আমার পাখি

 

আমার একটা পাখি ছিল,
পাখিটা ছিল আমার খুব আদরের
ভালোবাসার,অনেক আশার।
আমি তাকে বেশিদিন ধরে রাখতে পারিনি,
তাকে লালন করেছিলাম-
বুকের গহীনে অনেক যত্নে।
হটাৎ একদিন,
আমার বুকের পাঁজর ভেঙ্গে
সকল মায়ার বাঁধন ছেড়ে
পাখিটা আমাকে ফাঁকি দিয়ে উড়াল দিল,
অচেনা কোন গহীন বনে।
আমার মনটা ভেঙ্গে চৌচির হলো;
দিশেহারা হয়ে পাখিটাকে খুঁজলাম,
নাওয়া খাওয়া ভুললাম
শুধু খুঁজলাম আর খুজলাম,
কোথাও পেলাম না।
নোনা জলের বসতি হলো চোখে
শ্রাবন ধারায় ঝরলো আঁখি জল,
পাখিটাকে আর কোথাও খুঁজে
পাওয়া গেলোনা।
অবশেষে একদিন,
রাতের গভীরে চেতন-অবচেতনে
পাখিটাকে দেখলাম;
দেখলাম সে গুটিগুটি পায়ে আমার কাছে,
আমার মাথার কাছে বসে-
মিষ্টি কন্ঠে মা বলে ডাকছে,
আবেগে আমার দুচোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠলো;
অপার্থিব উচ্ছাসে বলে উঠলাম,
ওরে সোনা, মানিক আমার,
এতদিন কোথায় ছিলি?
ও বললো,
“মাগো, আমি থাকি অনেক দূরে,
ঐ সুদুরে নীল আকাশে
লক্ষ কোটি তারার দেশে,
রাত্রি হলেই ছুটে আসি তোমার কাছে।
নয়নভরে দেখি তোমার মায়াভরা মুখখানি
তুমি যে আমার মা জননী।
অনেক তোমায় ডাকি মাগো
অনেক তোমায় ডাকি!
তুমি তখন ঘুমিয়ে থাকো,
বিষন্নতায় ডুবে থাকো,
শোননা মোর ডাকাডাকি,
আমি তখন কাঁদতে থাকি,
তবুও তুমি শোন নাকো,
আমি তোমার পাখি মাগো!”

 

শাহানারা শারমিন- কবি  

আরও পড়ুন