মানবতার লজ্জা

 

নুন আনতে পান্তা ফুরোয় লোকটা দুঃস্থ,
হঠাৎ করেই হয়ে পড়ল সর্দি জ্বরে অসুস্থ।
বউটার মাথার পরে আকাশ ভেঙে পড়ল,
কেঁদে কেঁদে পড়শিদের হাতে পায়ে ধরল।
মারণব্যাধির আশঙ্কায় মুখ ফিরাল পাড়া,
অর্ধোন্মাদ বেকার ছেলে দু’টি দিল সাড়া।
অমানুষকে বুঝিয়েও কাজ হল না তাতে,
হুমকি দিতেই গাড়িটা মিলল সাথে সাথে।
ছুটল তাদের অসুস্থ বাবা-মাকে ছাড়ি,
হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েই ফিরল বাড়ি।
চারআনাও মূল্য নাইরে গরিবের প্রাণের,
রেফার খেলা শুরু হল কসাই ভগবানের!
‘বেড খালি নাই’ নিতেই হবে কোলকাতা,
শুনেই তা ঘুরে গেল একলা নারীর মাথা!
কি করবে কোথায় যাবে পেলোনা ভেবে,
বিপদকালে কে আর হাত বাড়িয়ে দেবে!
‘দরদী’দের করুণায় অ্যাম্বুলেন্সটা এলো,
বানের জলের মতই গুজব রটে গেলো!
অকালে মরার ভয়ে এলোনা কেউ ধারে,
বউ স্বামীকে নিয়ে এলো ঠেলে স্ট্রেচারে!
অ্যাম্বুলেন্সে তুলতে হবে স্বামীটিকে তার,
কেউ এলোনা অভাগীর ধারেকাছে আর!
দীর্ঘদেহী স্বামীকে তার তুলতে গেল ধরে,
পাকা রাস্তার উপরেই পড়ল ধপাস করে!
ঠুলি পরা সভ্য সমাজ সজ্ঞানে জ্ঞানহারা,
গগনভেদী আর্তনাদে তাই দিল না সাড়া!
পথের উপরেই রইল পড়ে সূর্য অস্তগামী,
স্ত্রীর কোলে মাথা রেখে চলে গেল স্বামী!
নিরাপদ দূরত্বে থেকে দেখল সবাই চেয়ে,
কী কষ্টে মরল গরিব চিকিৎসা না পেয়ে!
সব হারিয়ে হতভাগী পাথর যখন শোকে,
তড়িঘড়ি এলো তখন প্রশাসনের লোকে!
পশুর মত অকাল মরণ নিত্যদিন ভাবায়,
মনুষ্যত্ব মরেই গেছে মারণব্যাধির

 

থাবায়।

 

বিষ্ণুপদ বিশ্বাস- কবি ওপার বাংলা

আরও পড়ুন