বাংলার স্থাপত্য রীতিতে নির্মিত নওগাঁর “কুসুম্বা মসজিদ”

শাহনেয়াজ আলী

“কুসুম্বা মসজিদ” নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার কুসুম্বা গ্রামে অবস্থিত। কুসুম্বা গ্রামের নাম অনুসারে এ মসজিদটির নামকরণ করা হয় । বাংলায় আফগানদের শাসন আমলে শূর বংশের শাসক গিয়াসউদ্দীন বাহাদুর শাহ-এর রাজত্বকালে জনৈক সুলায়মান ৯৬৬ হিজরিতে (১৫৫৮-৫৯ খ্রি.) মসজিদটি নির্মাণ করেন। তিনি শাসক গিয়াসউদ্দীন বাহাদুর শাহ-এর একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। মসজিদটি শূর আমলে নির্মিত হলেও এই মসজিদটি‌তে উত্তর ভারতে ইতঃপূর্বে বিকশিত শূর স্থাপত্যের প্রভাব দেখা যায় না, বরং এটি বাংলার স্থাপত্য রীতিতেই নির্মিত হ‌য়ে‌ছে। মস‌জিদ‌টির পূর্বদিকের কেন্দ্রীয় প্রবেশদ্বারের উপরে স্থাপিত আরবিতে উৎকীর্ণ শিলালিপি অনুসারে এ মসজিদের নির্মাণকাল জানা যায় ।

বর্তমানে এটি বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক সংরক্ষিত।মসজিদটির মূল গাঁথুনি ইটের তৈরী হলেও এর বাইরের দেওয়ালের সম্পূর্ণ অংশ এবং ভেতরের দেওয়ালে পেন্ডেন্টিভের খিলান পর্যন্ত পাথর দিয়ে আবৃত। এর স্তম্ভ, ভিত্তিমঞ্চ, মেঝে এবং পাশের দেওয়ালের জালি নকশা পাথরের তৈরী। মসজিদ টির পূর্ব দিকে তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণে একটি প্রবেশপথ রয়েছে । সূক্ষ্ম কারুকার্য খচিত পাথরের তৈরী স্তম্ভের উপর স্থাপিত এ খিলানগুলির শীর্ষে রয়েছে কলস মোটিফের অলংকরণ। স্তম্ভগুলির গায়ে রয়েছে ঝুলন্ত শিকল ঘন্টার নকশা। মিহরাবের ফ্রেমে রযেছে প্রায় সর্পিল আকারে খোদিত আঙ্গুর গুচ্ছ ও লতার নকশা। এ ছাড়া রয়েছে প্রায় বিন্দুর আকার ধারণকারী কলস, বৃক্ষলতা ও গোলাপ নকশা যা আমা‌দের দে‌শের ৫ টাকার নো‌টে এ স্থান পে‌য়ে‌ছে । এছাড়া প্লাটফর্মের প্রান্তেও রয়েছে আঙ্গুর লতার অলংকরণ। আর এ প্লাটফর্মের ভারবহনকারী খিলানের স্প্যান্ড্রিল এবং মসজিদের কিবলা দেওয়াল জুড়ে রয়েছে গোলাপ নকশা। বাইরের দেওয়ালে আস্তরণ হিসেবে ব্যবহূত পাথরগুলি অমসৃণ এবং এতে রয়েছে গভীর খোদাইকার্য।

লেখকঃ কলামিস্ট ও ভ্রমণপিয়াসী

আরও পড়ুন