মূকা সবিরন

মূকা সবিরণ

আজ সবিরনের বিচার হবে
গাঁয়ের মেঠো পথের বাঁকে
বুড়ো বটগাছের তলায়।
গ্রামের গণ্য -মান্য বিচারকরা
ঠাট বাট করেই এলো।
হাসি হাসি মুখে,আসন নিলো
সবিরণ দাড়িয়ে আছে
মানুষের জটলার এককোণে
শত ছিন্ন আঁচলে,
মাথাখানা ঢাকার ব্যর্থচেস্টা।
ভয়ে মুখখানা শুকিয়ে আমসি
তার উপর গত দুদিনে পানি ছাড়া
কোনো দানাই পড়েনি পেটে।
হঠাৎ বিচারের সভাপতি গর্জে উঠে
সবিরণ!তুই বউ হয়া স্বামীর গায়ে তুলিস হাত!
জানিস স্বামীর কতো মান!
মূর্খ মেয়েমানুষ!
সবিরণ ভয়ে থরথর
মুখে আসেনা কথা।
মাথা নিচু ঠায় দাড়িয়েই রয়।
সলিম কান্দি ওঠে…
দেখেন হুজুর! কতো বড় কলিজা
তোমার কথায় জবাবে না দেয়!
গাঁয়ের আমজনতা তাল মিলিয়ে কয়
কি আস্পর্ধা! কি আস্পর্ধা!

বিচারকরা আগুন চোখে
ভীস্ম করে সবিরণরে!
রায় দিলেন,প্রধান সভাপতি
সবিরণের বিচার হলো…
ওর মাথার সমস্ত চুল কাটি
মুখখানাতে চুলোর কালি মাখি
জুতোর মালা গলায়
ঘুরাবি আজ সারাটি গাঁয়।

কালি আর মালা পরে সবিরণের
পা চলতে না চায়
দুবছরের সংসারে
দুটি ভাত আর কাপড়ের আশায়
মাতাল সলিমের কতে মার না খেয়েছে হায়!
তার বিচার!কেউ করেনি,
কেউ দুমুঠো ভাত দেয়নি।

আর কাল অবেলায়
মার হতে বাঁচতে চেয়ে
সলিমরে ধাক্কা দিলে সে
তার বিচার সবাই করল যে।

পর প্রভাতে গাঁয়ের মানুষ যায়
বুড়োবট গাছে ঝুলছে কে গো?
হায়,হায়,এতো সবিরণ ছাড়া আর কেউই নয়!

লেখকঃ জিনাত জিনু, কবি ও সাহিত্যিক ।

 

আরও পড়ুন