ভয়ংকর সেই রাত

হাসান মাহমুদ
.………………………………………….
কি ভয়ংকর রাত আজও মনে হলে গায়ের লোম খাড়া হয় আর রাতের ঘুম হারাম। অনেক দিন আগের কথা আমি রাজশাহী থেকে সিলেট যাব। অফিসের কাগজপত্র পর দিন সকাল ৯টায় পোঁছাতে হবেই। আমি ১১.২০উপবনের টিকিট কেটে ফেললাম রাজশাহী থেকে।আমি হানিফ বাসে রওয়ানা দিলাম, সঠিক সময়ে আমি বিমানবন্দর স্টেশনে পোঁছাতে পারলাম না। আমি রাত ১১.২৪মিনিটে পোঁছালাম চোখের সামনে দিয়ে উপবন ট্রেনটি চলে গেল হায় কপাল। আমি বাসে যাব সিলেটের কোন গাড়ীতে সিট নেই, আমাকে পোঁছাতে হবেই, আমি দিশেহারা কেমন করে সিলেটে যাব, অপর দিকে খাওয়া দাওয়া নেই প্রচন্ড শীত আর হিমেল বাতাস। আমি স্টেশনে বসে আছি রাত ১২.৪০মিনিটে “সুরমা মেইল” নামক একটি ট্রেন সিলেট যাবে উঠে পড়লাম। উঠেই আমি বোকা সেজে গেলাম সুরমা মেইলে কোন আলো নেই ধু ধু অন্ধকার ভয়ে হাত পা কাপছে থরথর করে, সেই ট্রেনের জানালা নেই হায় রে ঠান্ডা বাতাস  আহ কি কষ্ট, সবচেয়ে যন্ত্রণা বিষয় হল আমি যেই বগিতে উঠেছি সেই বগিতে মদ খোর মাতাল গাজা সিগারেট অনবরত নারী পুরুষ অবাদে খাচ্ছে। সেখানে বেশিরভাগ নোংরা মানসিকতার নারী পুরুষ অবাদ মিলামিশা, আর মুখের ভাষা অত্যান্ত নোংরা আর খারাপ আমি আর সহ্য করতে পারছিনা। এছাড়া একটু পর পর ট্রেন থামছে আর মালামাল তুলছে, মদ গাজা সিগারেটের গন্ধ আর ধুয়া আমার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। এতো স্টপেজ যা বলার মত না। আমি অন্য বগি তে গেলাম ১০০টাকা ঘুষ দিয়ে সেখানেও  কোন আলো নেই তবে জানালার দরজা আছে। আমি সেখানে গেলাম গিয়ে দেখি একজন নারী কান্নাকাটি করছে  আবার নতুন করে কি বিপদ। আমি মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে দেখলাম হায় হায় অপরুপা সুন্দরী মেয়ে অনেক স্মার্ট দেখতে খুব সুন্দর, তখন ট্রেন ভৌরব মেয়েটিকে দেখার পর সারাদিনের ক্লান্তি হতাশা ভয় সব নিমিষেই দূর হয়ে গেল। মেয়েটি আমাকে পেয়ে মনে হলো আস্থার জায়গা খুঁজে পেল। অনেক গল্প করছি আমার ব্যাগে বেশ খাবার ছিল আমি তাকে খেতে দিলাম মেয়েটি নিমিষেই সব খাবার সাফা করে ফেলল আমি ভাবলাম রাক্ষসী নাকি। একটু ট্রেন থামল যেখানে থামল সেখানে স্টেশন নেই আলো নেই কনকনে ঠান্ডা আমার ঐতিহাসিক চাদরে মেয়ে ঢুকে পড়ল মন্দ লাগেনি হাজার হউক সুন্দরী স্মার্ট মেয়ে বলে কথা, একটু শুনতে পেলাম ট্রেন এখানে কিছুক্ষন থাকবে চট্রগ্রামের ট্রেন গেলে তার পর ছাড়বে। মেয়েটি বলল চলুন বাহিরে ঘুরে আসি, মেয়েটির হাতের নরম পরশ দিয়ে হাত ধরে বাহিরে নিয়ে গেল। আহ কি চমৎকার?
আমার চাদরের ভিতর ঢুকে আবার আমার হাত ধরে নিয়ে হাটছে আমি দুনিয়ার সব কথা ভুলে গেছি মেয়েটির ছোঁয়া পেয়ে। আমাকে নিয়ে গভীর রাতে হাঁটছে তখন রাত ৩.২২মিনিট হঠাৎ হুইছেল বাজল আমরা এসে দেখি “সুরমা মেইল চোখের সামনে চলে গেল আমরা ধরতে পেলাম না।
আমাকে মেয়েটি বলল খুব ভাল হলো ট্রেন  চলে যাওয়ায়, দেখুন জোসনার রাত আশে পাশে কোন বাড়িঘর নেই, নেই কোন আওয়াজ সেখানে আমি আর সেই মেয়েটি, মেয়েটি আমাকে খুব শক্ত করে ধরল আর বলল চিন্তা কি আমি তো আছি ভয় নেই। আমাকে নিয়ে হাটা শুরু করল আমরা কোথায় কোন জায়গায় যাচ্ছি অচেনা অজানা পথে হাটছি। তখন রাত ৪.১২ মিনিট আমি যখনি চিন্তা করছি তখনি মেয়েটি আমাকে শক্ত করে তার বুকে জড়িয়ে ধরছে, আমি বললাম আমরা কোথায় যাচ্ছি এটা কোন জায়গা তাছাড়া আমরা আস্তে আস্তে নিচুর দিকে যাচ্ছি। আমি আর হাটতে পারছি না মেয়েটি আমাকে তার পিটে নিয়ে হাটা শুরু করল, কি ব্যাপার একটা মেয়ে আমাকে তার পিঠে নিয়ে হাটছে আজব। আমি ভয় পেতে শুরু করলাম।  আমি শুনতে পাচ্ছি ভয়ংকর বাজনা আর করুন সুর, আর খুব অন্ধকার জায়গায় নিয়ে গেল। আশে পাশে তাকিয়ে দেখছি বন জংগল হঠাৎ একটা সুন্দর ঘর।  একটু পর দেখছি তার ই মত প্রায় ২০-২৫ জন মেয়ে আমার সামনে হাজির। তার পর দেখছি ভয়ংকর তীর ধনুক সহ আমাকে ঘিরে ফেলল। আমি দেখছি বড় বড় চুরি তরবারি তীর-ধনুক ভয়ংকর বাজনা। গোটা এলাকা আলোই আলোকিত হয়ে গেল। ২০-২৫ যুবতী নারী আমার কাছে আমাকে আকর্ষণ করছে। আমাকে যে মেয়েটি নিয়ে গেছিল সেই মেয়ে আমাকে বলল আজ এখন আমাকে তুমি বিয়ে করবে এবং এখানেই বাকি জীবন তোমাকে আমার সাথে বসবাস করতে হবে। আমাকে একটি লোহার আংটি পরিয়ে দিল। আমার জন্য রাজকীয় খাবার জোগাড় করে খেতে বলল, আমি বললাম আমি সিলেট যেতে চাই আমি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সেবা করতে সেখানে যাচ্ছি মানুষ সেবা আমার একমাত্র কাজ। হে রুপবতি সুন্দরী আমাকে দয়া সাহায্য করো। আমাকে ঘিরে রেখেছে তীর-ধনুক তরবারি আর কি ভয়ংকর জিনিস দিয়ে সেটা লেখে বুঝাতে পারব না। আমি অনেক আকুতি মিনতি করলাম আর বললাম আমাকে যদি বিন্দু পরিমাণ ভালবাস তাহলে তুমি আমাকে সেই সুরমা মেইলে পোঁছায়া দাও, আমি জানি তুনি জ্বীন পরি। সারাজীবন আমি তোমাকে ভালবাসবো তবে শারীরিকভাবে নয় কেবল ভাল বন্ধু। মেয়েটি বলল তুমি অনেক কিছু মিস করলে যুবক। তবে আমার লোহার আংটি সারাজীবন সাথে রাখবে আমি কথা দিলাম রাখব। আর বলল তোমর এই চাদর কোন স্বাভাবিক চাদর নয় এই চাদর তোমাকে নতুন জীবন দান করল। বলে আমাকে পিটে নিয়ে সুরমা মেইলে পোঁছায়া দিল। তখন সকাল ৫.৩২ মিনিট শায়েস্তাগঞ্জ। ঘুম ভেঙে গেল হাতের নখে দেখলাম লোহার আংটি আমি আজও এখনো পরে থাকি। একটু সিলেটের বাসে উঠে সিলেট চলে গেলাম। আজও সেই কথা মনে হলে হাত পা কাপে। তবে আমার লোহারআংটি আমি এখনো পরি। মাঝে মাঝে কথা হয় বাট দেখা হয় না।

আরও পড়ুন