ম-গল্প: অনিন্দিতার ডায়েরী

নুরে আলম মুকতা

ভয়ানক নদী ভাঙ্গণের কবলে পড়েছিলাম আমরা। গ্রামের পর গ্রাম নদীতে কোথায় হারিয়ে গেল নিমেষে ভাবতেই পারছিলাম না। আজন্ম লালিত স্বপ্নের বাগান বাড়ি, শৈশবের বিদ্যালয়, মাঠ, শান বাধানো ঘাট, সারি সারি দেবদারু আর তাল বন জলে ভেসে গেল। তারপরেও জীবন শুরু হয়। অনেক আত্মীয় হারিয়ে গিয়েছিল। কেউ কেউ পাশের দেশে চলে গিয়েছিল। বাবা আর মা হঠাৎ হঠাৎ হারিয়ে যেতেন। কোথায় যেতেন আমরা বুঝতে পারতাম না। দাদা কখনও কখনও মায়ের পিছু নিতেন। আমি খুবই ছোট তাই কাকীমাদের কোলে বসে বসে সব দেখতাম। বাবা-মা কিছু কিছু গয়না তখন বিক্রি করা শুরু করে দিয়েছিলেন। যুদ্ধ শেষ হয়েছিল, নদীর ভাঙ্গণ ও থেমে গিয়েছিল কিন্তু মায়ের গয়নাগুলো আর পাওয়া যায়নি। মায়ের বড় আদরের গয়না, বাবার সম্ভ্রম সব শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমাদের বাড়ী আসলে বাড়ি না বাসা কোনটি বললে ভালে হয় বুঝতে পারছি না। বিশাল দেবোত্তর প্রসাদ বাড়ি। অনেক ঘর, বারান্দা মন্দির, দেব দেবীর পুজা অর্চনার মঠ। রক্ষিতাদের আবাসগুলো পরিপাটি। আমাদের বাড়ি জরাজীর্ণ শতায়ু কুঠুরি। বাবা দেবোত্তর সম্পদের দফাদার। এরকম দফাদার অনেকেই ছিলেন। কিন্তু আচারীর বিশ্বস্ত খুব কম দফাদার ছিলেন। বাবা ছিলেন খুবই বিশ্বস্ত ও অনুগত তাই প্রসাদের এক কোনে আমাদের আশ্রয় হয়েছিল। ঠাকুর দাদা দিদিমাদের সমস্ত স্থাবর নদীর জলে অনেক আগেই তলিয়ে গিয়েছিল। মোহন্ত আচারী অনেকে বড় দানবীর আর রাশভারী লোক ছিলেন। আমরা যারা প্রজা ছিলাম তার আর্শীর্বাদেই তো থাকতাম তাই উনার দর্শন পাওয়া আমাদের দুস্কর ছিল। পূজা পার্বনে দুর থেকে দেখতাম স্বর্গের দেবতা দেখার মতো করে। বাড়িতে আমি একটি মাত্র ছোট মেয়ে মায়ের কোলে। বড় দাদা কলেজে যেতেন। বাবা তো সারাদিন পাইক পেয়াদা নিয়ে জমি জিরেত ঘুরে গভীর রাতে ফিরতেন। মা আমাকে অনেক যত্ন করে প্রসাদের পরিবেশ থেকে দুরে রাখতেন। পড়াতেন খুব যত্ন করে। মায়ের সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে গেলো মোহন্ত পরবাসী হবার পর থেকে। নদীর ভাঙ্গণে জমি কমে যাবার জন্য ফসলের ভাগ প্রসাদের অন্য কর্মচারীদের মতো আমাদেরও কমে গেলো। যুদ্ধের জন্য অনেক আত্মীয় পাশের দেশে চলে যাবার জন্য মায়ের বংশের সাহায্য বন্ধ হয়ে গেলো। দাদার বিএ পাশের পর মা ঠাকুরের পূজা দিয়েছিলেন। প্রার্থনা করলেন। অবশেষে হারুন ভায়ের চেষ্টায় একটি বিদ্যালয়ে দাদার শিক্ষকতা চাকুরী জুটেছিলো। দাদার চাকুরির পর আমাদের টানটানির সংসারে কিছুটা হলেও স্বচ্ছলতা এসেছিলো। মাকে জীবনের প্রথম হাসতে দেখেছিলাম। এরকম স্বর্গীয় হাসি আমি আমার জীবনে আর কখনও দেখেনি। দাদার চাকুরীর পর বাবা যেনো হাঁফ ছেড়ে বাচলেন। কিন্তু তিনি বুঝতে পারেননি বাবা-ছেলের রোজগার একত্রে থাকার কারণে দুমুঠো অন্ন পাচ্ছিলাম। হারুন ভাইকে আমরা বাড়ির সবাই ঠাকুর বলে ডাকতাম। দেবোত্তর প্রসাদের উচু বেদীতে একপাশে মা শঙ্খবাজাতেন আর দুটো বাড়ি পরেই হারুন ঠাকুরের বাবা মসজিদে আজান দিতেন। তখন ঠাকুর আর আমি প্রায়ই ছাদের ওপর বসে মায়ের টবে রাখা তুলসী পাতা চিবিয়ে ফেলতাম আর গল্প করতাম। বাবার মতো প্রসাদের অনেক কর্মচারী মদ্যপ ছিলেন। কিছু বাবাকে কোনদিন মায়ের সাথে টুকিটাকি বিষয়েও মনোমালিন্য হতে দেখিনি। বাবার অসুস্থতার পর ঠাকুরের সাহায্যে আমি বাবাকে চিকিৎসকের নিকট নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু অসুখ দুরারোগ্য তাই মা সহ আমরা সবাই ভগবানের নিকট বাবাকে সপে দিয়েছিলাম। সামর্থ্য ছিল না। বাবা তার বেচে থাকার জন্য কারো নিকট হাত পাতার পক্ষে ছিলেন না। বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। দাদা কে মা অনেক বুঝিয়ে বিয়ের পিড়িতে বসিয়ে ছিলেন। মায়ের এক দূর সম্পর্কের আত্মীয়ার মেয়ে মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়া। দাদা না না করে শেষ পর্যন্ত মায়ের কথা ফেলতে পারেননি। প্রসাদের এক রক্ষিতাকে আমরা ছোট বেলা থেকে দিদিমা বলতাম। বাবা, মা বলতেন। একদিন শুভক্ষণ দেখে দিদিমাকে নিয়ে আমি আর ঠাকুর কন্যা দেখতে গিয়েছিলাম। দিদিমা কন্যা দেখে চমকে গিয়েছিলেন। ও বাবা এ যে সাক্ষাত লক্ষীরে দাদা। তোরা দেখ ওর বাঁ চোখটা একটু ট্যারা। ঠাকুর খুবই রসিক মানুষ। বললেন, সত্যিই দিদি ও লক্ষী। ওকে আমাদের ঘরে তুলতেই হবে। দেখিস অনি ও তোদের বাড়ীতে গেলে সমস্ত অভাব তোদের কেটে যাবে ঠাকুর বলেছিলেন। দাদা কন্যার কথা শুনে খুব খুশী হয়েছিলেন। আসলে হারুন ঠাকুরের বিশ্বস্ততা, সততা এজন্য দায়ী ছিলো। দিদিমা মাকে বলেছিলেন দেখ বৌ তোর ঘর আলোকিত যদি না করতে পারি তো আমার নাম শিখা টা ঘুরিয়ে রাখিস। দিদির নাম শিখা। আলো না জ্বাললে কে জ্বালবে? দিদিমার জয় হোক ঠাকুর বললেন। মাকে খুশি করার জন্য দাদা শরীরের ঘাম ঝরানো প্রাইভেট টিউশনি করা জমানো টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু দাদার কটা টাকা দিয়ে মায়ের মনমত গয়না পাওয়া গেল না। বিয়ের শানাই বাজলো। বৌদি আমাদের বাড়ী এলেন। ঘর আলো করে মায়ের সংসারে জীবন সপে ছিলেন। বিয়ের পর দাদার সাথে সংসার যুদ্ধে কখনও বৌদিকে ক্লান্ত দেখিনি। ঠোটের কোনে এক চিলতে হাসি সবসময় লেগেই থাকতো। মা বলতেন, দেখ বৌ, যত কষ্টই হোক মুখে হাসি নিয়ে থাকিস। পুরুষকে দুঃখী মুখ প্রদর্শন করিস না বাছা। বৌদি পালন করেছিলেন শ্বাশুড়ির অনুরোধ শত ভাগ। ঠাকুরের সঙ্গে আমার সম্পর্কের বিষয়টি ধর্ম সম্পর্কিত ভয়ানক জটিলতার মধ্যে ছিল। বৌদি সব সময় আমাকে সতর্ক করতেন আর ঠাকুরকে প্রশ্রয় দিতেন। আমরা মাঝে মাঝে বৌদির ঠাট্টা মশকরা বুঝতে পারতাম না। বৌদি প্রায়ই বলতেন, সতী হয় আগুনের মধ্যে ঝাপ দিবি, নয়তো সাগরে। জীবনতো একটাই। চিন্তা করিস না, মানুষ হয়ে বাঁচলেই হলো। ধর্ম তো শরীরে ছাপের মত লেগে নেই আর অঙ্গের মতো অপরিহার্য ও নয়। যার যার হিসাব তার কাছে। মানুষের আচরণের জবাবদিহি করতে হবে পরকালে। বৌদির হেয়ালী কথাবার্তা গুলো ঠাকুর বুঝতেন। আমি মেয়ে মানুষ মনে করে ভেতরে যাবার চেষ্টা করতাম না। ঠাকুর বলতেন দেখো বৌদি তোমাকে দেখলে আমাকে আর অনিকে দেখার ইচ্ছে করেনা। তোমার রূপ সৌন্দর্য্য, শরীর অদ্ভুত আকর্ষণীয়। দুঃখ দরিদ্রতার মধ্যে তুমি শত সহস্রদল পদ্ম। তোমার ট্যারা চোখের চাহনী আমার বুকে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তুমি কোন দিকে দেখো বৌদি আমি তো বুঝতে পারি না। বৌদি ঠাকুরের কথা শুনে হাসতেন, মুক্তা ঝরানো হাসি। মহাভারতের শ্লোক বলতেন চমৎকার আবৃতি করে-

“মনমনা ভব মদ্ভক্তো

মদযাজী মাং নামস্কুরু।

মামোবৈষ্যসি

সত্যাংতে প্রতিজানে

প্রিয়হোসি মে।”

আমাতে চিও অর্পন কর, আমার ভক্ত ও উপাসক হও, আমাকে নমস্কার কর, তুমি আমার প্রিয়, তোমার কাছে সত্য প্রতিজ্ঞা করছি। শ্লোক আবৃতি শেষে ঠাকুরকে আঙ্গুল তুলে আমাকে নির্দেশ করতেন। একদিন গভীর রাতে হঠাৎ দাদার পেটে ব্যাথা। মা আমাকে ঘুম থেকে তুললেন। আমি কোন উপায় না পেয়ে ঠাকুরকে ফোন করলাম। আধা ঘন্টার মধ্যে ঠাকুর চিকিৎসক নিয়ে হাজির হলেন। মা ব্রহ্মা ব্রহ্মা বলে পুজা ঘরে ঢুকলেন। চিকিৎসক চিকিৎসা দিলেন বটে। কিন্তু উপদেশ দিলেন শীঘ্রই মেডিকাল কলেজে নিয়ে যারার জন্য। দাদাকে নিয়ে গেলাম পরের দিনই। যা হবার ইতিমধ্যে হয়ে গিয়েছে। লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়েছেন দাদা। আমরা প্রমাদ গুনলাম। মা আর বৌদির কান্না থামাতে থামাতে আমি আর ঠাকুর দিবারাত্রী পরিশ্রম করেই চললাম। কিছুতেই কিছু হলোনা। দাদা ও বাবার পথ ধরলেন। আমার অশ্রু শুকিয়ে গেলো। মা ভেঙ্গে পড়লেন। বৌদির কপালের সিঁদুর মুছে গেলো। হাতের শাঁখ খুলে গেলো। পূর্ণ যৌবন ঢেকে রাখা বিপদ দু’জন নারী যেন বাঘের মুখে পড়লাম। ভাগ্যিস হারুনকে ঠাকুর বলে বাড়ীতে মা প্রশ্রয় দিয়েছিলেন। যেদিন উপোস হয়ে যেতো সেদিন চুরি করে ব্যাগভর্তি বাজার নিয়ে বৌদির পায়ের কাছে বসে বলতো, বৌদি একবার আমার দিকে তাকাওতো, তোমার লক্ষী চোখটা দেখি। পাড়ার বেশ কজন ছেলে ছোকরা মোহন্ত দাদুর রক্ষিতাদের সাথে ইয়ার্কী ফাজলামী করত। দূর থেকে দেখতাম। ওরা দলের হয়ে কাজ করতো। মিটিং মিছিলে যেতো। নানান অপকর্মের সাথে যুক্ত ছিলো ওরা। কেউ সাহস করে কিছু বলতো না। ওদের দেখে মুসলিম হিন্দু সবাই ভয় পেতো। একদিন একটি বিদ্যালয় পড়ুয়া দাদার ছাত্রীকে মাইক্রো করে তুলে নিয়ে গিয়ে পাঁচ দিন পর ছেড়ে গেলো। কোন বিচার হয়নি। ওদের কেউ কেউ মাকে কাকী বলে বাড়ির ভেতরে আসতো। আমরা চা নাড়ু যা থাকতো দিতাম। মাকে ওরা নমস্কার করতো। হারুনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি ওরা জানতো। কিন্তু ঠাকুরের ব্যক্তিত্বের কারণে কেউ কখনও ওকে বা আমাকে বিরক্ত করেনি। সমাজ সমাজের মত করে এগিয়ে যায়। কালের গতি বক্রের মত ঘোরে। দিনের পর দিন বাবার আর দাদার স্মৃতি আমাদের যন্ত্রনায় ক্লিষ্ট করে। আমার তো বিয়েই হয়নি, হবে কিনা জানিনা কিন্তু বৌদির অকাল বৈধব্য আমাকে আর ঠাকুরকে প্রচন্ত যন্ত্রনা দিতো। ও প্রায়ই বৌদিকে নিয়ে উৎকন্ঠায় থাকতো। কারণে অকারণে ফোনে খোজ নিতো। সে বছর শ্রাবণ মাসে বর্ষণ হয়েছিলো। প্রচন্ড খরার পর বৃষ্টি। চারিদিকে থৈ-থৈ পানি। হারুন ঠাকুরের একটি শুভ সংবাদ শুনে বৌদি বহুদিন পর হেসেছিলেন। ও চাকুরির মৌখিক পরীক্ষার চিঠি পেয়েছিলো। মা আর বৌদিকে নমস্কার করে ঢাকা চলে গিয়েছিলো হারুন। আমার পিসতুতো ভায়ের বৌ এর প্রসব বেদনা ওঠার পর ওরা মাকে ওদের বাড়ি নিয়ে যাবার জন্য আমাকে ফোন দিয়েছিলো। আমি মাকে খবরটি জানানোর সঙ্গে সঙ্গে মা বলেছিলেন, এখনি চল। আমি নারীদের দু’টি বিষয়ে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে দেখেছি, তা হলো জন্ম এবং মৃত্যু। ওরা সন্তান প্রসবের সময় সঙ্গ দেয় আর কারো মৃত্যু হলে ওখানে নির্ভয়ে বসে থাকে। লক্ষী বৌদি আমাদের বিদায় করে দরজায় দাঁড়িয়ে রইলেন। নিজের অকাল বৈধব্যের কারণে আমাদের সাথী হলেন না। পিসতুতো ভাইয়ের সাহায্যে আমরা বাড়ী ফিরলাম গভীর রাতে। বাড়ি ফিরে যা দেখলাম তা কষ্টকর, অমানবিক। বৌদি বাড়িতে নেই। সারা গ্রাম, শহর খবর করেও চারদিন পেরিয়ে গেল। খবর পাওয়া গেলনা। ঢাকা থেকে ঠাকুর বাড়ি ফিরেই আমার গলা জড়িয়ে কাঁদলেন। বৌদির লাশ পাওয়া গেল পঞ্চম দিনের মাথায়। আমাদের বাড়ীর অদূরে একটি গরুর খামারের পাশে। ততদিনে আমি আর মা শরীরের সমস্ত শক্তি হারিয়ে ফেলেছি। শোকে শোকে পাথর হয়ে গিয়েছি। পুলিশ আসার পর মাকে আর আমাকে ঠাকুরের সাহায্যে বৌদির কাছে নিয়ে যাওয়া হলো। আমরা সনাক্ত করলাম বৌদিকে। বিদায়ের সময়ের পরণের শাড়ী পেচানো বৌদির শরীর। রক্ত শুকিয়ে লেপ্টে আছে সমস্ত শরীরে। ডুকরে কেদে উঠলাম আমরা। ঠাকুর বললেন, দেখো অনি বৌদি তাকিয়ে আছে। কার দিকে দেখছে বলোতো। আমি কিছু বলতে পারিনি। বৌদির সুরতহাল, পোষ্ট মর্টেম আর ভিসেরায় প্রচন্ড যৌন নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া যায়। হায় নিয়তি, নিষ্পাপ শরীরে পশুর অত্যাচার নিয়ে বৌদি গ্রহ থেকে বিদায় নিলেন। ঠাকুরকে আমি বলেই ফেললাম তুমি আমাকে গ্রহণ করো। আমি আর ঘুমাতে পারছিনা। মায়ের অবস্থা খুবই খারাপ। ঠাকুরের ঢাকায় চাকুরী হয়ে গেলো। আমি দারুন খুশি হলাম। মাস খানেকের মাথায় শুনলাম ঠাকুরের বিয়ে। নিজেই সিদ্ধান্ত নিলাম নরক থেকে বাঁচতে হলে আমাকে বাড়ী ছাড়তে হবে। মাকে অনেক বুঝিয়ে পিসতুতো দাদার বাড়ী পাঠিয়ে দিয়ে ঢাকায় ঠাকুরের খোঁজে চললাম। বেরিয়ে পড়লাম আমি। ঠাকুরকে আমি পাইনি। মা কেমন আছেন মাঝে মাঝে খোজ নিই। আমি এমন এক ঠিকানায় আছি যা মাকে কোনদিনই জানানো যাবে না। আমি বিধবা হতে চাই না। শরীরের সমস্ত শক্তি খরচ করে জীবন চালাই। আমার জীবন আর যৌবনের শত্রু, যারা বৌদির সর্বনাশ করে নিষ্পাপ মানুষের ওপর ঘটনাটি চাপিয়ে প্রচার চালিয়েছিল তাদের খুঁজে ফিরছি। সুযোগ পেলেই বদলা নেবো। পাপের কোনো ধর্ম নেই, জাত নেই। আমি আমার শরীর বেচা পয়সা দিয়ে ওদের ধ্বংস করে যাবো।

 

নুরে আলম মুকতা, কবি,সাহিত্যিক ও সহ-সম্পাদক,মহীয়সী।

আরও পড়ুন