দুঃস্বপ্ন

 

আমি ভালোবাসার একটি পেলব হাত খুঁজছি, খুঁজছি আবেশ জড়ানো এক মায়াবী চাহনী
আমাদের আঙিনায় এখন গনগনে রোদের রুক্ষতা
আমি সেই রোদে পোড়া ছাইভস্মের ভেতর
পেলবতার নরম সেই অস্তিত্ব খুঁজছি।

পুড়ে গেছে মূদ্রিত স্বস্তির তরতাজা বিস্তার
ছায়া সুনিবিড় নির্ভরতার আশ্রয়ে কী কর্কশ কোলাহল!
তপ্ত নিঃশ্বাসের হলকা বয়ে যায়
অহঙ্কারী দাপটে।

আমি ভালোবাসা খুঁজে ফিরছি
সেতো পরাজয়ের কলঙ্ক আড়াল করতে
কখন যেন নিঃশব্দে পালিয়ে গিয়ে
আত্মগোপন করে আছে নির্লজ্জতার নিঃছিদ্র অরণ্যে।

ভালোবাসা এখন একটা বিক্রয়যোগ্য পণ্য
বিক্রয়যোগ্য পণ্যের তালিকাটা এখন আরও বড় হয়েছে
বিক্রি হচ্ছে শ্রদ্ধা, অনিরুদ্ধ মায়ামমতা
চাকরিবাকরি পদ প্রমোশন বিশ্বস্ততা
এমনকী সাধের স্বাধীনতাও।

এইতো মাটি হারিয়ে ফেলেছে তার কুসুম কুমারিত্ব
নদী হারিয়েছে তার দূরন্ত গতি
নাব্যতার নন্দনশৈলী
কারা যেন কেড়ে নিয়েছে রূপ যৌবন সম্ভার
নিঃস্বতার হতশ্রী চেহারা কী ঢাকতে পারে
ছেঁড়াফাঁটা কাচুলি?

যেখানে দুদণ্ড শান্তির আশ্বাসে ছুটে এসেছিল
ভালোবাসার কবি জীবনানন্দ দাস
নেই সেসব প্রাণ শীতল করা ছায়াঘন আঁচল
নেই ইবনে সীনার সেই মুগ্ধতার
অপরূপা মগ্নতা।

নেই রূপকথার প্রান্তর
নেই ঠাকুরমার ঝুলি ভর্তি গল্পের জাল জটলা
বেসুরো হয়ে গেছে সব ঘুম পাড়ানি গান
জলাঞ্জলিতে ভেসে গিয়েছে আমাদের
উৎসব অতীত
পালাগান কিংবা পুঁথিপাঠের আনন্দ আসর।

এখন রূপকথার রাক্ষসখোক্কসেরা পাল্টে ফেলেছে ভোল
আহা কী আহামরি তাদের পোশাক পরিচ্ছদ
তারা আজও নরমাংস খায়
ভেতরে ভেতরে তাদের হাঁউমাঁউখাঁউ চেতনার উল্লাস
ছারখার করে দেয় সব সভ্যতার লোকালয়।

লেখক। আবুবকর সালেহ, কবি ও সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন