বিপন্ন শৈশব

সাজেদা হোমায়রা

বিষ্ময় ভরা চোখে আমি এই পৃথিবীটাকে দেখি! কি অদ্ভুত আমাদের এই পৃথিবী!
এ মুহূর্তে হয়তো পৃথিবীর কোন এক প্রান্তে ছোট্ট বাচ্চাটা তার ছোট্ট হাত দিয়ে মাকে জড়িয়ে ঘুমাচ্ছে। কি নিশ্চিন্তে! কি নির্ভাবনায়!
মায়াময় এক অনুভূতি…..

ঠিক একই সময়ে হয়তো পৃথিবীর অন্য প্রান্তে আনন্দ উচ্ছ্বাসে খেলতে থাকা শিশুটি হঠাৎ এক বোমার আঘাতে হয়ে গেল ছিন্নভিন্ন! নিমিষেই ছোট্ট নরম শরীরটা নিথর হয়ে পড়ে রইলো….
ফুটফুটে বাচ্চাটা কোনদিন জানলো না কেন সে মরলো!

প্রতিপক্ষকে ঘৃণা করে যুদ্ধ করে বড়রা।
মারা যায় মায়াবী নিষ্পাপ শিশুগুলো!
আরাকান থেকে ইয়েমেন, ফিলিস্তিন থেকে সিরিয়া…..
শিশু হত্যার সে কী মহা উৎসব!

এ শিশুগুলো জন্ম থেকেই শুধু দেখছে যুদ্ধের আতঙ্ক আর মৃত্যুর তাড়া!
এ শিশুগুলো জানেনা দুরন্ত শৈশব কি?
বোঝে না এই গোলা বারুদ, পারমাণবিক বোমার গর্জন কেন হচ্ছে?
চোখের সামনে বাবা, মা আর প্রিয় মানুষগুলোর মৃত্যু দেখে। বাবা-মা হারা বাচ্চাগুলো শিশু বয়সেই নিজের দায়িত্ব নেয়। কি নির্মম এই জীবন!
নিষ্পাপ বাচ্চাগুলোর কান্নার আওয়াজ ইথারে ইথারে ভাসে!
বাচ্চাগুলোর আর্তনাদ আর আকুল ফরিয়াদে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হয়ে উঠে!

“আমি আল্লাহর কাছে সব বলে দেবো” বলে অসম্ভব অভিমানে মরে যাওয়া সেই সিরিয়ান শিশুর গল্পটা!
আরেক সিরিয়ান শিশু ভাবছিলো,”মরে যাওয়াই বেশি ভালো, বেহেশতে তো আর না খেয়ে মরতে হবে না।”
নিজে মরে যাবে জেনেও এক শিশু অক্সিজেনের নলটা ছোট ভাইটির মুখে লাগিয়ে রেখেছিলো। কি অসহনীয় এসব গল্প!

অথবা তুরস্কের উপকূলে মৃত্যু হওয়া আয়লানের গল্পটা!
সমুদ্রের ঢেউ ছুঁয়ে থাকা লাল জামা গায়ে আয়লানের নিথর দেহের সেই ছবিটা! যে ছবি গোটা পৃথিবীকে স্থবির করে দিয়েছিলো!

হৃদয়স্পর্শী এ গল্পগুলো আর শেষ হয়না!
মানুষ এতো নিষ্ঠুর হতে পারে! এতো নির্দয় হতে পারে!

জানিনা…
পৃথিবীর বিবেক কবে জাগ্রত হবে!
কবে থামবে ওদের কান্না!

তবুও স্বপ্ন দেখি যুদ্ধবিহীন শান্তিময় এক পৃথিবীর……
স্বপ্ন দেখি ফুটফুটে চেহারার নিষ্পাপ বাচ্চাগুলোর আতঙ্কহীন দুরন্ত শৈশব!

সাজেদা হোমায়রা সাহিত্যিক ও সহ-সম্পাদক মহীয়সী

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.