নাস্তিকতা বনাম অসাম্প্রদায়িকতা

ফাহমিদা নীলা

নাস্তিকতাবাদ আর অসাম্প্রদায়িকতাকে অনেকেই একসাথে গুলিয়ে ফেলেন। অনেক সুশিক্ষিত মানুষেরও এ ব্যাপারে ধারণা কম আছে।

নাস্তিকতাবাদ হল, আল্লাহ্, ঈশ্বর, ভগবান বা স্রষ্টার অস্তিত্বকে পুরোপুরি অস্বীকার করা।
আর সাম্প্রদায়িকতা কি? একটি বিশেষ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের হয়ে অন্য কোন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতি বিরুদ্ধচারণ করা বা তাদের ক্ষতিসাধন করার চেষ্টা করা। এক্ষেত্রে ব্যক্তিবিশেষ গৌণ, মুখ্য হল সম্প্রদায়। ধরুন, আমি একজনকে ঠিকমত চিনিও না, কিন্তু সে অন্য সম্প্রদায়ের বলে আমি তার উপরে আঘাত হানার চেষ্টা করছি কেবলমাত্র ভিন্ন মতানুসারী বলে। এটা হল সাম্প্রদায়িকতা। আর ঠিক এর উল্টোটাই হল অসাম্প্রদায়িকতা।

এখন, প্রসঙ্গ হল, বেশীরভাগই এই অসাম্প্রদায়িকতাকে নাস্তিকতার সাথে পুরোপুরি ব্লেন্ড করে ফেলে। এরা আসলে ভন্ড। কিভাবে বলি। আমি আস্তিক। অর্থাৎ, আমি এক আল্লাহ্ই বিশ্বাস করি। ধর্ম-কর্ম পালন করি। কিন্তু তাই বলে আমি অন্য ধর্মের কাউকে দেখলেই তার প্রতি মারমুখী হয়ে উঠিনা। তার ধর্মের প্রতি কটাক্ষ করি না। এটাই অসাম্প্রদায়িকতা। কিন্তু যে নাস্তিক, সে তো কোন ধর্মেই বিশ্বাসী না। কাজেই তার কোন ধর্মীয় সম্প্রদায়ই নেই। যার সম্প্রদায়ই নেই, তার সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্ন আসবে কোথা থেকে? কাজেই যে গলা চড়িয়ে বলে, আমি এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী না, আমি অসাম্প্রদায়িক, চোখ বন্ধ করে বুঝে নিন সে আসলে একটা ভন্ড। এরা নাস্তিকতাকে প্রগতিশীলতা বা আধুনিকতার অংশ মনে করে। আসলে নাস্তিকতা নয়, বরং অসাম্প্রদায়িকতাই প্রগতিশীলতার বৈশিষ্ট্য।

আমি যেহেতু অন্য ধর্ম সম্পর্কে বিস্তর পড়ালেখা করিনি, তাই নিজের ধর্মের উদাহরণ দেই। যারা মুসলমান, যারা ইসলাম সম্পর্কে সঠিকভাবে জানেন, ইসলামের সঠিক চর্চা করেন তারা সকলেই অসাম্প্রদায়িক। কারণ, ইসলাম বিনা কারণে কারো ক্ষতিসাধনে বা বিরুদ্ধচারণে বিশ্বাস করে না। কোরআন শরীফে পরিষ্কার বলা আছে, তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না। এর মানে এই যে, তোমার ধর্ম তুমি পালন করো। তোমার আশেপাশে যারা অন্য ধর্মাবলম্বী আছে, বিনা কারণে তাদের ক্ষতির কারণ হয়ো না। একটা গল্প বলি, একদিন রাসুলুল্লাহ্ (স:) গাছের নীচে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তাঁর চোখ বন্ধ ছিল। এই সুযোগে একজন বিধর্মী তাঁর উপরে তলোয়ার তাক করে। এই সময় হঠাৎ তিনি চোখ খুলে দেখেন, তাঁর সামনে উদ্যত তলোয়ার। তার সাথে কিছুক্ষণ যুদ্ধের পর তলোয়ার ভাগ্যক্রমে নবীজীর হাতে আসে এবং বিধর্মী নিরস্ত্র হয়ে যায়। সেই বিধর্মীর উপরে কিন্তু রাসূল(স:) তলোয়ার তুলে ধরেননি। চাইলে তিনি তাঁকে দ্বিখন্ডিত করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। যতোক্ষণ বিধর্মী রাসূল(স:) এর প্রাণনাশের চেষ্টা করেছেন, ততোক্ষণ তিনি যুদ্ধ করেছেন। এরপর তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। এই ছোট্ট গল্পটি থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। ইসলামের সঠিকভাবে না জেনে যারা বিপথে যাচ্ছে, তারা পুরো মুসলমান সম্প্রদায়কে রিপ্রেজেন্ট করেনা। কাজেই মুষ্টিমেয় কিছু পথভ্রষ্ট মুসলমানের জন্য ইসলামকে সাম্প্রদায়িক বলে আখ্যা দেয়াটা মূর্খতা ছাড়া আর কিছু নয়।

আল্লাহ্ আমাদের সকলকে সঠিকভাবে জ্ঞানচর্চার তৌফিক দান করুন।

লেখকঃ ডা. ফাহমিদা শিরীন নীলা
এমবিবিএস , এফসিপিএস(অবস এন্ড গাইনী), ফিগো ফেলো(ইটালী)
গাইনী কনসালট্যান্ট
পপুলার ডায়াগনষ্বটিক সেন্টার,
বগুড়া ।

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.