বুক রিভিউঃ মেঘপিওন

-মৌলি আখন্দ

“প্রতিশোধ” আর “হৃদমোহিনী”র পর রেশমি রফিকের তৃতীয় প্রকাশিত উপন্যাস “মেঘপিওন”। প্রথম দুটোর মত এবারেও লেখক তার সাফল্য বজায় রেখেছেন।
কাহিনী সংক্ষেপঃ
গল্পটা একজন মেয়ের। মেয়েটির নাম তারিন যে আর দশটা স্বাভাবিক মেয়ের মতই ছিল। প্রেম করার অপরাধে উপমহাদেশের আরও অনেক মেয়ের মতই যার বাবা তাকে ধরে বিয়ে দিয়ে দিয়েছিলেন মারুফের সাথে।
সবকিছুই স্বাভাবিক হতে পারত, যদি মারুফের আগের পক্ষের মেয়ে মিতি না থাকত। প্রথম দর্শনে তীব্র বিতৃষ্ণা জাগলেও মিতির প্রতি তারিনের অনুভূতি পরে কেমন ছিল? জানতে হলে পড়তে হবে বইটি।
গল্পটা শুধু একজন মেয়ের নয়, গল্পটা একজন মেয়ে থেকে একজন মা হয়ে ওঠার। একজন তরুণীর পরিণত নারী হয়ে ওঠার।
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
রেশমি রফিক প্রেমের গল্প লেখায় সিদ্ধহস্ত, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আগের দুটির মত এই বইটিও ইতোমধ্যেই পাঠক হৃদয় জয় করে নিয়েছে।
গল্পটা নারী পুরুষের ভালোবাসার, যেখানে পারস্পরিক সম্মান আর বিশ্বাসটুকু আজীবন অক্ষুণ্ণ থাকার প্রতিশ্রুতি আছে। একটা স্বচ্ছ প্রেমকাহিনীর ভেতর আছে কিছু অব্যক্ত শব্দমালা, কিছু লুকানো অনুভূতি যা উঠে এসেছে একজন মেঘপিওনের হাত ধরে।
কিছু মন্তব্যঃ
এটা ঠিক ভুল বা সমালোচনা না, মন্তব্য। আমার কাছে মনে হয়েছে “মেঘপিওন” শব্দটা গল্পের শেষে একদম হঠাত করে এসেছে। আগে একবার শব্দটা কোনো এক সংলাপে বা অন্য কোথাও ঢুকিয়ে দেওয়া যেত। তাহলে পাঠকের সাথে শব্দটির আবেগী সংযোগ আরও ভালোভাবে স্থাপিত হতে পারত। এখানে একটু গ্যাপ থেকে গেছে বলে আমার মনে হয়।
বইয়ের প্রিয় অংশঃ
ততক্ষণে সূর্য ডোবার প্রস্তুতিপর্ব শুরু হয়েছে। পশ্চিমের আকাশ সেজেছে গোধূলির রঙে। দিনভর রোদ ছড়ানো সূর্যটা ক্লান্ত-বিধ্বস্ত। টকটকে লাল রঙ ধারণ করে বিশ্রামে যাবার আয়োজন করছে। এদিকে মেঘেরাও আকাশে ভিড় করতে শুরু করেছে। থোকায় থোকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নরম পেঁজা তুলোর খণ্ডগুলো একত্রিত হবার চেষ্টা করছে।
যারা রেশমি রফিকের বই পড়তে পছন্দ করেন কিংবা প্রেমের উপন্যাস যাদের ভালো লাগে তাঁরা অবশ্যই সংগ্রহে রাখতে পারেন বইটি।
এক নজরেঃ
বইয়ের নামঃ মেঘপিওন
লেখকঃ রেশমি রফিক
প্রকাশনীঃ পেনসিল পাবলিকেশন্স
প্রচ্ছদঃ তুহিন হাসান
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ২৮০
মলাট মূল্যঃ ৫৫০ টাকা
(ছবি: Nurjahan Akter)

আরও পড়ুন