পলায়ন

পলায়ন

চলো হারাই ,
সব ছেড়ে ছুড়ে পালাই,
যে দিকে দু’চোখ যায়।

দিগন্ত রেখার দিকে,
সরিসৃপের মত এঁকে বেঁকে
যে মেঠো পথ গিয়েছে সবুজের বুক চিরে
পথের সীমানা পেরিয়ে মিশে আছে
আরেক সীমানায়
চলো সেই অজানায় হারাই।

হারাতে হারাতে খুঁজি নতুন ঠিকানা,
পাহাড়ী ঝোপে আচ্ছাদিত কোন
আদিম গুহা,
যেখানে থাকবে বিষধর সাপ,
ভয়ঙ্কর পোকা-মাকড়,
হিংস্র হায়েনা।

চলো পালাই সভ্য সমাজ ছেড়ে
খুঁজে নেই কোনো অচিন ঠিকানা।
সাহারা মরুভূমির হাজার বছরের ক্যাকাটাসের বন ,
পানি নাই , ছায়া নাই
টালমাটাল মেঘের সুসংবাদ নাই।
মরু কেউটে,গুই আর বিরল সব ভয়ঙ্কর প্রাণিদের যেখানে বসবাস,
চলো সেখানে পালাই।

না হয় চলো কাঠ কেটে কুশা নৌকা বানাই,
নিয়মের শৃংখলে বন্দি অসহায় সমাজ ছেড়ে পালাই সাগরের ঐ পাড়ে ,
জনমানবহীন বরফে ঢাকা এন্টার্কটিকায়,
সেখানে বানাই মজবুত বাঙ্কার
মাইনাস শত ডিগ্রি তাপে দুজনে লুকাই বরফের চাঁইয়ে ,
চলো পালাই।

আমার আর ভালো লাগে না,
কিচ্ছু ভালো লাগে না।
পড়ন্ত বিকালে যেদিন তুমি এলে আমার চিলে কোঠায়,
গোধুলী লগ্নে ,
সারা অঙ্গে আবির মেখে,
ডাগর চোখে মায়ার যাদু নিয়ে,
নাকের ডগায় মুক্তা ছড়িয়ে,
চিবুকে টোল
অধরে মাখা গোলাপের রঙ,
কমলা কোয়া ঠোঁট
কিন্নরি হাসি,
চোখের ইশারায় বন্য প্রশ্রয়,
তীক্ষ্ম উরোজের সুচাগ্র চুড়া,
সেদিন থেকে আমার আর কিচ্ছু ভালো লাগে না।
চলো পালাই।
পালাতে পালাতে হারিয়ে যাই।

তুমি বিহীন এই সভ্য সমাজ আর গতানুগতিক বিলাসী জীবন
অসহ্য, বড্ড যন্ত্রনাদায়ক।
তার চেয়ে ঢের ভালো
প্রাচীন গুহা, সহারা মরু , এন্টার্কটিকা।
ধুকে ধুকে মরার চেয়ে
চলো অনিরাপদ ভয়ঙ্কর সমাজে পালাই।
যেই সমাজে নেই কোনো লোক লজ্জা, হাজারটা স্বার্থপর আইন,
নৈতিকতার অনৈতিক বেড়াজাল,
স্বাধীনতার টুটি চেপে ধরা অশুভ হাত,
চলো সেখানে করি নিরাপদ বসত।

আমি সব কিছু ত্যাগ করার শর্তে
তোমাকে চাই।
চলো সব হারাই,
তোমাকে পাবার আশায় চলো
অজানায় পালাই।

 লেখক-আবু জিয়াদ, কবি ও সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন