হৃদঘর

 

রুশার ঘুম ভাঙল ভোর পাঁচটায়। আকাশে মেঘ জমে আছে, বৃষ্টি হওয়ার অপেক্ষায়….। বাতাসে বৃষ্টির গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। বৃষ্টি মানেই রুশার ভালোলাগা। ফ্রেশ হয়ে কফির মগ হাতে বারান্দায় যাওয়ার কয়েক মুহূর্তে বৃষ্টি শুরু হল। কি অদ্ভুত! গা-জ্বালা করা তপ্ত রোদের মতো লাগছে কেন বৃষ্টিটা। যেন বৃষ্টির একেকটা ফোটা তার যন্ত্রনার ক্ষতটা বাড়িয়ে দিচ্ছে যাকে সে এতোদিন যাবত হৃদঘরে জমিয়ে রেখেছিল।

ভালোই তো ছিল সে নিজের নিয়তিটাকে মেনে নিয়ে, তবে আজ এত সময় পরে কেন তার হৃদঘরে জমানো ক্ষত তাকে অসহ্য যন্ত্রনা দিচ্ছে। তবে কি এই বৃষ্টিটাই সব যন্ত্রনার কারন।

না কিছুতেই মনে করতে চায় না সে, সেই দিনগুলোর কথা। তাকে সব ভুলতে হবে। সে আর বৃষ্টিটা ও দেখতে চায় না। বুকসেলফ থেকে একটা উপন্যাস নিল রুশা। হয়তো পড়া নিয়ে ব্যাস্ত থাকলে তার যন্ত্রনা লাঘব হবে। রবীন্দ্রনাথের উপন্যাস সমগ্র টা তার পড়া হয়েছে একবার। এটা তার অনেক প্রিয় একটা উপন্যাস বহুবার পড়লেও বিরক্তি আসে না।

“চিঠি বিলি করিয়া দিতে রাত হইয়া পড়িল… লাইনটায় এসেই আবার সে থমকে গেল।

একটা সময় সে ও তো অনেক চিঠি লিখত। যদিও এই একবিংশ শতাব্দীতে আজ এটা বড্ড backdated একটা বিষয় কিন্তু রুশার কাছে মনে হয় এই backdated বিষয়টা ছাড়া ভালোবাসা ঠিক পূর্ণতা পায় না। রাত জেগে বারবার চিঠিতে চোখ বুলিয়ে তা আঁকড়ে ধরে ঘুমানোর অনুভূতিটায় অন্যরকম।

রুশা কিছুতেই বুঝতে পারছে না আজ সবাই কেন তার সাথে এমন করছে, প্রিয় বৃষ্টি, প্রিয় উপন্যাস সবাই কেন বারবার তার যন্ত্রনার কারন হচ্ছে।

বৃষ্টি থেমে গেছে। রুশা এক দৃষ্টিতে আকাশে তাকিয়ে আছে। বৃষ্টি থামার পর আকাশটা এত সুন্দর দেখায় রুশা আগে কখনো খেয়াল করে নি। বৃষ্টির সাথে সাথে তার যন্ত্রনাও থেমে গেছে।

পৃথীবির সব যন্ত্রনা মানুষের জানার জন্য নয়, কিছু কিছু যন্ত্রনা একান্তই নিজের। যা সারাজীবন বন্দী হয়ে থাকে হৃদয়ের ছোট্ট ঘরে। যার নাম দিয়েছে রুশা হৃদঘর। মাঝে মাঝে এমনি একটা বৃষ্টি দিনে তা অসহ্য যন্ত্রনার কারন হয়ে আসে আবার বন্দী হয়ে যায় হৃদঘরে।

যার অস্তিত্ব জানার ক্ষমতা পৃথিবীর আর অন্যকোন মানুষের নেই……!

 

আরফিন সুপ্রভা – কবিও সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন