মানুষ ফেলার কোনও ডাস্টবিন নেই

মুজতাহিদ ফারুকী

বছরটা ফুরিয়েছে;
আজ তুমি দেয়ালের ক্যালেন্ডার নামিয়ে ফেলবে,
কিন্তু ওতে যেসব ঐতিহাসিক স্থাপনার ছবি আছে
সেগুলি দারুণ; জীর্ণ, মলিন তবু মূল্যবান-
যেমন চাষির কাছে পুরনো লাঙল, ঈশ, মই
কাজে লাগবে না তবু তুলে রাখে গোয়ালের ধর্ণার ওপর।
যেমন প্রবীন প্রাজ্ঞজন যুগে যুগে সুসভ্য সমাজে,
মানুষেরা তুলে রাখে সাদরে মাথায়-

তেমনই বছর শেষে ফালতু সেই ক্যালেন্ডার হাতে নিয়ে
হয়তো তোমার মনে হবে, ছবিগুলি ভালো, আপাতত থাকুক না হয়!
হয়তো রাখবে আরও দু’চারটি মাস তোষকের নিচে
তারপর পাতাগুলো খুলে খুলে বানাবে ছেলের নয়া বইয়ের মলাট
আর বেশি ধূসরিত হলে অথবা দুমড়ে গেলে
আবর্জনার সাথে ফেলে দেবে গ্যারেজের কোণার ডাস্টবিনে।

এইভাবে, ঠিক এইভাবে একদিন গোধূলির ধূসর প্রহরে
ভাতঘুম থেকে জেগে হয়তো তোমার মনে হবে
পাশে শোয়া সঙ্গীটিও দিনে দিনে দেখি ক্ষয়ে গেছে
পুরনো খাটের মতো নড়বড়ে, ক্যাচকোচ, উহু আহা, ওষুধ বিষুধ!
অসুখে জর্জর যেন প্রান্তিক বর্জ্য মানুষ।

আফসোস, পলিথিন ব্যাগে ভরে অকেজো মানুষ ফেলা যায়
এমন ডাস্টবিন তুমি কোত্থাও খুঁজেই পাবে না!

কবি: সাহিত্যিক ও সম্পাদক, নয়া দিগন্তের মাসিক ম‍্যাগাজিন  অন‍্য এক দিগন্ত

০৮.০৭.২০২০ বুধবার।

আরও পড়ুন