকে ধারন ক্ষমতা একটু কমলেই বাস সোজা খাদের নীচে গিয়ে পড়বে। তখন কাউকে বাঁচাতে পারবে না। উঠে দাঁড়িয়ে সবাইকে সাবধান করে দেয় শাহেদ। অতঃপর গায়ের প্রচন্ড শক্তি দিয়ে দুই তিনটা জানালা ভেঙ্গে ফেলে শাহেদ। শাহেদের পরিকল্পনা বুঝতে পেরে তার সাথে আরো তিন চারজন এসে হাত মেলায়। ভাঙ্গা জানালা দিয়ে প্রথমে সুস্থ তিন চারজন বেরিয়ে যায়। পরে ওদের সাহায্যে একে একে আহতদের পার করতে থাকে। রুদ্রর কাছে গিয়ে দেখে তার এক পা মুচড়ে সীটের নীচে আটকে আছে। দুই তিনজন মিলে অনেক কষ্টে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে। আস্তে আস্তে আদনানের কাছে এসে আঁতকে উঠে শাহেদ। আদনান মাথাটা একটু ঝুঁকে একপাশে হেলান দিয়ে দুই চোখ বুজে আছে। শাহেদ দেখেই বুঝতে পারে আদনান নেই।
সেবারে সেই এ্যাক্সিডেন্টে ছেলে মেয়ে নিয়ে নিহত হয় সতের জন আহত কত হিসাব নেই।
এইটুকু বলে শাহেদ চুপ করে। রূপা ও নির্বাক। সারা কামরায় পিনপতন শব্দ নেই…। হঠাৎ মঞ্জরী ডুকরে কেঁদে উঠে। শাহেদ মঞ্জরীর পাশে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে বসে থাকে। একটু পরে রূপাও গিয়ে মায়ের মাথায় হাত বুলাতে থাকে। মঞ্জরী একটু স্থির হলে শাহেদ আবার বলতে শুরু করে। রূপা বাধাঁ দিয়ে বলে ,
– বাবা থাক….
মঞ্জরী বলে উঠে
– না থাকবে না , বাকীটা বল তুমি
– মা কেন তুমি জোর করছো? আমি তো বলছি আমি আর শুনতে চাই না।
– না রূপা আমি চাই তুই সবটুকুই জেনে নে। নইলে শাহেদের উপর অন্যায় করা হবে
– মঞ্জু থাক না…
– না শাহেদ , তুমি বলতে না পারো আমি বলছি…..
সেবারে আদনান চলে যাওয়াতে মঞ্জরীর চারপাশ শূন্য হয়ে যায় , কিন্তু চারপাশ অন্ধকার দেখে যখন খাওয়া দাওয়ায় কোন রুচি পায় না। লুকিয়ে লুকিয়ে দুয়েকবার বমি ও করে ফেলে। বুঝে যায় সে মা হতে চলেছে। গ্লানি আর দুশ্চিন্তায় তখন সে দিশেহারা। ভয়ে খাওয়া দাওয়া ও ছেড়ে দেয়। মা বোধহয় কিছু একটা আঁচ করতে পারেন।জিজ্ঞেস করেন ,
– কি হয়েছে রে তোর?
– কি হবে?
– কিছু খাচ্ছিস না কেন?
– খেতে ইচ্ছে করেনা
– কেন?
চুপ মঞ্জরী। তিনি আবার জিজ্ঞেস করেন
– সকালে বমি করেছিলি?
– মা তুমি সত্যি সত্যি কি জানতে চাচ্ছ বলতো?
– কি জানতে চাই সে তো বুঝতেই পারছিস।
সেদিন বিকেলে শাহেদ যায় মঞ্জরীর বাসায়। মঞ্জরীকে দেখে অবাক হয়ে যায় সে।
– একি অবস্থা তোর মঞ্জরী? শরীরের একি হাল করেছিস? কি হয়েছে তোর?
এই প্রথম মঞ্জরী শাহেদকে কাছে পেয়ে ভেঙে পড়ে। দুই হাতে শাহেদকে জাপ্টে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কেঁদে ফেলে। শাহেদ একহাতে মঞ্জরীকে আলতো করে ধরে আর এক হাতে মুখটা তুলে নিয়ে জিজ্ঞেস করে
– কি হয়েছে তোর কাঁদছিস কেন?
– শাহেদ আমি…. বলে থেমে যায় মঞ্জরী।
– হ্যা বল তুই কি?
– আমি…. আমি প্রেগন্যান্ট
– হোয়াট?
– হ্যা এখন আমি কি করবো বল?
– বাসায় জানে?
– মা মনে হয় একটু আঁচ করতে পারছে
– হু…. বলে একটু চুপ করে থেকে কি যেন ভাবে , পরমুহূর্তে যেন গা ঝাড়া দিয়ে উঠে বলে ,
– আন্টিকে ডাক
– কেন?
– ডাকতে বলছি ডাক এত কথা জিজ্ঞেস করিস কেন?
মঞ্জরী আর কোন কথা না বলে ভিতরে গিয়ে তার মাকে ডেকে নিয়ে আসে। তিনি আসতেই শাহেদ তাঁকে পা ছুঁয়ে সালাম করে একপাশে দাঁড়িয়ে মঞ্জরীকে ইশারা করে সালাম করতে বলে শাহেদ। মঞ্জরী হতচকিত হয়ে যায়। শাহেদের ইশারা পেয়ে সে মাকে সালাম করে দাঁড়াতে শাহেদ বলে,
– আন্টি আমি মানে আমরা আপনাদের কাছে মাফ চাইতে এসেছি।
– কেন বাবা?
– আন্টি আমরা একটা ভুল করে ফেলেছি।
শাহেদের কথার মাথামুন্ডু মঞ্জরী ও বুঝতে পারে না। সে ফ্যালফ্যাল করে শাহেদের দিকে তাকিয়ে থাকে। ততক্ষনে শাহেদ বলে ,
– আন্টি আমি আর মঞ্জরী বিয়ে করেছি
– ক্কিইই…
– জ্বী আন্টি এখন আপনি আংকেলকে ম্যানেজ করেন। সামনের সপ্তাহে আমি মঞ্জরীকে তুলে নিতে চাই।
– সামনের সপ্তাহে কেন? এত তাড়াতাড়ি? তোমরা মাস্টার্স করবে না?
– জ্বী আন্টি সেরকমই ইচ্ছে ছিল কিন্তু একটু ঝামেলা হয়ে গেল যে?
– কি ঝামেলা?
– ইয়ে বাসায় আম্মু খুব অসুস্থ। আম্মু আমার বিয়ের জন্য অস্থির হয়ে আছেন।
– কিন্তু এখনো তুমি স্টাবলিশ হওনি তোমার আংকেল তো রাজি না ও হতে পারে।
– আন্টি আমি স্টাবলিশ না হলেও মঞ্জরীর কোন সমস্যা হবে না। আমাদের পারিবারিক ব্যাবসা। পাশ করে আমি সে ব্যাবসাতেই ঢুকবো।
বাসায় শাহেদ তার বাবা মাকে রাজি করে। একসপ্তাহের মধ্যে মঞ্জরী এবং শাহেদের বিয়ে হয়ে যায়।
বিয়ের আট মাসের মাথায় রূপা জন্ম নেয়।রূপার জন্মের সময় মঞ্জরী অনেক জটিলতার সম্মুখীন হয় তাই পরে আর শাহেদ বাচ্চা নেওয়ার ঝুঁকি নেয় না।রূপাকে কেন্দ্র করে মঞ্জরী আর শাহেদের দিন কাটে। এক মুুহূর্তের জন্য শাহেদ মনে করে নি রূপা তার কেউ নয়। এইটুকু বলে মঞ্জরী চুপ হয়ে যায়। মঞ্জরীর কথা শেষ হতে শাহেদ আস্তে আস্তে দরজার দিকে এগিয়ে যায়। ইতিমধ্যে রূপা তার আশু সিদ্ধান্ত ভেবে নেয়, দৌড়ে গিয়ে থামায় তাকে। বলে,
– বাবা কোথায় যাও তুমি ? আজকের এই দিনে তুমি আমাকে দোয়া করবে না? তুমিই তো আমার বাবা, সত্যিকারের বাবা।
এমন সময় রূপম হন্তদন্ত হয়ে ভিতরে আসে। বলে,
– রূপা কি হয়েছে তুমি ফোন অফ করে আছ কেন? বিয়ে কেন বন্ধ করলে?
– রূপম আমার সামনে যে লোকটাকে দেখছো তিনি আমার বায়োলজিক্যাল বাবা নন। কিন্তু আমি জানি তিনিই আমার বাবা। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা….
– আমি জানি রূপা
– তুমি জানো? কিভাবে??
– আংকেল আজ থেকে ছয়মাস আগে যেদিন তোমাকে নিয়ে প্রথম দেখা করতে আসি সেদিন ই বলেন
– তোমার এতে কোন আপত্তি নেই তো?
– রূপা আমি তোমাকে চেয়েছি। তোমাতেই আমি আমার জীবনটা গুছিয়ে নিতে চাই….।
– তাইলে এসো আজকের এই দিনে আমরা পৃথিবীকে চিৎকার করে বলি,
– শুনছো সবাই আমি শাহেদ চৌধুরী আর মঞ্জরী চৌধুরী মেয়ে রূপা চৌধুরী, তারো আগে বাবা মা আমরা তোমাদের দোয়া চাই ….. বলে রূপা এগিয়ে গিয়ে শাহেদ এবং মঞ্জরীকে সালাম করে দেখাদেখি রূপম ও। শাহেদ দুহাত বাড়িয়ে মেয়ে জামাইকে বরন করে নেয়। অদূরে দন্ডায়মান স্ত্রীকে কাছে ডেকে নেয়
– কি গো তুমি আবার ওখানে একা দাঁড়িয়ে কেন? আমাদের মেয়ে জামাইকে আশীর্বাদ করবে না?
মঞ্জরী হেসে এগিয়ে এসে স্বামী সন্তানের কাছে দাঁড়াতে রূপা একহাত বাড়িয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে।

লেখক : কবি ও সাহিত্যক

আরও পড়ুন