দুষ্কালের দিবানিশি

মোস্তফা মাসুম তৌফিক

সবকিছু কেমন সহজ সরল বা সোজাসাপটা!
ভয়ংকর শুধুমাত্র, করোনা ভাইরাসের ঝাপটা।
আমরাও সবাই কেমন সাম্যবাদী হয়ে গেলাম,
একসময় যাকে, না পেরে সিনসিয়ার, বলতাম।
হ্যাঁ! আমরা আজ সত্যিই সিনসিয়ার, সাম্যবাদী।
লকডাউনে আবদ্ধ সবাই, নই উদ্ধত প্রতিবাদী।
আমরা, অধিকাংশই সপরিবারে এবার ঈদে,
একটি সুতোও কিনিনি;
কি চমৎকার ভাবে মিশে গেলাম তাদের সাথে; যারা, ঈদে কিছু কিনতে কখনও সাহস করেনি।
অর্থাভাব কি এবং কতো প্রকার–
তাত্ত্বিকভাবেই শুধু শিখেছি এতদিন!
দক্ষ শ্রমিক কিংবা খেটে খাওয়া মানুষ যত,
অর্থকষ্টে গুটিয়ে যাচ্ছে, সংকুচিত দিন দিন।
সঞ্চয় বিহীন মানুষের এমন দুর্বিষহ যন্ত্রণা,
করোনা ভয়ও তুচ্ছজ্ঞানে; মানে না বারন, মানা।
ছোট ব্যবসায়ী, বেসরকারি চাকুরে, বা গৃহকর্মী,
মুখ থুবড়ে পড়েছে জমিনে; খেয়ে ভীষণ ভিরমি।
সবাই দেখছে করুণ বাস্তবতার ভয়ংকর চেহারা!
অভাবের প্রাকটিকাল ক্লাস টাও হয়ে গেল সারা।

সোশ্যাল ডিস্টেন্স আর কোয়ারেনটাইন,
পরিচ্ছন্নতা, আইসোলেশন, লকডাউন, ক্রমবর্ধমান সরকারি ছুটি….
অভাবের নিষ্ঠুর হাতে চেপে ধরা টুটি…
আরও কতো কি এবার শিখলাম!
ভাবাই যেত না এসব, যা এবার দেখলাম।
বাসায় বসে থাকাও যে এমন সম্ভব হতে পারে,
আমরা কে, কবে, তা ভেবেছি এমনটি করে?
ভাবিনি কখনো; তবু এটাই বাস্তবতা, এটাই সত্যি!
হাসপাতালেও অপাংক্তেয় হতে হয়, এটাও সত্যি।

ভাবিনি কখনও, মা কে ছুঁতেও এতটা দ্বিধা- ভয়; পাছে আমার ছোঁয়ায় মায়ের খারাপ কিছু হয়।
আব্বাকে স্পর্শ করাও কি চরম অস্বস্তি!
ভালো থাকবেন আব্বা, এতেই আমাদের স্বস্তি।
আবার শ্বাসকষ্টে কাতর জননীকে জঙ্গলে ফেলে,
পালিয়ে যাওয়া কুলাঙ্গার ছেলে,
কিংবা মায়ের নিষ্ঠুর স্বামী, কুলাঙ্গারের পিতা;
ভাগ্যের নির্মম বাস্তবতা, করুণ রসিকতা!

পাশ্চাত্যেও এভাবে মানুষের মৃত্যু,
কখনও দেখা যায়নি এভাবে আগে।
এতো প্রবল প্রচেষ্টাকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে পারে;
একবারও কল্পনা করিনি আগে।
খুনে ট্রাম্পের অমানবিকতা, অনুমেয়ই ছিল;
তবু এতটা নগ্ন প্রকাশ? কল্পনাকেও হারিয়ে দিল।

আমলাতান্ত্রিক শক্তির নিষ্ঠুরতা, দেখিনি আগে!
হয়তো আমলাতন্ত্র বরাবরই এমন; বুঝিনি আগে!
ঔষধ প্রশাসন, ব্যাংক নির্লজ্জ বাড়াবাড়ি করে,
শুভ উদ্যোগ সব, রাতারাতি পাল্টে দিতে পারে!
পারে তো এমনি করে, পুরোপুরিই পারে,
উলটাপালটা সিক্সটি নাইন একেবারে!
প্রণোদনা সহায়তা বারবার ঘোষণা হলেও,
নির্মম বাস্তবতায় উপেক্ষিত জনগণ; তারপরেও।
অদৃশ্য সুতোর টানে,
প্রণোদনা শব্দের মানে–
পাল্টে হয়ে গেলো জেনারেল লোন!
ভাগ্যের কি নিষ্ঠুর প্রহসন!
প্রাম্তিক জনগোষ্ঠীর বরাদ্দ অর্থ আটকে যায়,. শুধু মোবাইল নম্বর জটিলতায়,
মগের মুল্লুকেই নাকি এমনটি হয়ে!

পুলিশও বন্ধু, এমনটি ভেবেছি, কই মনে পড়ে না। সেনাবাহিনীও এতটা বন্ধু, আগে এভাবে ছিল না।

আসলে করোনা, অনেক কিছু শিখিয়েছে এবার;
মুখোশ খোলা ত্রাণ আত্মসাৎকারী পিশাচ সবার।
এদিকে, কোমলমতিদের সামান্য পয়সার খাবার, সুশৃঙ্খলভাবে পৌঁছে যায় ঘরে অভুক্ত শ্রমিকের। শ্রমিকের নামে চাঁদাবাজির সহস্র কোটি টাকা,
স্ফীতোদর আর একটু স্ফীত হয়, নির্মম মওকা!

তবু চলছে এক অদ্ভুত যুদ্ধ,গুটিয়ে রেখে নিজেকে
মুক্ত থাকি, মুক্ত রাখি – করোনা থেকে এবিশ্বকে!
সবাই ছোট বেলার অংকের মতো মনে করে নিবে,
“আমি করোনা আক্রান্ত; মনোবলটুকু থাকতে হবে
এবং কেউ যেন আক্রান্ত না হয় আমার থেকে–”
সামান্য প্রচেষ্টা দরকার সম্মিলিত,বাঁচাতে বিশ্বকে!
এভাবেই হয়তো করোনা যুদ্ধে টিকে থাকা যায়;
আমরা করবো করোনা যুদ্ধ জয়, একদিন নিশ্চয়!

লেখকঃ কবি।

আরও পড়ুন