পিতামহ- আরবের প্রাচীন ইতিহাসের কথা বলে

এম আর রাসেল 

সাব্বির জাদিদ রচিত পিতামহ উপন্যাসের প্লট নির্মিত হয়েছে আরবের মরুভূমিতে। মক্কা, মদিনা, কাবা, তায়েফ, ইয়েমেন ও আবিসিনিয়ার পথ প্রান্তরে ঘুরে বেড়ানোর জন্য এই রচনা এক উত্তম মাধ্যম সন্দেহ নেই।

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পিতামহ আব্দুল মোত্তালিবের জীবনকাহিনী বর্ণনা এই উপন্যাসের মূল আকর্ষণ। উপন্যাসের শ্রেণীবিন্যাসে এটি ইতিহাসনির্ভর রচনা।

আজ থেকে ১৫০০ বছর পূর্বের আরবের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক পরিবেশ ও অন্যান্য ঘটনার বিবরণ গল্পকথায় সজীব হয়ে উঠেছে। জাহেলী যুগের নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতার চিত্র রূপায়নে লেখক যে মুনশিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন তা অতুলনীয়। উপন্যাসটি তিনটি পর্বে বিভক্ত।

মক্কা পর্বের প্রতিটা গল্পে তৎকালীন আরবের চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে। তালহা ও কায়েসের দাস জীবন ও এর থেকে মুক্তিলাভ, দাস ও মনিব কন্যার প্রকাশহীন মিষ্টি মধুর ভালবাসা, খান্দামা পাহাড় কন্যা হুমায়রা ও দাস কায়েসের হৃদয় বিদারক ভালবাসা কথন, বনু হাশিম ও বনু উমাইয়া গোত্রের রেষারেষি, স্বপ্নযোগে জমজম কূপের সন্ধান ও মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব, মরূভূমি আন নুদুফুল কাবিরে অলৌকিক ঘটনা, আব্দুল মোত্তালিবের জমজমের মালিকানা লাভ, শাইবা থেকে আব্দুল মোত্তালিব হয়ে উঠা, ওকাজ মেলায় কাব্য সম্মেলন, হুমায়রা ও কায়সের নির্মম হত্যা, তালহা কর্তৃক উমাইয়ার পুত্র হত্যা, উমাইয়া কন্যা সাফিয়ার সহায়তায় তালহার পলায়ন প্রভৃতি ঘটনা মাঝে বিধৃত গল্প এক অপার্থিব আনন্দে পাঠককে আপ্লুত করবে এ রায় দেয়াই যায়।

ইয়েমেন পর্বের গল্পগুলোও আমাদের সামনে ইতিহাসের নানা ঘটনার ডালি সাজিয়ে হাজির হয়। ইহুদী শাসক জুনুয়াস ও লাখানিয়ার কাহিনী, লাখানিয়ার সমকামিতার গল্প, নাজরান শহরের ফায়মিউন নামক বুজুর্গ ব্যক্তির খ্রিস্টধর্মের প্রচার, জুনুয়াসের অত্যচারী শাসক হয়ে উঠা, আবিসিনিয়ার সম্রাট কালিবের নির্দেশে সেনাপতি আরিয়াতের ক্ষমতা দখল, মাআরিবে তালহার আগমন, গভর্নর আবরাহার ভাতিজি হামামার সাথে তালহার পরিচয়, আবরাহার গুপ্তচর হিসেবে তালহার ছদ্মবেশ,আবরাহার কূটকৌশলে সম্রাট আরিয়াতের পরাজয়, সাবা সম্প্রদায় কর্তৃক নির্মিত বিখ্যাত বাঁধ ভেঙে সানা শহরে প্লাবন, তালহার কারাবরণ ও আলৌকিক সাহায্যে মুক্তিলাভ এর মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয় এই পর্ব।

যৌথ পর্বের ঘটনায় কাবা ধ্বংসের ঐতিহাসিক ঘটনার বিবৃতি পাওয়া যায়। কারাগার থেকে পালিয়ে আহত অবস্থায় তালহার স্থান হয় এক বেদুইন পল্লীতে। কালক্রমে তালহা হয়ে উঠে বেদুইন পল্লীর সর্দার। এর সাথে বর্ণিত হয়েছে আরবাহার ২ য় কাবা তৈরির ঘটনা, বেদুইন পল্লীর কষ্টগাথা,, শাইবা পুত্র আবদুল্লাহর কোরবানি, মদীনায় সম্ভ্রান্ত বংশে আমিনার সাথে আবদুল্লাহর পরিণয়, তালহা ও মাইমুনার প্রণয় ও পরিণয়, আবরাহার মক্কা অভিমুখে যাত্রা শুরু, তালহার বধূর মৃত্যু, ৬০ হাজার আবিসিনীয় বাহিনীর নির্মম পরাজয়, আবাবীল পাখির নুড়ির আঘাতে আবরাহার সহ অনেকের মৃত্যুবরণ, দৈব্যক্রমে হামামার বেঁচে যাওয়া ও দাসত্ব বরণ, তালহা ও সাফিয়ার আকস্মিক মিলনে উপন্যাসের যবনিকাপাত.

পুরো উপন্যাসের ঘটনা প্রবাহ পাঠককে টানটান উত্তেজনায় জাগরুক রাখবে এতে সন্দেহ নেই। গল্পের প্রধান চরিত্র তালহা না আব্দুল মোত্তালিব তা চিহ্নিত করতে পাঠককে বেশ বেগ পেতে হয়।

পুরো উপন্যাসজুড়ে তালহার সর্বময় উপস্থিতি চরিত্রটিকে প্রধান রূপে সামনে হাজির করে। তবে গভীরদৃষ্টি নিক্ষেপ করলে দেখা যায়, তালহা নামের কাল্পনিক চরিত্রকে সামনে রেখে লেখক ইতিহাসের এক বাস্তব চিত্রকে রূপদান করেছেন। মূল ঘটনা সবসময় আব্দুল মোত্তালিবকে ভিত্তি করেই শাখা প্রশাখা ছড়িয়েছে। এ দিক বিবেচনায় উপন্যাসের মূল চরিত্র শাইবা ওরফে আব্দুল মোত্তালিব।

তালহার কষ্টকর দাস জীবন মরু অঞ্চলের নির্মম ঐতিহ্যকে মানসপটে জীবন্ত করে তোলে। মক্কার তপ্ত মরুর বুকে পায়ে হেটে পথ চলার কল্পভাবনা করলেই গা শিউরে উঠে। তপ্ত রোদে খালি গায়ে হাতের দুই তালুতে পাথর নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা, মক্কা থেকে ইয়াসরিব এ তালহার  পথ চলার ঘটনা অনুভূতিপ্রবণ প্রতিটি মানুষের নেত্র বারিতে ভিজিয়ে তুলে। হুমায়রা ও কায়সের মৃত্যুর হ্রদয়বিদারক ঘটনাও হৃদয় কোণে ব্যথার নহর জাগিয়ে তোলে।

তালহা ও কায়েসের মনিবকূলের আচরণগত পার্থক্য সমাজে ভাল ও খারাপ শ্রেণীকে চিহ্নিত করে। উমাইয়ার পুত্র সুফিয়ানের মত বিত্তবান মানুষ কতই না অত্যাচার চালিয়েছে । কায়েসের মায়ের মত কত রমণীকে নিরুপায় হয়ে গণিকাবৃত্তিতে নাম লিখাতে হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। কায়েস ও তালহার চরিত্রের পরিচয় দাস। দুইজনের জীবন এক চলমান ট্র‍্যাজেডির করুণ প্রতিচ্ছবি। তালহা ও কায়েস দুইজনই ভাগ্যের রথে চড়ে দাসত্বের ঘোড়া ছুটিয়েছে। 

তালহার প্রতি সাফিয়ার আবেগিক উদ্দামতা ও অনুরাগ পাঠককে খানিক সময় রোমান্টিকতার সাগরে ভাসিয়ে দেয়। কায়েস ও হুমায়রার মধ্যরাতের প্রেমালাপ অনেক দুঃখগাথার মাঝে টুকরো গোলাপ হয়ে সুবাস ছড়িয়ে যায়। অন্যদিকে হামামা ও মাইমুনা চরিত্রের আর্বিভাব উপন্যাসের গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করে। হামামার প্রতি তালহার কৃতজ্ঞতার ফুল সুবাস না ছড়িয়ে কাটার খোচানিতেই পূর্নতা লাভ করেছে । ক্ষণিক সময়ে মাইমুনার ভালবাসার স্রোতে তালহার ভ্রমণ যাত্রা গন্তব্যে নোঙর করার পূর্বেই অসীমের গর্ভে তলিয়ে যায়। তালহা, সাফিয়া, হামামা, মাইমুনা এই চার চরিত্রের ট্র‍্যাজিক উপস্থাপনা উপন্যাসের সার্থক বিকাশে প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে।

উপন্যাসের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র শাইবা ওরফে আব্দুল মোত্তালিব পুরো উপন্যাস জুড়েই যেন ছায়ার মত সুনীল আকাশ হয়ে ভেসে বেড়িয়েছে।   তাঁর অমায়িক ব্যবহার, দাসের প্রতি সন্তানসুলভ ভাব প্রদর্শন, নীতির প্রশ্নে পাহাড়সম দৃঢ়তা, সমস্যা সমাধানে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অনুসরণ, দুঃখী মানুষের প্রতি হৃদয় উৎসারিত পবিত্র আবেগ সবই ছিল সুন্দরের মোড়কে জড়ানো কালিক উপাখ্যান।

আব্দুল মোত্তালিব চরিত্রের গুণগ্রাহী বৈশিষ্ঠ্যের সমুজ্জল উপস্থাপনা উপন্যাসে একটি বলিষ্ঠ প্লট নির্মাণ করেছে। মদিনায় জন্ম নেয়া হাশিম ও সালমার গর্ভজাত সন্তান শাইবা কিভাবে আব্দুল মোত্তালিব (মোত্তালিবের দাস) হয়ে উঠে তার বিস্তারিত বর্ণনা উপস্থাপনায় লেখকের কারুকাজ প্রশংসার দাবি রাখে।  

মুসলমানদের আবেগ ও ভালবাসার স্থান মক্কা, মদিনা, তায়েফ, মিনা, মুজদালিফা, আরাফা শব্দের হরফে সুবাসিত ফুল হয়ে ফুটেছে পুরো উপন্যাসে। 

মক্কা পর্বের প্রতিটি ঘটনা জাহেলী যুগের একটি পরিপূর্ণ চিত্র উপস্থাপন করেছে সন্দেহ নেই। মেয়েদের জীবন্ত কবর দান, গোত্রীয় কোন্দল, পৌত্তলিক আচার আচরণ সেই সময়কে নিখুঁতভাবেই তুলে ধরে। উড়নি অনুষ্ঠান, কুমারিত্ব প্রমাণের জলসা অনুষ্ঠান ঐ সময়ের অদ্ভূত সব প্রথাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

অন্যদিকে দারুণ নাদওয়ার বৈঠক, জমজম কূপের মালিকানা নির্ধারণে শাম যাত্রা অনেক কুপ্রথার মাঝেও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকেই স্পষ্ট করে তোলে। আরবদের কাব্যপ্রেম প্রমাণ মেলে ওকাজের মেলার কাব্য সম্মেলনে। 

ইয়েমেন পর্বের গল্পগুলো আমাদের সামনে ইতিহাসের নির্মম দিকটাই পরিস্ফুট করে তোলে। জুনুয়াস, লাখানিয়া, আরিয়াত, আবরাহা এই চারজনই মূলত একই চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে। লাখানিয়ার সমকামিতা, জুনুয়াসের আগুনে মানুষ পুড়িয়ে মারা, আরিয়াতের ইয়েমেন শহরে ধ্বংসলীলা চালানো, আবরাহার জনগণকে ধোঁকা দেয়ার কৌশল, যৌথ পর্বে কুলাইস গির্জা নির্মাণে রক্তপিপাসু মনোভাব -এসব সবই জালেম শাসকের প্রতিচ্ছবি মূর্তমান করে তোলে। তখন তালহার সুরের অনুকরণে মন বলে উঠে- জুলুমের ছায়া সারা পৃথিবীতে বিস্তার লাভ করেছে।  

যৌথ পর্বের গল্পগুলো উপন্যাসের অন্তিম মুহুর্তের পথকে প্রশস্ত করেছে। আবরাহার কাবা আক্রমণের খবরে ভীত সন্ত্রস্ত মক্কা বাসীকে আশা জাগানিয়া গান শুনিয়েছেন আব্দুল মোত্তালিব। তাঁর নির্ভয় কণ্ঠের দৃপ্ত উচ্চারণ “আমি উটের মালিক, তাই আমার চিন্তা উট নিয়ে।  কাবাঘরের যিনি মালিক, তিনি তার ঘর সামলাবেন” সর্বাবস্তায় আল্লাহর উপর ভরসা স্থাপনের প্রেষণা জুগিয়ে যায়।

তালহার প্রভাব এখানেও বেশ সরবই ছিল। তবে সব কিছু ছাপিয়ে এখানে আবরাহার বাহিনীর বিপর্যয় ঘটনাই যেন মূল আর্কষণ হয়ে সামনে ছিল। আল্লাহর কুদরতি মুজিযায় আবরাহার পতন ঘটনা যুগ যুগ ধরে অবিশ্বাসীদের জন্য উজ্জ্বল এক দৃষ্টান্ত হয়ে রবে।

সর্বোপরি ইতিহাসের শব্দকথায় পুরো উপন্যাস জুড়ে লেখক যে চমক দেখিয়েছেন তা সত্যিই চমকৃত করে। তবে রোমান্টিক বর্ণনায় কিছুটা রাখঢাক বজায় রাখা উচিত ছিল বলে মনে হয়। যদিও এর ব্যপ্তি অতি অল্পই ছিল, তথাপি এমন রোমান্টিক শব্দালাপ হৃদয়ে শিহরণ জাগিয়ে দিতে যথেষ্ট। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানের উপলব্ধির আরশিতে এই বিষয়টা অল্প স্বল্প দাগ কেটেছে। সাহ্যিতিক সমালোচনায় এটা বেমানান বটে, তবে আমি মনে করি সুস্থ সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারে এই দিকটাতে বাজপাখির দৃষ্টি নিক্ষেপ করা উচিত।

সবশেষে একটি কথাই বলব,গতানুগতিক সস্তা আবেগের বস্তাপচা গল্পের ভিড়ে সাব্বির জাদিদের “পিতামহ” আশার বৃষ্টিকণা হয়ে হাজির হয়েছে। এর প্রতিটি ফোটা পাঠক হৃদয়ে বিশুদ্ধ এক যমযম কূপের জন্ম দিবে এমনটাই প্রত্যাশা করি৷

পছন্দের কিছু উক্তিঃ

“ক্রীতদাসের সাথে পশুর মত আচরণ করা যদি হয় আরবদের ঐতিহ্য, সেই ঐতিহ্য নষ্ট হলে আমি দুঃখিত হব না।”

“কেউ যদি তোমাকে এক পেয়ালা পানি দিতে কার্পণ্য করে, তুমি তাকে একটা ঝরনা দেবার মতো উদার হও।”

“এটাও মায়েদের একটা গুণ। তারা সন্তানের মাঝারি মানের প্রতিভাতেই মুগ্ধ হয়ে যায়।”

“ভালোবাসার তীব্রতা কখনো কখনো মানুষকে খুনি বানিয়ে দেয়।”

“মানুষের বাইরের চেহারা দেখে বোঝা যায় না, চামড়ার ওপাশে কত রকম গল্প লুকিয়ে থাকে।”

“সম্পদ চেহারা, কিংবা প্রতিপত্তি নয়; বরং মানুষের ভালবাসাগুলোই জীবনের প্রাপ্তি। সম্পদ মৃত্যুর সাথে সাথে সন্তানদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হয়ে যায়। রয়ে যায় কেবল ভালবাসা, যেগুলো মানুষ বুকে যত্ন করে রেখে দেয়।”

“আরবদের শিরা দিয়ে রক্ত নয়, বয়ে চলে রক্তের স্রোত”

“উচ্চাকাঙ্ক্ষা হলো পিচ্ছিল বস্তু। শুধু ফসকে যায় হাত থেকে। তাকে ধরার জন্য শক্ত জাল ছড়াতে হয় চারপাশে। যেন জাল থেকে পিছলে যেতে না পারে।”

“পৃথিবীর মানুষই হলো আসল দর্শনীয় বস্তু। একটা পাহাড় কিংবা একটা নদী তুমি দেখে শেষ করতে পারো, কিন্তু মানুষ দেখে শেষ করতে পারবে না। ঈশ্বর কত রকম বৈচিত্র্য যে দিয়েছেন মানুষের ভেতর।”

“মানবতার গলা টিপে ধরেছে যে হায়েনার হাত, সেই হাতকে ভেঙে দিতে আসবে কি কোনো মহান নায়ক?”

“পৃথিবীতে তীব্র ভয় কিংবা তীব্র ভালবাসা কোনটার অনুভূতিই বেশিদিন থাকে না।”

“কিছু মানুষ হয় পাথরের মতো, এদেরকে কোন ছাঁচে ফেলেই গড়া যায় না”

“উপেক্ষার চেয়ে বড় প্রতিশোধ আর কিছুতে হতে পারে না”

“সময় এক নিষ্ঠুর খাদক। ভেড়ার পাল ঘাস খেয়ে চারণভূমি উজাড় করে ফেলে, তেমনি সময় খেয়ে ফেলে আমাদের আয়ু”

“আজকের বিলাসিতা আগামীকালের দুর্ভিক্ষের কারণ হতে পারে”

“একটা সময় মানুষ স্মৃতি নিয়েই বাঁচে। যার স্মৃতি যত সমৃদ্ধ, তার জীবন তত সুন্দর”।

“মানুষের জীবনে শৈশব এক আশ্চর্য সম্পদ। চেতনে এবং অবচেতনে মানুষ বারবার শৈশবের কাছে ফিরে যায়। তাইতো একই গল্প বারবার বলা হলেও মনে হয় এবারই প্রথম”

“এমন এক পৃথিবীর স্বপ্ন কি আমরা দেখতে পারি না, যেখানে কোনো রক্তপাত থাকবে না। রাজা- প্রজা, ধনী দরিদ্রদের কোনো ব্যবধান থাকবে না। সকল মানুষ একই দস্তরখানে বসে খানা খাবে আর সবাইকে ভালবাসবে”

” পানি আর খাবারের জন্য যাদেরকে প্রতি মুহুর্তে ভাবতে হয়, বাইরের দুনিয়ার খবর রাখতে চাওয়া তাদের জন্য এক ধরণের বিলাসিতা”

” জীবনে সব চাওয়া পূর্ণ হতে নেই। যে জীবনে কোনো দ্বীর্ঘশ্বাস নেই, নেই বেদনার হা হুতাশ, সে জীবন সাদাকালো, মহিমাহীন।”

“কাজের ফাঁকে জীবনের অপ্রাপ্তিগুলোর গায়ে মমতার হাত বোলানো, গড়তে গড়তে ভেঙে যাওয়া সম্পর্কের জন্য হাহাকার করে ওঠা – এই তো সৌন্দর্য বেঁচে থাকার”

লেখকঃ কলাম লেখক ও কৃষিবিদ

আরও পড়ুন