বুক রিভিউঃ সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও প্রতিরোধ

আল মারুফ

“সুপ্রীম সোভিয়েতেরর পলিট ব্যুরোর সদস্য মানবেন্দ্র নাথ (এম এন রায়) তার বিখ্যাত গ্রন্থ The Historical role of Islam নামক বই এ লিখেছেন—মসুলমানদের কাছ থেকে জ্ঞান আহরণ করেই য়ুরোপ(ইউরোপ) আধুনিক সভ্যতার অধিনায়ক হয়ে রইলো। এমনকি আজও তার শ্রেষ্ঠ মনীষীরা অতীত ঋণের এই বোঝা স্বীকার করতে সঙ্কুচিত হন না।দুর্ভাগ্য আমাদের, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ইসলামের সংস্কৃতি সম্পদ থেকে ভারত তেমন উপকৃত হতে পারেনি।কেননা অনুরুপ সম্মানের অধিকারী হবার যোগ্যতা তার ছিল না এখনও এই বিলম্বিত রেনেসাঁর সৃষ্টি বেদনায় মানবেতিহাসের এই অবিস্মরণীয় অধ্যায় থেকে প্রেরণা সংগ্রহ করে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে ভারতীয়রা প্রকৃত লাভবান হতে পারে”।

কথাগুলো প্রক্ষাত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আরিফুল হকের “সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও প্রতিরোধ্” নামক বই থেকে নেওয়া হয়েছ।

তিনি বইটিতে শুধু আগ্রসনের কথায় তুলে ধরেন নি বরং এখান থেকে উত্তরণ বা প্রতিকারের বিষয়টাও তুলে ধরেছেন এবং খুব সুন্দর ভাবে সংস্কৃতির সংজ্ঞায়িত করেছেন।

তিনি বলেন……
“চিত্তের উৎকর্ষ সাধনই সংস্কৃতি ”

বর্তমান অবস্থার অবতারণা করতে গিয়ে বলেন,,,,,,

“আজ বাংলাদেশর সংস্কৃতির সর্বত্রই একটা বিকৃত রুচির ছাপ স্পষ্ট। অথচ এই অবতারবাদী সংস্কৃতি থেকে মুক্ত হয়ে নিজস্ব জাতিসত্ত্বা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য, ইসলামী মূল্যবোধ ও জীবনাচার নিয়ে বাস করার জন্যই মসুলমানরা নিজস্ব হোমল্যান্ড সৃষ্টি করতে বাধ্য হয়েছিল।”

তিনি আমাদের সংস্কৃতির অনন্য বৈশিষ্ট্যের কথা তুলে ধরতে গিয়ে বলেন,,,,,

“ইসলামি সংস্কৃতি নিছক আনন্দভোগের হাতে নিজেকে সমর্পণ করেনি,আনন্দের সাথে সাথে ত্যাগ ও সংযোম পালনের মাধ্যমে আদর্শ জীবন যাবনের নির্দেশ দিয়েছে।”

তিনি সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে একটি সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ বলেছেন।তার মতে যুদ্ধ বা আগ্রাসন তিন ধরণের

১ সামরিক আগ্রাসন
২, অর্থনৈতিক আগ্রাসন
৩,সাংস্কৃতিক আগ্রাসন

এটা স্পষ্ট কথা,
“সাংস্কৃতিক জাতিসত্ত্বা বজায় না থাকলে রাজনৈতিক স্বাধিনতা থাকে না।”

সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে-ই সভ্যতার ধারাবাহিকতার সোপান।তার মতে,,,

“ঐতিহ্যকে না মানলে সভ্যতার ধারাবাহিকতা ব্যহত হয়,মৌলিক সৃষ্টির অনুপ্রেরণা থাকেনা।”

“ঐতিহ্য হচ্ছে প্রত্যাশার রুপ, আকাঙ্খার ফসল।প্রত্যেক সভ্যতা তার সাফল্যের চুড়ায় উপনীত হয় ঐতিহ্য, চেতনা এবং নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে।”

তার ভাষ্যমতে, এই আগ্রাসন সম্পর্কে আমরাতো অবগত নই এমন কি আমরা যে আগ্রাসনের স্বীকার সেই ধারণাটাও নাই।

আমি শুধু বই এর কিছু অংশ তুলে ধরে এবং নিজের মত বর্ণনা দিয়ে বইটি সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার ব্যার্থ চেষ্টা করেছি মাত্র।প্রত্যেক সাংস্কৃতিক ব্যক্তির বইটি পড়া উচিত।

লেখক পরিচিতি:
আরিফুল হক (১৯৩৪)কে অভিনেতা হিসেবেই সবাই চিনিই। একসময় টিভির খুবই পরিচিত মুখ ছিলেন। তিনি প্রায় দু’শটির মত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। জাতীয় কয়েকটি দৈনিকে সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে নিয়মিত প্রবন্ধ লিখতেন। প্রায় দুই দশক ধরে স্থায়ীভাবে কানাডায় বসবাস করছেন চলচ্চিত্র, নাটক ও থিয়েটারের বর্ষীয়ান এ গুণী অভিনেতা। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবি হচ্ছেঃ ‘লালন ফকির’, ‘সারেং বউ’, ‘বড় বাড়ির মেয়ে’, ‘সূর্য কন্যা’, ‘সুন্দরী’, ‘সখি তুমি কার’, ‘কথা দিলাম’, ‘নতুন বউ’, ‘এখনই সময়’, ‘পিতা মাতা সন্তান’, ‘তোমাকে চাই’ ‘দেশপ্রেমিক’, ‘ঘৃণা’, ‘স্বপ্নের নায়ক’ ইত্যাদি। তিনি মাঝে মাঝে দেশে আসেন, অভিনয়ে যুক্ত হন। একসময় জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ‘ইত্যাদি’র নিয়মিত পারফর্মার ছিলেন তিনি।
বই এর নাম: সংস্কৃতিক আগ্রাসন ও প্রতিরোধ
PDF: https://www.google.com/url…
বইটি দেশজ প্রকাশনর
প্রথম প্রকাশ:২০০০ সাল
মূল্য:৮০ টাকা
পৃষ্ঠা: ৯৬

 

আরও পড়ুন