কালের আলেখ্য

হাসান ওয়াহিদ

রেস্তোরার টেবিলে মাথা রেখে নিঃশব্দে
কাঁদছো তুমি; এ পৃথিবী সুকঠিন দুঃখের।
কি হয়েছে তোমার? কতটুকু দুঃখে অগাধ নৈঃশব্দ্য
এসেছে তোমার হৃদয়ে, তা আমার জানা নেই।

আমি শুধু জানি, দুঃখের শিখা চতুর্গুণ হয়ে
দগ্ধ করছে তোমার নিজস্ব প্রহর
সুগভীর ব্যথায় কাঁদছোে তুমি। তোমার ব্যথায় ব্যথিত
রেস্তোরার ম্লান-শীর্ণ পরিচারিকা পানপাত্রে রেখে গেছে
শীতল আগুন। তুমি তা ছুঁয়েও দেখোনি।
এ পৃথিবী সুকঠিন দুঃখের। তার চেয়েও দুঃখময় আমি
তোমাকে তোমার দুঃখ থেকে রক্ষা করতে পারিনি।

কাঁদছো তুমি নিঃশব্দে। কোন দাম্ভিক
নিষ্ঠুর আঘাত হেনেছে ; আর তোমার হৃৎপিণ্ডে
রক্তক্ষরণ হচ্ছে নিরুচ্চার, আমি তা জানি না।
রাতের প্রবল আঁধার নেমেছে কি নামেনি তুমি জানো না।
বাইরের বিলীয়মান আলোয় দরজার কাছে অপেক্ষা করছে
জ্যোৎস্নার শাদা পোশাকের এক পরিচারিকা
যেন দ্বিধাহীন স্থির সফেদা বৃক্ষ

তারও বেদনা আছে। দুঃখ আছে শব্দহীন।
তবু বৃক্ষের ছায়ায় রক্তভেজা ছিন্ন ময়ুরের শোক ভুলে
প্রতিটি দুঃখময় কালে সেও মেলে ধরে
স্পর্ধিত হৃদয় স্থির দ্বিধাহীন।
জ্বালাময় রৌদ্রের কণিকা পান করে বাঁচে ফুল,
ফল, বৃক্ষ তথা স্থির সারিবদ্ধ বন।
জন্ম থেকে জন্মান্তরে প্রবহমান কালে
বয়ে চলেছে এই একই নিয়ম।

হাসান ওয়াহিদ – কবি।

আরও পড়ুন