আমাদের ঈদ

 

 

জীবনের প্রতিক্ষণ, প্রতি মাস- বছর আজন্ম-আমরণ প্রতিদিন ঈদেরই মতন-
কোটি জনতার কাছে নিরানন্দ বিবর্ণ ধোঁয়াশা।
ক্রমে ঘনীভূত হয়ে আসে জীবনে দুঃখের কুয়াশা —
সীমাহীন অভাবে।
অতি নির্দয়ভাবে—
কচি মুখের কিছু চাওয়া অথৈ অশ্রুজলে পিতাকে ভাসায়;
একটা নতুন জামা হলো না তো কেনা!একটু সুখের আশায়–
মনে সাধ জাগে কুরবানির গোরুর হাটে–
নিজেকে বিকিয়ে হলেও কিছু সাধ যদি যেতো মিটে–
সেও ছিল ভালো।
সে আশাও ফুরালো–
প্রথা নেই তাই। এভাবেই কত ঈদ এসে আবার গিয়েছে ফিরে,
জীবন চলেছে পুরনো নিয়মে অভাবের আবর্ত ঘিরে।

ক্ষুদ্রঋণের কাছে কেউ বিকেয়েছে থালা-বাটি, ভিটেমাটি সব–
শেষ আশ্রয়। হায়রে অভাব-
তুমিই নিকটবান্ধব! এত সুনিবিড় —
বন্ধনে বেঁধেছো মিতালির নীড়
কত ভালোবেসে!
তোমাকে সাথে নিয়েই আমাদের ঘরে প্রতি ঈদ আসে।

কোটি জনতার কাছে ঈদ নিয়ে আসে সীমাহীন খুশির বারতা।
কার কত ভারি হলো খরচের খাতা
কার বাড়ি ছুঁয়েছে আকাশ?
এখানে প্রতিযোগিতায় চলে দম্ভ প্রকাশ।
ফিনফিনে সিল্ক, জরিদার টুপি আর সবথেকে দামি যে আতর–
পরে যাও নামাজের মাঠে! শোনো না কি কতটা কাতর-
ক্ষুধিতের আর্তচিৎকার?
দিয়েছো কি তার পাওনা ন্যায্য অধিকার —
যাকাতের টাকা হিসেব করে ষোলআনা বুঝে?
তোমার ঋণ কি শুধবে না পাওনাদারকে খুঁজে?

এ নয় তোমার কারও প্রতি একতিল দয়া অথবা দান,
তুমি যদি মুসলিম হও,জেনে রেখো এ অমোঘ ফরমান
তোমার প্রভূর; তোমার প্রতি।
সমুখে দাঁড়িয়ে তোমার নিয়তি —
এক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হাতে নিয়ে।

পশুর সাথে ভেতরের পশুটাকে কুরবানি দিয়ে–
কর ঈদের উৎসব।

সবার জন্য নিয়ে এসো ঈদ সমঅনুভব।

 

আবু সাইফা- কবি, সাহিত্যিকও এডমিন মহীয়সী।   

আরও পড়ুন