তার COVID-19 পজিটিভ!!!

মোঃ মনিরুজ্জামান সোহাগ

তকাল যেটাকে শুধু মাত্র সামান্য কাশি, গলাব্যথা, জ্বর বলেই মনে হয়েছে!! সত্যি বলতে টেস্টের রেজাল্ট প্রথম কানে আসতেই তার মনে হলো,,, ভুল শুনছি না তো? কোথাও কোন কিছুতে ভুল হচ্ছে কি? নাহ, কিছুই ভুল নয়, মনের জোরে সব সময় শরীর চলে না।

কখনো কখনো শরীরের ক্ষয় মনকে নিজ গতিতে চলতে ব্যর্থ করে। আজ তার শরীরটাও ভার। সবগুলো ইন্দ্রিয় সাড়া দিচ্ছে না ঠিকঠাক। জীবন দিবসের সায়াহ্নে হয়তো সে পৌঁছে গেছে । সন্ধ্যা নামতে বাকি…..!!!

বলছি সায়মন সাদিক ছোটনের গল্প। সংক্ষেপে তার নাম ছোটু। পরিবারের আদরের এবং সবচেয়ে ছোট সদস্য সে৷ বয়স মাত্র সতেরো কিন্তু দেখতে চায় পুরো জগতটাকে! তার মানে ছোটনের হবি (hobby) হলো বিশ্বটাকে ঘুরে দেখা। কিন্তু তা চাইলেই কি হয়…?

ছোটন জানে চাইলেই হয়, চাইতে হয়। তবে চাওয়াটা হতে হয় চাওয়ার মতো করে…

ছোটন কলেজের ফার্স্ট বয় শুধু তা ই নয় ভীষণ  মেধাবী, সবার প্রিয় এবং সবচেয়ে পপুলার মুখ! পুরো কলেজ তাকে এক নামে চেনে। এ জনপ্রিয়তা  আর ভালো ছাত্র হয়ে ওঠার পেছনের গল্পটা একটু নাটকীয়…। ছোটু ছেলেবেলায় আহামরি ভালো ছাত্র ছিল না। ক্লাস নাইন পর্যন্ত তার রেজাল্ট ছিল রীতিমতো হাস্যকর। তা নিয়ে শুধু বাড়ির মানুষ-ই  উপহাস করত তা নয়,  পাড়া প্রতিবেশিরাও হাসি ঠাট্টা করত…। সেই হাসি ঠাট্টাই ছোটুর অভাবনীয় পরিবর্তনের মোক্ষম কারণ। অবশ্য সে বয়সে ছোটু উপহাস, ঠাট্টা কি তা বুঝলেও ; তার কি করণীয় বা এটির প্রতিকার কি তা ছোটুর জানা ছিল না…। কাজেই পরিবর্তন টা আসে একটু দেরি করে ।ছোটুর এ পরিবর্তন শুধু যে মানুষের হাসি ঠাট্টার জবাব দিতে চায় তা-ই নয় ; সাথে সাথে তার লালিত স্বপ্নটাকেও বাস্তবে দেখতে চায় বলে এই পরিবর্তন বাস্তবতার দেখা পেয়েছে – এমনটাই ছোটুর ধারনা। তার স্বপ্ন  সে একদিন পুরো পৃথিবীটা ঘুরে দেখবে, ছুঁয়ে দেখবে তার সৌন্দর্য । ভারতীয় উপমহাদেশ সহ ইউরোপ, আমেরিকা…. হয়তো পুরো বিশ্বটাকেই সে জয় করবে একদিন। এই ধরণীর সৌন্দর্য দেখার লোভ ছোট্ট বয়সেই ছোটুকে পেয়ে বসে ভীষণভাবে।

ভার্সিটি পড়ুয়া বড় ভাইদের কাছে ছোটু বরাবরই শুনেছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে না পড়লে নাকি বিশ্বটাকে চেনা যায় না। জগতটাকে ছোঁয়া যায়না। তাই ছোটুর আপাতত টার্গেট ভালো একটা ইউনিভার্সিটি তে ভর্তি হওয়া।

গতবার এস.এস.সি পরীক্ষা দিয়ে ছোটু ঢাকা এসেছিল তার খালার বাসায় ! ঢাকায় আসা মানেই নিজের স্বাধীন ইচ্ছা শক্তির সদ্ব্যবহার করা । পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্য হওয়ায়  সবাই তাকে চোখে চোখে রাখে। এনিয়ে ছোটু সবার উপর খানিকটা  বিরক্ত হত। সে মনে করে সে আর সেই ছোট্টটি নেই, যথেষ্ট বড় হয়েছে । সবাই মিলে এক প্রকার জোর পূর্বক তার স্বাধীনতা হরণ করছে। তাই জীবনের এ পর্যায় এসেও ছোটুর ভ্রমণ মানে কেবল ঢাকায় খালার বাসায় বেড়াতে যাওয়া।

ঢাকায় আসা মানেই  বিগত ছ’মাস, এক বছরের জমে থাকা কল্পনার বাসনাগুলো , একটা একটা করে আলোর মুখ দেখা।  ছুটির দিনে  খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া ছোটুর মোটামুটি একটি অভ্যাসের মত। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মাহমুদ ভাই হলেন তার সবচেয়ে পছন্দের মানুষ যিনি একাধারে তার কাছে একজন বড় ভাই,বন্ধু ও প্রিয় শিক্ষক সমতুল্য মানুষ। যার সাথে ছোটুর বিশেষ মনস্তাত্ত্বিক লেনাদেনা আছে। তার কাছেই ছোটুর যত পাগলামি, আবদার।

ছোটুর এবারের ইচ্ছে ঢাকার সবগুলো ভার্সিটি একদিন ঘুরে দেখবে।  তার এই আবদার শুনে মাহমুদ ভাই রীতিমতো অবাক। এ বয়সের আর দশটা ছেলের পছন্দের তালিকায় থাকে সিনেপ্লেক্স, ব্লকবাস্টার কিছু, ছোট বড় শপিংমলে ঘুরতে যাওয়া। যাইহোক, বেচারা মাহমুদ ভাই, গ্রাম থেকে আসা ছোট্ট ছোটনের মায়াবি চাহুনী আর আবেগী আবদার উপেক্ষা করতে না পেরে ছোটুকে নিয়ে বের হয় একদিনের ভার্সিটি হপিং(varsity hopping) মিশনে।

কোন একটা ভার্সিটির টি.এস.সি তে বৃষ্টির কারণে আশ্রয় নিতে হয় বেশ কিছুক্ষণের জন্য। বন্দী হয়ে পড়ে ওরা । সে সময়ে ছোটু বিস্ময়ের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের  বিশ্বটা কি তা খোঁজে,,, ছোটু ভার্সিটির বিশ্বটা ঠিক কি তা খুঁজে না পেলেও পায় বিচিত্র এক দুনিয়া..বিচিত্র এক দৃশ্য.. মানুষের বৈচিত্র্য … বন্ধুত্বের মিলন মেলা…। ছোটুর মনে প্রশ্ন জাগে একি ওরা এমন কি  বলছে যে সবাই একই তালে একই সাথে হাসির জোয়ারে ভাসছে… সিগারেট ১টা কিন্তু হাত বদল হয় কয়েকটা.. ছোটু মনে মনে বলে… আচ্ছা ওদের কি সিগারেটের ক্রাইসিস? নাকি এটাই বন্ধুত্ব…? আবার কয়েকটা দলকে দেখে মনে হয় ওরা গরম ঠিক হজম করতে পারে না। তাই গল্প করে করে চা খায় শরবত করে…কোন কোন দল আবার গিটার আর গলার তার ছোটায় আকাশের দিকে তাকিয়ে। ছোটুর কাছে ভার্সিটির

বিশ্বটাকে এক আজব দুনিয়া বলে মনে হয়…সে এই দুনিয়ার প্রেমে পড়ে যায়… ছোটুর উদ্দেশ্যে একটাই -বিশ্ব দেখা।  তাই ভালো একটা ইউনিভার্সিটি তে চান্স পেতেই হবে তাকে…।

ক্লাস নাইন টেন থেকেই ছোটুর নানারকম বইপড়ার অভ্যাস। যদিও এই অভ্যাসটাকে আজকাল তেমন প্রশ্রয় দিচ্ছে না সে। সামনেই তার এইচ.এস.সি পরীক্ষা। ছোটুর  এই বই পড়ার অভ্যাসটা হয়েছিল মাহমুদ ভাইয়ের কাছ থেকে। মাহমুদ ভাই প্রায়শই বিভিন্ন বইয়ের ইন্টারেস্টিং পয়েন্ট গুলি ছোট্টুকে পড়ে শুনাতেন। তখন থেকেই গল্প উপন্যাসের প্রতি একটা মোহ তৈরি হয় ছোটুর। মাহমুদ ভাই ছোট্টুর দেখা এক অদ্ভুত মানুষ যে গল্প,উপন্যাস পড়তে বসলে নাওয়া খাওয়া, এমনকি প্রাকৃতিক চাপও  মাঝে মাঝে ভুলে যায়।

মাহমুদ ভাইয়ের এই অভ্যাসটা ছোটু বেশ রপ্ত করেছে। তারও আজকাল পড়তে পড়তে বালিশ চুপসে যায় দেয়াল আর পিঠের ঘর্ষণে।এ বয়সের ছেলেমেয়েরা গোয়েন্দা,ফেলুদা,হিমু এইটাইপের সিরিজ বলতে পাগল। সেদিক থেকে ছোটুর টান অন্য ঘরোনায়। এইতো সেদিন সমরেশ মজুমদারের গর্ভধারিনী বইটা শেষ করে বললো, “কি বই-ই না লিখেছে ব্যাটা!” কোথায় যেন নিজেকে সুদীপের মত মনে হয় ছোটুর।

সমরেশ মজুমদার এই বইটিতে ভারতের বেশ কিছু জায়গার লোভনীয় বর্ণনা দেন। যার মধ্যে সান্দাকফুয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশর সাথে মেঘ ও বৃষ্টি নিয়ে যে রসায়নটা তৈরি করেছেন তিনি,,, তা পড়লে সান্দাকফু দেখতে চায়বে না এমন মানুষ পাওয়াটা দুস্কর হয়ে দাঁড়াবে। মেঘ বৃষ্টি যেন চাইলেই পাওয়া যায়, ছোঁয়া যায়, ধরা যায়। মাউন্টেইন এভারেস্ট এই বইয়ে বিশেষ স্থান পেয়েছে। অতিরিক্ত তুষার পাতে সাদা হয়ে থাকা শৃঙ্গটি সকালে সূর্যের আলোর মিশ্রণে তৈরি হয় এক হীরে খচিত সুসজ্জিত পর্বতমালা,,,। সৃষ্টিকর্তার এমন সৃষ্টির নিদর্শন আসলেই বাকরুদ্ধকর। কিছু মানুষ তো বিশ্বাসই করেন এই পর্বতেই ঈশ্বরের বাস।

ছোটু এডভেঞ্চার বলতে পাগল বিশ্বের নামি দামি এডভেঞ্চার এর উপর লেখা অনেক বই ইতিমধ্যে কয়েকবার করে পড়েছে। কেননা এডভেঞ্চার ছোটুকে এতই আকর্ষন করে যে কয়েকবার পড়েছে এমন বই ও তার নতুন মনে হয়..

ভূ-স্বর্গ কাশ্মীর নিয়ে মাহমুদ ভাই মাঝে মধ্যেই বলে এই স্থানটি নিয়ে এত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে যা ভূস্বর্গ থেকে নরকে পরিণত হতে যাচ্ছে। এই স্থানটি নিয়ে বিশ্বের সবার মতই ছোটুরও সুতীব্র কৌতুহল! কি এমন লুকায়িত সৌন্দর্য আছে সেখানে যা নিয়ে এত প্রতিহিংসার সংঘাত! নিজ চোখে তা দেখার ইচ্ছা ছোটুর। কাশ্মীর নামটা শুনলেই কেমন একটা আলাদা শিহরণ কাজ করে তার।শুনেছি পৃথিবীতেতে যতরকম সুমিষ্ট স্বাদের ফলমূল হয়ে থাকে তার পঞ্চাশ ভাগই জন্মে ভূ-স্বর্গে।

আচ্ছা এটাই কি তাহলে সংঘাতের মূল কারণ? যেন কেউ মুনাফার ভাগ না ছাড়তেই ঘটে যাচ্ছে এমন সব রক্তক্ষয়ী হৃদয়বিদারক ঘটনা!!! এ কৌতূহলের যেন শেষ নেই….

তাই মাহমুদ ভাইয়ের সাথে ছোটুর সেদিনের আড্ডা টপিক ছিল ভূ-স্বর্গ কাশ্মীর। মাহমুদ ভাই কাশ্মীর নিয়ে যে ডকুমেন্টারি টি বানাবে বলে ভেবেছে তারই  সারসংক্ষেপে শেয়ার করলেন কথার ফাঁকে।

প্যাহেল গ্রাম, একটি স্বপ্নের গ্রাম যা অনেকের কাছে ভেড়ার গ্রাম নামেও পরিচিত। স্থানীয়রা এখানে  প্রচুর ভেড়া পালন করে থাকে।এই ভেড়ার লোম রিফাইনিং করে তারা বানিয়ে থাকে ঐতিহ্যবাহী কাশ্মীরি শাল। এটি এশিয়া সহ  সমগ্র বিশ্বব্যাপি বহুল সুপরিচিত একটি পোশাক দ্রব্য।

বাইছারান, প্যাহেল গ্রামেরই বিশেষ একটি স্থান যাকে স্থানীয়রা নাম দিয়েছেন মিনি সুইজারল্যান্ড। এই সাজানো গোছানো সবুজ মাঠ, খোলা আকাশ, ছোট বড় পাহাড়ের গা দিয়ে ঘেসে আসা ঝর্ণার কল কল শব্দ, সারি সারি পাইন গাছ আর বাতাসের ঢেউ সবকিছু মিলিয়ে এই স্থানটি যেন এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ লীলাভূমি।

মাহমুদ ভাইয়ের এমন উপমা শুনে ছোটু হেসে বলে উঠল, ” ১০০ মিটার দৌড় আর ঘুড়ি ওড়ানো পতিযোগিতার জন্য পারফেক্ট প্লেস, ভাই।”

মাহমুদ ভাই আবার বলতে শুরু করলেন, “পর্যটকদের ঘুরে দেখানোর জন্য রয়েছেন অসংখ্য পানিরওয়ালা মানে ঘোড়া ওয়ালা।  স্থানীয়রা এদেরকে বলে পানির ওয়ালা।অল্প মূল্য দিলেই মেলে এই পানিরওয়ালাদের। ঘোড়ার পিঠে চড়েই যাওয়া যায় এই মন কাড়া মিনি সুইজারল্যান্ড বাইছারানে।”

পৃথিবীর ভয়াবহ রাস্তার একটি যাজিরা পাস। যে রাস্তা নির্মাণ হয়েছে পাহাড়ের গায়ে খাঁজ কেটে কেটে। এই রাস্তা প্রায় ষোল হাজার ফুট ওপর দিয়ে এঁকেবেঁকে চলে গেছে। যেখানে গাড়ি চালকরা একটু ভুল করলেই নিশ্চিত মৃত্যু।”

মাহমুদ ভাইয়ের এমন বর্ণনা ছোটুকে নিজ চোখে কাশ্মির দেখার ইচ্ছা আরো প্রখর করে তুলেছিল কয়েক গুণ। ছোটু চায় খুব শীঘ্রই আসুক এমন এডভেঞ্চার ট্যুর তার জীবনে।

কানাডা, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ দেশ যা প্রায় সাতানব্বইটা বাংলাদেশের সমান।  কিন্তু মানুষের বাস মাত্র পৌনে চার কোটি। এই দেশটি সম্পর্কে ছোটু ভীষণ ইন্টারেস্টেড। এন্টায়ার কানাডাকে তার কাছে অষ্টমাশ্চর্য বলেই মনে হয়। ওর ইউটিউব আর গুগলের সার্চ বারই সে সাক্ষ্য বহন করে। ছোটু গুগল আর ইউটিউবের কাছে এতবার এদেশটি সম্পর্কে জানতে চেয়েছে যেন কানাডায় জন্মানো কোন নাগরিকও কানাডা নিয়ে তর্ক জুড়লে ছোটুর কাছে নাস্তানাবুদ হবে।

যেসব কারনে ছোটুকে কানাডা এতো বেশি এট্রাক্ট করে তার একটা- নায়েগ্রা ফলস – শুধু পরিষ্কার পানির  বহমান জলপ্রপাতের আসা যাওয়ার খেলাও এত সুন্দর হতে পারে!!! যদিও আমেরিকা থেকে এই ফলস এক অংশ দেখা যায় কিন্তু  এর মূল সৌন্দর্য হলো  কানাডায় এবং এখান থেকে দেখলে বোঝা যায় এটা কেন সপ্তমাশ্চর্যের একটি। হাজার লাখো কোটি মানুষকে কিছুক্ষণের জন্য সব কিছু ভুলিয়ে সৌন্দর্যের নেশায় বুঁদ করে রাখতে পারে এই মাইটি ফলস।

ডেড সী (মৃত সাগর) এর চমকপ্রদ ইতিহাস  খুব জোরেসোরে নাড়া দেয় ছোটুর মনে। এটি মূলত একটি হ্রদ। এই হ্রদের তথ্য ও বৈশিষ্ট্য খুব এন্টারটেইনিং। ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক নানা কারণে এটি বিখ্যাত এবং এনিয়ে বিস্তর গবেষণা আজ অব্দি থামেনি।সে সব গবেষণা অনুযায়ী এই জলাশয়টির সৃষ্টি হয়েছিল প্রায় পঁচিশ থেকে ত্রিশ লক্ষ বছর আগে। বিখ্যাত গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটলও ভু-মধ্য সাগরের এই জলাশয়ের কথা উল্লেখ করেন তার কিছু গ্রন্থে। তার বর্ণনা অনুযায়ী এই জলাশয়ে কোন  উদ্ভিদ বা প্রাণী জীবন ধারণ করতে পারেনা। তার মানে এই হ্রদে কোন জীবনের অস্তিত্ব নেই।তবে এর পানি মানুষের ত্বকের জন্য বেশ উপকারী।এই হ্রদের পানি প্রচুর লবণাক্ত। সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে লবণাক্ত প্রাকৃতিক হ্রদ এটি।বিজ্ঞানীদের মতে, এই ডেড সী ‘র পানিতে লবণের ঘনত্ব সাধারণ সাগরের পানির তুলনায় নয় গুণ বেশি।এই হ্রদের প্রতি লিটার পানিতে বিভিন্ন লবণের পরিমাণ প্রায় শোয়া এক কেজি। অতিরিক্ত লবণ থাকায় এই হ্রদের পানিতে মানুষ ভেসে থাকতে কিছুই করতে হবে না বরং ডুবতে চাইলেই জোর প্রয়োগ করতে হবে। ছোটুর এই ডেড সী দেখার সাথে সাথে,দেখার ইচ্ছে রয়েছে মিশরের ঐতিহাতিক নীল নদ, রহস্যময় আমাজন ও মিশরের হাজারো বছরের পুরনো মানুষের তৈরী এক আশ্চর্য পিরামিড।

এখন মার্চ মাস।  সামনের মাস এপ্রিল থেকেই ছোটুর পরীক্ষা! তার পরেই বাংলাদেশের এই জেনারেশনের কাছে জীবন যুদ্ধের অন্যতম একটি হল এডমিশন টেষ্ট। যেখানে নির্ধারিত হবে একজন ছাত্রের ভবিষ্যৎ।যাচাই হয় তার মেধার জোর। যদি ও এই সমাজ ব্যবস্থায় এমন এডুকেশন সিষ্টেম ছোটনের কাছে জাস্ট একটা ঘোড়ার রেস । কিন্তু কি আজব ব্যাপার ছোটুর স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে দেখতে চাইলে এই রেসে অংশগ্রহণ করে তাকে বিজয়ীও  হতে হবে। বিশ্বকে জানার জন্য সবকিছুই সেক্রিফাইস করতে রাজি ছোটু।কোন বাধাই যেন আতকাতে পারবেনা তাকে।

পড়াশোনা নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত হয়ে পড়ে ছোটু। কলেজ জীবনের ইতি টানতে চায় স্মরণীয়ভাবে।

কিন্তু সব ব্যস্ততার  আকষ্মিক অবসান ঘটিয়ে, হঠাৎ-ই থমকে গেলা পৃথিবী, বিশ্বটাই হয়ে গেল স্তব্ধ, নিশ্চুপ । আস্তে আস্তে অচল হতে শুরু করলো সবকিছু। মানুষের জীবন যাএায় আসতে লাগলো অকল্পনীয় পরিবর্তন। পৃথীবি দেখতে শুরু করলো এক নতুন দুনিয়া। সর্বত্রই একটা আতংক COVID-19।

সাম্প্রতিক সময় ও এই আধুনিক বিশ্বে এমন আজানা আতংক মানুষকে তাড়িত করবে এটা ভাবতেই মনে হয় কোন এক দুঃস্বপ্নময়  রাত কাটাচ্ছি আমরা। সকাল হবে কখন? উত্তরটা অজানা৷ শুনেছি আমেরিকা নাকি পুরো পৃথিবীবিকে ৭ বার ধ্বংশ করার ক্ষমতা রাখে কিন্তু আজ এই ক্ষমতা ছোট্ট এক ভাইরাসের কাছে নস্যি। মৃত্যুর এই ভয়াল বেচাকেনায় সবাই যেন সস্তা পণ্য। ”চাহিবা মাত্র দিতে বাধ্য থাকিবে।”

কেমন আছে ছোট্টু জানতে চাওয়া মানুষের সংখ্যাটা অবাক করা হলেও তাকে দেখতে যাওয়া মানুষ হাতে গোনা কয়েক জন।

গত তিন দিন হলো ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে পড়ে আছে ছোটুর অজ্ঞান দেহ।  এমন নিষ্ঠুর পৃথিবী আগে কেউ কখনো দেখেছে কিনা তা অজানা। মা ছেলেকে দেখতে যায় না, ছেলে মাকে ছুঁতে চায়না।

ছোটুর পরিবারের কয়েকজন আর মাহমুদ ভাই এসেছেন দূর থেকে ছোটুকে একবার দেখতে।

দূর থেকেই দেখে বোঝা যাচ্ছে ভীষন কষ্ট হচ্ছে। ওর প্রাণপণ প্রচেষ্টা চলছে প্রতিটি নি:শ্বাস তার নিজ আয়ত্তে আনতে।কষ্টের তীব্রতায় কাতরাচ্ছে ছোটু! বাড়ির কেউ কেউ কেঁদে ফেললো ছোটুকে দেখে। কলিজার টুকরো ছোটুকে এভাবে দেখতে হবে কেউ কখনো ভাবেনি।এই বিস্ময়কর বিশ্বই এখন প্রতিমুহূর্তে তিলে তিলে কষ্ট দিচ্ছে ছোটুকে। শান্তি চায় ও পরম শান্তি।

আজ সকালে প্রাণের ছোটুকে গোসল করিয়ে খাটিয়ায় তুলে দিয়ে আসা হলো,,, চিরতরে বিদায়।

মাহমুদ ভাইয়ের আজ ছোট্টুর প্রিয় একটা কবিতা মনে পড়ছে,,,

আমাদের দেখা হোক মহামারী শেষে,

আমাদের দেখা হোক জিতে ফিরে এসে।

আমাদের দেখা হোক জীবাণু ঘুমালে,

আমাদের দেখা হোক সবুজ সকালে।

আমাদের দেখা হোক কান্নার ওপারে,

আমাদের দেখা হোক সুখের শহরে।

চৈত্রের বাতাসে মাহমুদ ভাই এর আবৃত্তি কেঁপে কেঁপে ওঠে। ভারী বাতাসে নারিকেল পাতারা ছোট্টু হয়ে জবাব দেয়,,,, আর দেখা হবে না মাহমুদ ভাই,,,  আর দেখা হবে না,,,।

মাহমুদ ঢোক গিলে এ তিক্ত সত্য হজম করতে চায়,,,এর জবাব তার কাছে নেই,,,,

চারিদিকে আঁধার নেমে আসে,,, কাকেরা উড়ে যায়,,,  নোনা জল ধোয়া হয়,,, আঁধারের বুক চিরে ভেসে ওঠে ছোট্টুর মায়াবী মুখের কায়া,,, অনন্ত অম্বরে বিলীন হওয়ার জন্য কেবলই অপেক্ষা,, শুধুই অপেক্ষা।

লেখকঃ কবি ও সাহিত্যক

আরও পড়ুন