বানভাসি

 

 

আমি এক ধূসর স্বপ্নের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যাই,
হেঁটে যাই জোছনায় প্লাবিত এক বেড়িবাঁধ ধরে।
দীর্ঘ ও প্রশস্ত এক বেড়িবাঁধ!
হেঁটে যাই বাবা আর আমি
আর চাঁদের আলোয় আমাদের ছায়ারা।
বাবার দৃঢ় মুষ্টির ভিতরে আমার ছোটো ছোটো
নরম পেলব আঙ্গুল পরম নিশ্চিন্তে পেঁচিয়ে থাকে।
আমি শিহরিত হই অজানা আশঙ্কায়!
মাথার উপর দিয়ে উড়ে যায় নিশাচর বাদুড়
মেঘনার স্রোতে ভেজা বাতাস গায়ে ঝাপটা মারে।
দু ধারে রূপালী চাঁদ এর আলো ঠিকরে পড়ে
বানভাসী নাগরিকের নিরাপদ টিনের চালে।
বাবা বলতে থাকে টাইটানিকের গল্প ,
বখতিয়ার খিলজীর গল্প, লিলিপুট এর গল্প।
বাবার গল্প ফুরোয় না , হাঁটা থামেনা…..।
বাবা আর আমি হেঁটে যাই অজস্র নক্ষত্রের
মধ্যে দিয়ে, ইতিহাসের এক অচেনা আল ধরে।
আমাদের ছায়ারা ছোটো হতে হতে হারিয়ে যায়।
হারিয়ে যায় ক্রমশঃ শ্রাবণের ভরা প্লাবনে,
ভেঙে যায় হঠাৎ বেড়িবাঁধ, ভেসে যাই বানভাসি।
মেঘনার উত্তাল বুকে ছোট্ট এক ডিঙ্গি ভাসিয়ে
ভীষন উদ্বেগে বৈঠা ঠেলে বিপুল জলরাশির
ঢেউ এর সাথে পাল্লা দিয়ে খুঁজতে থাকি সেই
দৃঢ় মুষ্টিবদ্ধ হাত, সেই বেড়িবাঁধ, আর গল্পদের।
তারা আর কখনই আসে না ফিরে
শুধু আমিই হেঁটে যাই স্বপ্নের ভিতর বারেবারে।

 

 

রূহ আফজা রাজ্জাক- কবি   

আরও পড়ুন