একজন ধেয়ানি আবেদ কিংবা কবি

মুজাহিদ ফারুকী

মেহেদিনন্দিত তার ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি বেয়ে ঝরে পড়ে
রক্তবর্ণ অজুর পানির ফোটা টপটপ স্নিগ্ধ সবুজ
জায়নামাজের ’পরে, ঘোর নিম্নচাপে স্ফীত সমুদ্রের
প্রতিবাদী বুকে জাগে আলোকিত হেরার নিভৃতি
ঘূর্ণিঝড়ের চোখে ধ্যানমগ্ন বসে দুঃসাহস।

প্রতিবার প্রার্থনার ধ্যানস্থ অঞ্জলি ভরে নামে যুগল সারস,
ইলহাম, মসনবি রুবাই স্বরূপে, অনন্তর মনে পড়ে
বৃষ্টি এক টেলিপ্যাথি, সেতুবন্ধ লোক-লোকান্তরে।
আর রক্তবর্ণ পানির ফোটা বাষ্প হয়ে উঠে যায়
আদমের প্রথম নিবাসে। বিরল কাব্যপ্রসিদ্ধি চমকায়
দূরবর্তী নক্ষত্রের থেকে ঝরা আলোর প্লাবনে।

একেকটি শব্দে বেজে ওঠে জালালীর সুমিত বাকুম
কপোতের স্বরযন্ত্রে মন্দ্রিত গুরুগুরু মেঘের বিস্ময়
গন্দমের গাছ থেকে ছিঁড়ে আনে জীবনের সবুজ পত্রালি
শীতল বাতাসে হেসে বাষ্প জমে দুঃখজয়ী ঐশী বরাভয়।

প্রার্থনায় বিগলিত শায়েরের নম্র মধুস্বর পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম
সঙ্গীতের প্রতিদ্বন্দ্বী, অলৌকিক মায়ার চাদর,
নিমেষে গুটিয়ে নেয় সমুদয় মূর্ত ও বিমূর্ত প্রণয়
আরশের পুত ওম ধরে রাখে অর্বাচীন মৃন্ময় খাঁচার ভিতর।

মুজাহিদ ফারুকী – কবি ও সাংবাদিক।

আরও পড়ুন