ঈদুল আজহা উপলক্ষে মহীয়সীর সেরা ২০ টি কাব্য

ঈদুল আজহা উপলক্ষে মহীয়সীর সেরা কবিতা

এক

মতিহার

মাহফুজুর রহমান আখন্দ

ভালোবাসার স্বপ্নউঠোন
ফুলপাখিদের গানে
নতুন করে পরশ মাখাই
মতিহারের টানে

প্রাণ জুড়ানো মাঠে
যেখানটাতে মগ্ন ছিলাম
জীবন গড়ার পাঠে।

*******

দুই

নতুন সূর্যের অপেক্ষায়!

হাছিনা মমতাজ ডলি

এই যে বইছে কষ্টের জলোচ্ছ্বাস,
সয়লাব হৃদয়ের জনপদ, নিপীরিত মানুষের ব্যথার সফেদ জলরাশিতে।
প্রবল সুনামিতে ভেসে যাক এবার সব অনাচার!

ঘুণেধরা সমাজে ঘূর্ণন অন্যায়ের,
গ্রহণ লাগে ন্যায়নীতির!
ওরা জেগে উঠেছে মধ্যদুপুরে,একদল সূর্য সন্তান!
প্রখর উত্তপ্ত সূর্যের উত্তাপে,
জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির মতো দাবানল হয়ে জ্বলবে
এই শহরের অলিগলিতে!
দিনবদলের গান বাজছে অবিরাম,আকাশে-বাতাসে!

পুরানো অনিয়ম,অত্যাচারিতের লোনাজল মুছিয়ে দেবে, নতুন শান্তির বলাকারা!
এতটুকু আশ্বাস—–
জীর্ণ জীবনের ঝরাপাতায় সজীব ফুল হয়ে ফোটবার, আত্ম প্রত্যায়ের আলো দেখেছি ওদেরই দুচোখে!
যুগে যুগে ওরাই গেয়ে যায় নতুনের গান,
নতুন দিনের অগ্নি সারথি
এই ধরনীতে আসে অনির্বাণ!

আলো আসবেই, অপেক্ষায় নিপীড়িত অন্ধকারে মানবতা,
নতুন সূর্য ওঠার এইতো সময়!
তবুও হুশিয়ার থেকো, কুহকী মায়াজালের মতো রয়েছে যে ফাঁদ পাতা
এই ভূবনে—-!

***********

তিন

প্রাঞ্জল স্বপ্ন

মঞ্জিলা শরীফ

থেমে যাওয়া পথের বাঁকে
এক বুক আশা কুর্তির পকেটে এঁটে
গোধূলীর ওপারে হারিয়ে যাওয়া বিকেলে
ঠাঁই দাঁড়িয়ে স্বপ্ন বিভোর মন ।

বট বৃক্ষের ডালে কিছু বুনোশকুন জটলায় মত্ত
স্বপ্নের কোমল মনে ঠোঁট চালিয়ে
রক্তাক্ত করা ক্ষতে
ভার্চুয়াল প্রলেপের পচন ধরায় ।

স্রোতোবহা নদীর বুকে গলিত লাশের গন্ধে
ভেসে আসে কিছু অশরিরীয় নাকে কান্নার আওয়াজ,
নদীর হারিয়ে যাওয়া দু’কুল আর আবারিত মাঠে
অনিশ্চিত আগামী হাত ছানি দেয়।

আবার কবে আঁধার ঘন ধরায়
ঘোমটা মোড়া জোসনার আঁচল থেকে বের হয়ে
কুমারী সকাল হাসবে, হাজার পাখি গাইবে।

হঠাৎ প্রলঙ্কারী ঝড়ে উল্টে যাওয়া পৃথিবীতে
ভেঙে যাওয়া বৃক্ষে আবারও নতুন করে ফলে ফুলে সুশোভিত হবে
সবুজ সারি সারি পাতার ঠোঁটে ভোরের শিশির মুক্ত ছড়াবে।

সূর্য্য স্নান করে বুক পকেটের
প্রাঞ্জল স্বপ্ন ভরা অঞ্জলি তুলে ধরা
প্রতিশ্রুতির হাত দুখানি, একগুচ্ছ
সদ্যস্নাত ভেজা কদম
অথবা শিশিরে ধোয়া শুভ্র নিশিগন্ধা ছুঁয়ে দিবে।

**********

চার

কুরবানী

মু.নিজাম উদ্দিন

ভাগ করে নাও ঈদের খুশি ধনী গরীব সবাই মিলি
ছোট বড় সবাই জুটি ঈদগাহ্ তে চল ছুটি। কুরবানী দাও প্রভুর লাগি; গোশত বিলাও রাশি রাশি। পোলাও কোরমা ফিরনি বিরনি খাও যত চাও মনের খুশি। তোমার খুশি তোমার হাসি পায় যেন ভাই আপন করি; কেউ না কাঁদে যেন ও ভাই হাসি খুশি সবাই থাকি। কুরবানী দাও মনের পশু জাগুক তোমার বিবেক তবু; হিসাব মিলাও অঙ্ক কষে শপথ নাও চলার সঠিক পথে। কুরবানীর এই শিক্ষা নিয়ে চলবো মোরা আলোর পথে।

*********

পাঁচ

সবুজের মাঝে

আব্দুল মতিন

মমতায় ঘেরা প্রান্তর মায়ার আস্তরণ
লুটিয়ে পড়ছে আকাশ দরদের ছায়া।
সবুজ অবনি হাতছানি দিয়ে ডাকে
পাখির কণ্ঠে কি যে অপূর্ব মায়া।
গভীর জলধারা নিস্তব্ধ কখনো স্বচ্ছ
পাহাড় মিশেছে ঐ নীলিমার ঈশানে।
সবুজের বুক চিরে মেঠো পথ লোকালয়
কখনো সবুজ কখনো লাল মেখেছে নিশানে।
মায়ের আঁচলে লুকানো মুখ কখনো অন্ধকার
কখনো সোনালী বেগুনি রঙে সেজেছে ধরা।
পল্লী বধূর লাজুক মুখ,কখনো লজ্জার মিছিল
টেংরা, পুঁটি বোয়ালের গন্ধে নিখুঁত গড়া।
সিল্ক বা মসলিনের জালে লুকানো যৌবন
অপার বন্ধনে পরেছে রঙিন বেশ।
লালন, পল্লীগীতি আর ভাওয়াইয়া গানে
বেঁধেছে আমায় চির সবুজ এ দেশ।
উৎপল তরঙ্গের মত ছলাৎ ছলাৎ ঢেউ
মাঝির গোলই খুঁজে নদীর ঘাট
শাপলা,শালুক পদ্ম লুকোচুরি করে জলে
অসীম কোমলতা আজ বেঁধেছে গাট।
সবুজ ধান, সবুজ পাট সবুজের হৈচৈ
সবুজের মাঝে হারিয়ে যায় নয়ন।
নুয়ে পড়ে সবুজের সমারোহ সবুজের দোলা
সবুজ ঘাসের বুকে চলা সেখানেই শয়ন।
আমি অসীমের পানে সবুজ চাই
সবুজের মাঝে চাই সোনালী দেশ।
যত দূরেই ঘুরে বেড়াই আমি
তোমার কাছেই মিশে যায় হে বাংলাদেশ।

**********

ছয়

কুরবানি

রফিকুল্লাহ্_কালবী

বন্যায় ডুবে যাওয়া ঘর
ভেসে গেছে যমুনার জলে,
পানির তলায় গেছে ফসলের মাঠ।
বউ আর পুলাদের শরীর
শুকনো জারুলের কাঠ,
হালের বলদ দু’টো খড়কুটোর মতো
ভেসে যায় গেলোবারের মতো।
বউডার চোখ পিঁয়াজ কাটা চোখের লাহান
বানের পানির সাথে মিলায় স্রোতের টানে–
আমি জানি নাই,
তার দুঃখের কথা সেই খালি জানে।
থৈথৈ পানি, তবু একফোঁটা পানি খাবো বলে
চাতকের মতো চায়া থাহি দূরে,
গাছের ডাল, ঘরের চাল,
কচুরিপানা, মরা ছাগলের ছানা-
ঘোলা জলের পাঁকে ঘুরে।

বাঁশের চড়াট থেকে গভীর রাতে
টুপ করে পড়ে গেছে–
সোনার মানিক, কুরবানির চাঁদে;
বউডা ডুকরে ডুকরে খালি কাঁদে।
আমি কাঁদি নাই,
নৈঃশব্দ ভাঙনের আওয়াজ বুকে চেপে-
কলার ভেলায় লগি ঠেলে ঠেলে
কত যে পাড়া মহল্লা ফেলে,
খুঁজে ফিরি ছেলেডার লাশ।
যদি পাই,
ফুলে ওঠা পেটে চুমু খেয়ে জিগাই,
ওরে সোনার চাঁন,
বাপের বুকের চেয়ে বানের পানি
ক্যান্ এত ভালো লাগিছে, বাজান?
জীবনের তরে বানের জলে
কুরবানি দিছি যারে,
তার তো পরান পাবো না ফিরে–
শুধু লাশ দাও প্রভু,
ওর ফুলে ওঠা পেটে একটু চুমু খাবো শুধু।
কবরের মাটি পাবো কই? তোমারই নামে
আবার ভাসিয়ে দেবো বন্যার জলে–
কুরবানি দিছি যারে তোমার নামে।

*******

সাত

অাত্মসমর্পণ

শোয়েব আলী

ক‌রোনা , তু‌মি অামা‌দের ধ‌রোনা
তু‌মি মহা মা‌লি‌কের কাছ থে‌কে এ‌সে‌ছো
কখন কা‌কে ধর‌বে কেউ তা জা‌নিনা।

তু‌মি এক মহা সং‌কেত জা‌নি
পাপী‌দের জন্য সতর্কবাণী
ম‌ুমি‌নদের এক পরীক্ষা‌ ক্ষেত
পার কর প্রভূ এই মো‌দের প্রার্থনা।

কালক্র‌মে বহুরূপী হ‌য়ে অাস তুমি
ধ্বংশ ক‌রে‌ছো অাবরাহা বা‌হিনী
‌ফেরাউন -নমরুদ পে‌য়েছে শিক্ষা
বাঁচা‌তে পা‌রেনি কেউ , সবারই তা জানা।

প্রভূর কা‌ছে কর‌ছি অত্মসমর্পন
‌ফি‌রে যাও তু‌মি জানাও নি‌বেদন
মানবজা‌তি দেখ দি‌শেহারা অাজ
অাশ্রয় খুঁজে প্রভুর কা‌ছে , এই‌তো শান্তনা।।

********

আট

ত্যাগের ফলাফল

রওশন চৌধুরী

ঈদ উল আজহার দিনটি আসে
সব মুসলিমের তরে
ত্যাগ তিতিক্ষার পরীক্ষা হয়
পশুর জীবন দিয়ে ।

হাটে, মাঠে, রাস্তার ধারে
বসছে পশুর মেলা,
গরু, মহিষ, বকরি, ভেড়া
আসছে ঝাঁকে ঝাঁকে
হাট বাজারে ঠাঁই মিলে না
মানুষ, পশুর ভিড়ে।

কার পশুটা বেশি দামি
কারটা হবে বেশ,
এই নিয়েই চলছে লড়াই
টাকার খেলার রেষ।

পশুগুলো ভাবছে তাদের
প্রভূর পানে চেয়ে
এ কেমন ত্যাগ তোমরা করো
মোদের বলি দিয়ে?
প্রতিযোগিতায় ক্কুরবানী যে
সঠিক হয়না জানি
তবু কেন করছে সবাই
মোদের, দাম নিয়ে হানাহানি?

বোবা কান্না কেই বা শোনে
কারবা আছে এত দায়!
ক্কুরবানীর নামে উচ্চ বংশের
পশুটা সবাই চায়।

ভাগ বটোয়ারার ঝুট ঝামেলায়
কেনইবা যাব ভাই
পশুর গোস্ত রক্ষনে এবার
জব্বর ফ্রিজটা যে চাই!
ক্কুরবানীর ছলে গোস্ত দিযে
ফ্রিজটাতো আগে সাজাই।

এইতো মোদের ত্যাগের ধরণ
বলারতো কিছুই নাই,
বছর বছর ফি বছর এমন
চলছে সর্বদাই।

সেই ত্যাগের নজীরখানা
দেখব।।

********

নয়

ইদানিং খুব ভালো আছি

ইব্রাহীম খলিল

ইদানিং মনটা কেনো
এতো ভালো লাগছে,
কি আনন্দ মনে আজি
সুখ সুখ পাচ্ছে।
খাওয়া দাওয়া সবই আমি
গিয়েছি যে আজ ভুলে,
কি লিখব ছন্দ কাব্য
আনন্দে মন দুলে।
রোগ, শোক সবই আমি
ভুলতে বসেছি,
নিরালায় নির্জনে বসি
একা একা হেসেছি।
জীবনটা এতো সুন্দর
ভাবি এখন তাই,
আহাঃএভাবেই অনাবিল
সুখময় মূহর্ত্যে আরো চাই।

***********

দশ

স্বপ্নস্নান
ফারহানা শরমীন জেনী

সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গ
আমাকে ভাসায় স্বপস্নানে,
আমি স্বপ্নচারী –
মোহমুগ্ধ হয়ে মিশে যায়
ফেনিল জলে;
নীল কষ্টেরা ধুয়ে মুছে
রঙ বদলায়,
আকাশে উড়ে যাওয়া
আলবাট্রসের সাদা ডানায় ভেসে অবিরত নীল আর সাদার
রঙতুলিতে আঁকিবুঁকি খেলি;
স্বপ্নচারী আমি চোখের পাতা খুলে বাস্তবতার বালিয়াড়িতে
বিশাল এক মহাশূন্যে ছুটি ;
যেখানে শুধুই মরিচীকা
খেলে কানামাছি!

*******
এগারো

আমি নারী

অনামিকা বোস(অনু)

আমি নারী হতে পারি তোমার প্রেমিকা ৷
আমাকে অনায়াসেই তোমরা সৌন্দর্যের পশরা বলো ৷

কখনও ছন্দের তালে তালে হয়ে যাই কবির কবিতা ৷
কখনও আমাকে না বুঝেই ব্যাখ্যা করো মরুমায়া রুপে ৷
কতো গোলাপের কুঁড়ি থেকে ফুল ফোটার সাক্ষী ৷
কখনও আমি তোমার মনের সমুদ্রের অশান্ত সাগরের ঢেউ৷
আমার মনের শূন্যস্থানটি যে কখনই পূরণ হয় না ৷
শূন্যতা রয়ে যায় জীবনের শেষ দিন অবধি,
মনের সেই ভালোবাসার মানুষটির জন্য ৷

কখনও আমি প্রতীক্ষারত প্রেমিকা রাই ,
আবার কখনও আমি হাতে অস্ত্র নিয়ে মাতঙ্গিনী হাজরা৷
আজ আমার ফুসফুস জুড়ে জ্বলছে কতোই না দাবানলের আগুন ৷
এখনও পুড়ছি,শেষ হয়ে যাইনি আজও ৷
হতাশার সমুদ্রে আশায় আশায় ক্রমশ্য ডুবে যাচ্ছি ৷
আমি নারী ,শুধু ভালোবাসাময় শোভা দিয়ে ভরিয়ে রাখাই যে আমার কাজ ৷
শরীরের একটু উষ্ণতা চাই তোমাদের ৷
শাসনের সোহাগ যন্ত্র দিয়ে শুধু বেঁধে রাখতে চাও আজীবন ৷
কতো চিত্রশিল্পীরা এঁকেছে শূন্য ক্যানভাসে আমার না জানি কতো রূপ ৷

কখনও আমি হয়েছি পুরুষের অর্ধাঙ্গিনী ৷
কখনও আমি হয়েছি পুরুষের প্রিয়তমা ৷
কখনও আমি হয়েছি মমতাময়ী মা …….৷
কখনও আমাকে করেছো ছিন্ন অন্তর্বাসে যোনির বলৎকার ৷

আমি নারী …সহ্য করি সহস্র শুকরের নির্মম অত্যাচারের ব্যাথা ৷
আমি নারী.. বলে প্রতিনিয়ত করেছো কন্যাভ্রুণ ছিন্নভিন্ন ৷
আমি নারী… অামাকে নিয়ে কতো স্লোগান ,কতোই না বিপ্লব ৷৷
তোমরা কি দিতে পারো আমাদের ,সন্মানের একটি রাত ??
তোমরা কি দিতে পারো কুমারী মেয়ের যোনির আর্তনাদ না করা একটি সুন্দর সকাল ??
তোমরা কি দিতে পারো সদ্যজাত শিশুর যোনি হেনস্থা থেকে মুক্তি ??

আমি নারী…হতে চাই না তোমাদের লালসার শিকার ৷৷
আমি নারী….হতে চাই না কারোর কুৎসিত চোখের দৃষ্টি ৷৷
আমি নারী…. হতে চাই না তোমাদের অবহেলিত ৷৷

আমি অবলা নই…..
আমি নারী…….!
আমি হতে চাই তোমাদের দৃষ্টিতে এক…….,
সম্পূর্না নারী…….!

********

বারো

মা

বিষ্ণুপদ বিশ্বাস

বাড়ির কাছে কুয়োর ধারে শাল বনে,
বাঁদর ছানাটি খেলছিলো এক মনে।
করছিলো লাফালাফি খুশির ঠেলায়,
ছানার মা বসে ছিলো গাছের তলায়।
ছানাটি পড়লো কুয়োর গভীর খাদে,
বাঁচার তরে উঠলো কেঁদে আর্তনাদে।
সন্তানের ডাক জননীর কানে গেলো,
কুয়োর মধ্যে উঁকি মেরে পাগল হলো!

বিপদকালে ধৈর্য্য ধরে ঘামিয়ে মাথা,
প্রাণের মায়া ভুলে গেলো ছানার মাতা।
ঝুঁকি নিয়ে কুয়োর মধ্যে বাঁদুড় ঝুলে,
ছোঁ মেরেই চোখের মণি আনলো তুলে।
জগৎ জানে এই কথাটা মিথ্যে নয়,
পশু বা মানুষ হোক মা ত মা ই হয়।

**********

তেরো

গাঙের মাঝি

রত্না আফরোজ

গাঁয়ের পাশে ছোট্ট গাঙ
একে বেকে যায়
গান গাহিয়া পাল উড়াইয়া,
মাঝি বসে নায়।
গাঙের পরে গাঙ ছাড়াইয়া
জোয়ার স্রোতের টানে
গাঙের মাঝি গাঙে বসত
ঝড় তুফান আর বানে।
ইচ্ছে হলে উজান ছেড়ে
ভাটির দেশে আসে
গাঙের মাঝি গাঙে বসত
গাঙরেই ভালোবাসে।
ঢেউয়ের তালে খেলে খেলে
উজানে নাউ বায়
এদেশ ওদেশ ছাড়িয়া সে
কোনবা দেশে যায়।

*********

চৌদ্দ

অশান্তি

বেলাল বকুল

খুশি খুশি লাগেনা আর
দেশের খবর শুনে,
মহামারি চলছে দেশে
শান্তি নাইরে মনে।

গরু, খাসি যাই বলো ভাই
তৃপ্তি পাইনা মনে,
দেশের মানুষ কষ্টে আছি
ঈদুল আজহার দিনে।

অতীত সময় ছিলো ভালো
এখন বড়ই কষ্ট,
দুঃখ কষ্টে আছি সবাই
আনন্দ সবই নষ্ট।

কত গৃহে দেখছি আজি
উঠছে নাকো হাঁড়ি,
লোক লজ্জায় উপোস থাকে
যায় না কারো বাড়ি।

নতুন কাপড় পাইনা তারা
খায় না খাবার ভালো,
আপন মানুষ পর হয়েছে
যায় না সময় ভালো।

ধনী গরীবের বেশ ব্যবধান
কষ্ট লাগে মনে,
এমন নীতি চলতে থাকলে
কষ্ট ক্ষণে ক্ষণে।

কুরআন মতে জীবন বিধান
গড়তে যদি পেতাম,
তবেই ই না ঈদের দিনে
অনেক খুশি হতাম।

****

পনেরো

সুমতি

মোঃ আতিকুর রহমান

হে প্রভু দাও আমাকে একটি
কলুষমুক্ত মন
যে মনে থাকবে শুধু
তোমারি স্মরণ সারাক্ষণ।

বাসতে চাই আমি মানুষকে ভালো
দিয়ে নিজের ধন প্রাণ
হে প্রভু আমাকে দেও বাড়িয়ে
দু জগতে সম্মান।

সুমতি আমায় দাও এমনে
মানুষকে ভালোবাসার
মানবতার সেবায় সব বিলিয়ে
মানুষের পাশে থাকার।

দ্বিধা ভয় ভুলে চলতে চাই আমি
সত্য ন্যায়ের পথে সদা
এ পথে চলতে জীবনে মোর
আসুক যতই বাঁধা।

এ ভুবন তুমি সৃষ্টি করে
করেছ কতো মনোমুগ্ধ
ধন ঐশ্বর্য চাইনা মোর
চাই শুধু তোমারি সান্নিধ্য।

তোমারি দয়ায় বেঁচে আছি আমি
যা পেয়েছি সব তোমারি জন্য
জীবনে আমি যেটুকু পেয়েছি
তাতেই হয়েছি ধন্য

দূর করো মোর হৃদয়ের যতো
বক্রতা আর কুটিলতা
মন ভরে দাও সুমতি আমার
পূর্ণ করে দাও সততা সরলতায়।

************

ষোল

সারথী

আসফিয়া নিরু

নিত্য কালের সারথী এসেছে
নব পরিচয় দিতে,
অপরূপ রূপে প্রকাশিতে ধরনীতে
পুরাতন সব ফেলে দিয়ে
করে নতুনের আয়োজন
নতুন পৃথিবী নতুন জীবন
নতুনের জয়গান,
সকল কালিমা মুছে দিয়ে আজ
নতুন সূর্য ওঠে,
দিকে দিকে আজ বিজয়ের বাণী
নির্মল নীলে ছোটে,
পৃথিবীতে যত কালিমা রয়েছে
সব ধুয়ে মুছে ফেলে
নতুন রবির পূন্য কিরন পুব আকাশে জ্বলে
নব জীবনের প্রাতে
নবীনেরা এসো আসার
পতাকা হাতে,
ছিন্ন হোক বন্ধন সব
এসো দূরন্ত এসো নির্ভয়
তোমাদেরি হোক জয় ।।

**********

সতেরো

অপেক্ষা

মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম

জিম্মি মানুষ, অপেক্ষায় তারা,
হাসবে আবার,হাসবে আপন ধরা।
জাগবে মানুষ, জাগবে এই ধরা,
বিশ্বটা যে তাদের হাতে গড়া!

শিশুরা আবার হাসবেই হাসবে,
খুব খুশিতে আপন মনে ভাসবে।
শূন্য মাঠ আবার হবে পূর্ণ,
করোনার জাল করবে তারা চূর্ণ।

মানুষ তার আগের ধারায় ফিরবে,
করোনার জাল ছিঁড়বে তারা ছিঁড়বে।
নিভু নিভু প্রাণ জ্বলবেই জ্বলবে,
করোনার দল দলবে তারা দলবে।

বিশ্বটা আবার হাসবেই হাসবে,
আশার আলোয় নতুন করে ভাসবে।
বিশ্বটা আবার ঘুরবেই ঘুরবে,
করোনাকে মুড়বে মানুষ মুড়বে।

জব্দ মানুষ, অপেক্ষায় তারা,
হাসবে মানুষ, হাসবে আপন ধরা।
অতীত জঞ্জাল হোক পদদলিত,
সুন্দর জীবন হোক পরিচালিত।

বিশ্বটা নতুন করে সাজবে,
আশার আলোয় বাঁচবে মানুষ বাঁচবে।
দরকার এবার শক্ত মনোবল,
অচল বিশ্ব হবে আবার সচল।

ওঠবে জেগে শিশুর কোলাহল,
ওঠবে হেসে শিশু -কিশোর দলবল।
প্রাণে প্রাণে প্রাণ দাও বিলায়ে,
মুক্তির পথ খোদা দেবে মিলায়ে।

*********

আঠারো

ভাবনা

ফাহমিদা ফাহমি

সন্ধ্যার আকাশ ভেঙে পরে
নদীর জোছনায়
জলের অতলে ,
তুই নাই বলে !

আমার হৃদয় ছোঁওয়া
জানি ভীষণ সহজ ,
তেমন সহজ কি
তোকে ভোলা ?
আলোক বর্ষ জুড়ে বেদনার
দিয়েছি যে তোকে
লাবন্য ময়ী উপহার,
দুঃখ উৎসবে তাই
নিরন্তর পথ চলা ।

নির্জন মাঝরাতে
নিরবে কোথায়
সেই প্রেম বারবার
নাড়া দিয়ে যায় ,

ভালবাসা জানি আমি
বরই সহজ,
তারচেয়ে সহজ
দুখ পাওয়া ,
উষ্ণতা ছুঁয়ে চলে
বিমূর্ত নীল রাত,
জানি সব চেয়ে সহজ
চলে যাওয়া ……।।

**********

উনিশ

জীবন গড়ার ছড়া

আব্দুল্লাহ আল মামুর

ভয় কি তোমার হয়?
এমন দিনের যেদিন তোমার
আপন কেহ নয়!

পাহাড় সমান ধন-সম্পদ
লাগবে নাকো কাজে
ছেলে মেয়ে সবাই যাবে
পালিয়ে ভয়ে লাজে!

হারিয়ে যাবে তোমার থেকে
অনেক অনেক দূরে!
বুকের ভিতর ব্যথার বাঁশি
বাঁজবে করুণ সুরে!

চিন্তা তোমার হয়?
সৎকর্ম ছাড়া তোমার
নিজের কিছুই নয়!

**********

বিশ

পদ্মা নদীর পাড়ে

হোসনে আরা মেঘনা

প্রাণের শহর রাজশাহী মোর
নির্মল বায়ু বহে বেঘোর
প্রশান্তি মোর ছড়িয়ে যায়
পদ্মা পাড়ে যবে দাঁড়াই।

কবি কবি গল্পের ঝুড়ি
কথার সাজে কাব্য গড়ি
পদ্মার বিশাল উঠান জুড়ি
ভাসাই দিলাম কাব্য তরী।

শেষ সীমান্তে নোঙর ফেলি
ফুচকার প্লেটে ছন্দ তুলি
লেখার যত অলিগলি
খুলে দিলাম গোপন থলি।

পাস্তা, কফি ফাটা- ফাটি
চায়ের চমক্ চম্ চম্ খাঁটি
চট্ পটি বাটি চাটা-চাটি
তবু আভার কান্নাকাটি।

মা মেয়েতে অনেক ঘুরে
নিলাম কিছু বাজার করে
ক্লান্ত দেহে শান্ত মনে
এলাম ফিরে অন্তপুরে।

**********

 

সংকলনে-

শারমিন আকতার- চিফ এডমিন মহীয়সী ।     

আরও পড়ুন