পরিবেশ বনাম পলিথিন

 

পলিথিন আধুনিক বিশ্বের এক আতঙ্কের নাম। পৃথিবীতে যত মানুষ ক্যান্সারে মৃত্যু বরণ করে আর প্রায় ৩৫% প্লাস্টিক বা পলিথিনের প্রভাবে।

এক সময় যখন কাপড় এবং কাগজের ব্যাগ ব্যবহার হতো তখন প্রচুর গাছ কাটা হতো কাঁচা মাল হিসাবে ব্যবহারের জন্য। তাই কাগজের বা কাপড়ের ব্যাগের বিকল্প কি হতে পারে এটি ভাবতে থাকল বহু দেশ।

১৯৫৯ সালে সুইডেন প্রথম পলিথিন ব্যবহার শুরু করে। যা শক্ত এবং দীর্ঘ মেয়াদী সেবা দেবে।
সুবিধা গত দিক বিবেচনা করা হলো –

গাছ নিধন বন্ধ হবে।
দীর্ঘ দিন সার্ভিস দেবে।
অর্থনৈতিক সাশ্রয় হবে।
ওজনে হালকা হেতু বহন সুবিধা নিশ্চিত হবে।ইত্যাদি

এবার পলিথিনের ব্যবহার ছড়িয়ে পড়ল প্রায় ১৭ টি দেশে। পলিথিন সংরক্ষন এবং কি ধরনের পন্য ব্যবহার ক্ষতিকারক তা জানতো না অনেকেই।

১৯৬৫ সালে পরিবেশ বিজ্ঞানী অধ্যাপক মার্গারেট প্রকাশ করল হৃদয় বিদায়ক তত্ত্ব –
“পলিথিনের প্রভাবে নষ্ট হচ্ছে খাদ্য গুণ।”
পরে আরো কিছু ক্ষতিকারক বিষয় উঠে এসেছে –

খাদ্যের সাভাবিক গুণাগুণ নষ্ট হচ্ছে।
মাটিতে পলিথিন বা প্লাস্টিক মিশে না।
রেডি নরম খাবার পলিথিনে কার্বন ড্রাই অক্সাইড জমা করে।
মাটির লেভেলেশন তৈরি করছে ফলে-
পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

পলিথিন এবং প্লাস্টিকের সুবিধা – অসুবিধা প্রকাশ পেতে না পেতেই এটি বিশ্বের ২৯ টি রাষ্ট্রে ছড়িয়ে গেল।

বিংশ শতাব্দীর প্রথম থেকে পলিথিন নিমূলের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ব পরিবেশ সংস্থা।
এটিই প্রমাণিত হয় পলিথিন উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি।
আমাদের দেশ পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে এটি নিষিদ্ধ করলেও প্রায় দেড়যুগেও এর কোন বাস্তবায়ন হয়নি।

জীবনও পরিবেশ বাঁচতে পলিথিন আর প্লাস্টিক সঠিক ব্যবহার একান্তই জরুরী।
পলিথিন বর্জন করতে না পারলে দেশবাসীকে একদিন অনেক বড় খেসারত দিতে হবে।।

(মহীয়সীর কলাম)

লেখকঃ আব্দুল মতিন, কবি, সাহিত্যিক ও কলামিস্ট।

আরও পড়ুন