আপনার আঁচলে ঢাকুন বিবস্ত্র বাংলার লজ্জাকে

নারীর জীবনে নির্ভরতার স্থান বা সহায়ক হিসেবে সবসময়েই পুরুষ থাকে।
বাবা,ভাই,স্বামী,পুত্র,বন্ধু— বিভিন্ন তার রূপ।
বিপদে,অসহায়তায়, দুর্যোগে বা প্রয়োজনে এই সকল পুরুষেরা পাশে থাকে,হাত ধরে।
প্রকৃতি নারীকে শারীরিকভাবে অপেক্ষাকৃত কোমল করে গড়েছে।
পেশী শক্তিতে সে পুরুষের পেছনের সারিতে।
কিন্তু ধৈর্য, সহ্যশক্তির পরিমাপে সে ছাড়িয়েছে পুরুষকে।
এটা সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টির সৌন্দর্যের ভারসাম্যের নীতি।
পুরুষের কাঠিন্যকে শুষমায় সাজায় নারীর লাবন্য।
আজ নারীর সেই লাবন্য,কোমলতাই তার বড় শত্রু হয়ে দেখা দিয়েছে।
নারীত্বই আজ নারীর সবচেয়ে বড় লজ্জা,অপমান আর যন্ত্রণার কারণ!!
আজ নারীর প্রতি সহিংসতা,নৃশংসতা সারাদেশে সংক্রামক রোগের মত ছড়িয়ে পড়েছে।
আমরা লজ্জিত,মর্মাহত,ব্যথিত…
রাস্তার মোড়ে মাইক হাতে গলা ফাটিয়ে বিচার চাইছি,
ফেসবুকের প্রোফাইল কালো করে অনেকের মত আমিও ধিক্কার জানাচ্ছি।

কিন্তু প্রশ্ন,
কার কাছে বিচার আশা করছি আমরা এবং কেন??
যে ঘটনাগুলো ধারাবাহিকভাবে ঘটে চলেছে,
সেগুলো কিন্তু গোপন থাকেনি।
সোস্যাল মিডিয়ার কল্যাণে ছড়িয়ে পড়েছে দ্রুত।
যারা দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন,
যারা প্রশাসক,
যারা হর্তাকর্তা,দন্ডমুন্ডের মালিক…
তাদের তো চোখে ঠুলি,কানে তুলো নেই।
তারা সব জেনেছেন নিশ্চিত।
তারা কি আদৌ নিশ্চুপ!!
তারা কি অপেক্ষা করছেন??
অপেক্ষা করছেন জনগনের দাবীর…!!
সাধারণ মানুষ পথে নেমে চেঁচাবে,
যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ঝড় তুলবে,
কড়া ভাষা প্রয়োগে উচ্চমানের কলাম লিখবে,
তবেই ধর্ষিতাদের বিচারের রথের চাকা গড়াবে…!!!

# # একটু অন্য কথা বলি।
ধর্ষণ পৌরুষের সার্টিফিকেট!
যে ধর্ষণ করতে সক্ষম সে নিঃসন্দেহে দাপুটে পুরুষ।
আর দলবেঁধে যারা সেই পুরুষোচিত ধর্মটি করে তারা তো সম্মিলিত পুরুষ!!
তা সেই পুরুষ সিংহরা নিজেদের শৌর্য, বীর্য এবং ক্ষমতা প্রমান করার জন্য দিনে দিনে আরও বেশি এ্যাডভেঞ্চারে জড়াচ্ছেন,
নিচ্ছেন কঠিন থেকে কঠিনতর চ্যালেঞ্জ…!!
আগে নির্জন পথে,অন্ধকারে,অসহায় একলা মেয়েরা ধর্ষণের শিকার হতো।

তারপর জনবহুল এলাকায়,
চলন্ত জনপরিবহনে,

আর এখন ঘরের দুয়ার ভেঙ্গে ঘরের ভেতরে…
স্বামীর উপস্থিতিতেই নারী নিপীড়িত।

স্বামীর সাথে বাইরে গেলেও নারীর নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ স্বামী।

ঘরের ভেতরে মা বাবার সামনেও মেয়ের নিরাপত্তা নাই।

যেন নারী মানেই একতাল সতেজ মাংস,
শিশ্ন সম্বলিত পুরুষ মানেই শ্বাপদ,
সেই মাংসের অধিকার তার!!

আমার প্রশ্ন শুধু নারীই কি ধর্ষিতা হচ্ছে!!
অসহার যে পুরুষ চোখের সামনে স্ত্রী,কন্যা,মা,বোনকে গণধর্ষিত হতে দেখছে তার পৌরুষ কি ধর্ষিত নয়!!
সেই পিতা/ স্বামী/ভাই/ পুত্র কি জীবন্মৃত এক সত্ত্বা নয়!!!
যে পুরুষ “আমার ঘর তো নিরাপদ “বলে আজ পাশ কাটাচ্ছেন তিনি কি নিশ্চিত তাকে এমন কোন নারকীয় অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হবেনা??

নগরে যখন আগুন লাগে তখন দেবালয়ও রক্ষা পায় না।

## আমি ধর্ষকের মা, বোন,কন্যাকে বলছি,
যে দানব আপনাদের ছত্রছায়ায় বেড়ে উঠেছে,
তা এখন বিষাক্ত করছে সমস্ত বাতাস।
তাদের মনুষ্যত্ব বহু আগেই বিলুপ্ত হয়েছে।
আপনারাই এবার ঢাল নিয়ে তাদের মুখোমুখি হোন।
নইলে যখন হাতের নাগালে অন্য নারী পাবেনা তখন আপনারাই সহজলভ্য মা, বোন,কন্যা হবে তাদের লালসার শিকার।
একবার নরমাংসের স্বাদ পেলে বাঘ যেমন অন্য পশু শিকার বাদ দিয়ে নরখাদক হয়ে ওঠে,
তেমনি ধর্ষণকারীর কাছে নারী মানেই জোরপূর্বক সম্ভোগের বস্তু,
মা,বোন, কন্যা নয়।

## এবার আকুল আবেদন জননেত্রীর কাছে।
আপনি মা, বোন,কন্যা।
আমাদের নারীদের ভরসার জায়গা।
এদেশের নারীরা আজ বিবস্ত্র,রক্তাক্ত..
বিবস্ত্র বাংলা মা,
হে বঙ্গবন্ধু কন্যা,
পিতার যোগ্য উত্তরসুরী…
দেশ আজ আবার শকুনের থাবায় !
পিতার মতই আরেকবার কন্ঠে আনুন সিংহনাদ!
ইস্পাতদৃঢ় তর্জনী তুলে আরেকবার ডাকুন বাঙ্গলার মানুষকে।
আপনার বজ্রকন্ঠে আবার জাগবে বাঙ্গালী,
একদা বাংলা মায়ের সম্ভ্রম রক্ষায় মরণপণ
লড়াই করা বাঙালী আবার একজোট হবে বাঙলার মা,বোন,কন্যার সম্ভ্রম রক্ষায়।
সকল ধর্ষণকারীকে পিষে ফেলে কলঙ্কমুক্ত করবে এই পবিত্র ভূমিকে।
দয়া করুন মাতা,
আপনার আঁচলে ঢাকুন বিবস্ত্র বাংলার লজ্জাকে।

লেখকঃ সৈয়দা সুরভি রহমান, কবি ও সাহিত্যিক।

 

আরও পড়ুন