প্রক্সিগুরু

নন্দিত নন্দিনী

কাগজ-কলমে আমার নাম অনন্যা আরেফিন।ডাকনাম প্রক্সি থুক্কু প্রমি।

আমার খালাত বোন শখ করে আমাকে এই নামে ডাকত। তার থেকে বাসার সবাই এমন কি স্কুল কলেজ ভার্সিটিতেও সেই প্রমি নামেই সবাই চিনে। হ্যাঁ, প্রক্সিও কিন্তু আমার নাম। আমাদের ডিপার্টমেন্ট এর চেয়ারম্যান স্যার আমাকে “প্রমি” বদলে “প্রক্সি” নামে ভূষিত করেন। অবশ্য স্যারের দোষ না, আমার কর্ম দোষেই এমন নাম!

 

আমার জীবন টা ই কাটল প্রক্সি দিয়ে দিয়ে। ফুলের দোকান, বাদাম ওয়ালা, স্কুলের দপ্তরি কাউকেই প্রক্সি দিয়ে হেল্প করতে বাকি রাখিনাই। আর ক্লাসের বন্ধুদের প্রক্সি দেয়া ছিল আমার কর্তব্য দায়িত্ব! তো এমনি এক প্রক্সি দিতে গিয়ে স্যারের হাতে খেলাম ধরা!… স্যার নাম জিজ্ঞাসা করতেই পাশ থেকে একজন বলে উঠল প্রমি, শালা বদ প্রমি না বলে, বলে উঠে প্রক্সি। সরি বলে সংশোধন করলেও স্যার সেই প্রক্সি নাম ই নিয়ে নিলেন। আর সবাইকে বলে দিলেন আমাকে প্রক্সি নামে ডাকতে। বন্ধু-বদগুলো তো সুযোগ খুঁজে ই!… সেই থেকে বন্ধু মহলে আমি প্রক্সি নামেই খ্যাত। আমার অবশ্য এতে তেমন আপত্তি নাই। কারণ জীবনে বহু প্রক্সি দিলেও কারও কোন ক্ষতি করিনাই বা ক্ষতির উদ্দেশ্যে করি নাই। কাজেই প্রক্সি নাম আমার কাছে দাতা মুহসিন বা হাতেম তাই টাইপ সম্মানীয় লাগত।

 

সব সময় যে ইচ্ছা করেই করতাম, তা কিন্তু না। যেমন একবার বন্ধুর জন্মদিনে আমরা সবাই ফুলের গয়না পরব বলে ঠিক করলাম। ফুলের দোকানী ছিল আমাদের গ্রামের। কাজেই আমার পরিচিতি সূত্রে তার কাছে গহনার অর্ডার দিলাম। নির্দিষ্ট দিন এসে দেখি –আমার মালাগুলো আসেনাই। আমাকে দেখে কাকু ফিক করে হেসে দিয়ে বলে–মা, সব আনছি,খালি তোর মালাগুলো আসেনাই। আমি দৌড় দিয়ে যাব আর আসব। কাকুর বাসা ছিল দোকান থেকে পাঁচ মিনিটের পথ। ভাবলাম পাঁচ আর পাঁচ দশ মিনিটের ই ত ব্যাপার!কাকু কয়েক গজ গিয়ে ফিরে এসে বলে–মা, দশ টা বাজে,এখনো নাস্তা খাবার সময় পাইনাই। কাউরে দোকানে বসায়ে যাব তাও পাইনাই। তুই যখন আছিস,আমি খেয়েই আসি?… রেগে উঠতে গিয়েও ভাবলাম–আহা, বেচারা এত বেলা অব্দি খায়নাই!… রাজী হয়ে গেলাম। কাকু যাবার কয়েক মিনিট পর ই এলেন এক ব্যস্তসাহেব। তার তেইশ টা গোলাপ চাই!… বল্লাম–কাকু নাই, অপেক্ষা করেন। নাহ, তার এক্ষুনি চাই!!… আমাকে বলে,–  আপনার কাকু নাই, আপনি তো আছেন। তেইশ টা গোপাল গুনে দিলেই তো হয়।দাম তো লেখাই আছে!!… দুষ্টুমি মাথায় চাপল। সত্যিই তাকে গোলাপ দিয়ে বসে থাকলাম কাকুর চেয়ারে! এবারে এল আরেক জন!… তাদের বেলির মালা লাগবে!… যা বাবা নিয়ে যা!…. বাড়তি কথা না বলে বিক্রি করলাম বেলির মালা। কিছুক্ষণ পর কাকু এসে তো হেসেই খুন!… 

 

আরেকবার কোচিং  থেকে কলেজে যাবার সময়ে বাদাম কিনলাম দশ টাকার, দিলাম পঞ্চাশ টাকার নোট… বেচারা তো হা করে রইল! তার কাছে ভাংতি নাই।আমাকে দাঁড় করিয়ে রেখে একটু দূরে মুদি দোকানে যায় খুচরা টাকা আনতে এমন সময় সাত আট জন ছেলে আসে বাদাম নিতে। বাদাম মামা কে না পেয়ে আমাকেই বলে–তুমি তো আছই। আমরা বাদাম নিয়ে টাকা রেখে যাই? একটু তাড়া আছে। আমি বল্লাম– বাদাম নিতে পারেন, তবে টাকা খুচরা দিতে হবে। মামা পঞ্চাশ টাকা খুচরা আনতে গিয়ে হাওয়া হয়ে গেছেন।আমার কাছে নাই। তারা রাজি হয়ে আটজনেই দশ টা নিয়ে একশ টাকার নোট দিয়ে গেল!… মামা এসে শুনে বলে–এখন প্রত্যেকদিন তোমাকে দাঁড় করিয়ে রেখে ভাংতি আনতে যাব!…

 

দপ্তরি কাকুকে অবশ্য একটু ইচ্ছে করেই ঘোল খাইয়েছিলাম। তখন টেন এ পড়ি। পঞ্চম ঘন্টার পরে টিফিন হতো। সেদিন স্যার আমাদের পাঁচ মিনিট আগে ছেড়ে দিলেন। আমরা সোজা কলপাড়ে গিয়ে দেখি কাকু দেয়ালের ওপাশে তার লাইলীর সাথে গল্প জমিয়েছেন। অথচ এখনি ঘন্টা দিতে হবে– তা যেন খেয়াল ই নাই। এই লাইলি মানুষ টা বেশি সুবিধার না।আমরা টিউবওয়েল এর পাশে জড়ো হয়ে বেশি জোরে হাসলেই ওপাশ থেকে ধমক দেয়!… মনে মনে ভাবলাম, এই সুযোগে লাইলির মজনুকে একটু সাইজ দেই।ভালমানুষের মত মুখ করে বল্লাম–কাকু, এখনি ঘন্টা পড়বে, আপনি তো এখানে, আমরা বেল বাজাই?… কাকু ভাবলেন, লাইলিকে আরও কিছুক্ষণ কাছে পাওয়া যাবে। রাজি হলেন। আমরা গিয়ে টিফিনের ঘন্টা না দিয়ে সোজা ছুটির ঘন্টা দিয়েই দৌড়ে সোজা ক্লাসে…! কাকু আসতে আসতেই কয়েক ক্লাস থেকে স্টুডেন্ট বেরিয়ে গেছে। হেডম্যাডাম তো রেগেই অস্থির!…অন্যান্য টিচার ও অবাক!.. ভাগ্যিস সেদিন প্রচন্ড গরম ছিল…! মাঠে সবাই জড়ো হয়ে ম্যাডামের কাছে মৌখিক ছুটি নিয়ে বাসায় চলে গেল। কাকু কোনরকম মাফ চেয়ে পার পেলেন। আর আমরাও পরে কাকুর কাছে আগডুম বাগডুম বলে মাফ চেয়ে নিলাম।

 

ক্লাসে বন্ধুদের প্রক্সি দেয়া শুরু করেছিলাম কলেজে উঠে। আমাদের সাইন্স গ্রুপের মেয়েদের সাথে বাংলা-ইংরেজি টিচারদের যেন একটা অলিখিত বিরোধ ছিল।অন্য বিল্ডিং থেকে এসে ক্লাসে যোগ দিতাম বলে একটু দেরি হত। এটা তারা বুঝতেই চাইতেন না। আর্টস এর মেয়েরা এই সুযোগে প্রথম বেঞ্চগুলো দখল করত, আর আমরা হতাম স্যারদের চোখে ব্যাক-বেঞ্চার। কাজেই আমরাও একজোট হয়ে স্যারের বাক্য প্রতিহত করতাম। দু’একজন অনুপস্থিত থাকা অস্বাভাবিক না।কিন্তু স্যার তাতেও জ্বলতেন। আমরাও সেটা বুঝতে পেরে আমাদের গ্রুপের সবাইকে প্রেজেন্ট শো করতাম।কেউ না এলে তার উপস্থিতি ও দিয়ে দিতাম। একজন বাংলা ম্যাডাম ছিলেন, আমাদের খুব ভাল বাসতেন।আমাদের সমস্যা বুঝতেন। আমরা যেদিন দেরি করে ক্লাসে ঢুকে রোল লিখে স্লীপ দিতাম, ম্যাডাম হেসে বলতেন–সবার নাম ই তো দেবে জানি। তাই আমিও কাউকে বাকি রাখি নাই। স্লীপ আর লাগবে না। লজ্জায় আমরাও মাথা নিচু করে থাকতাম।

আমাদের এক বান্ধবি ছিল মাহবুবা। খুব কনজারভেটিভ ফ্যামিলির মেয়ে। কোথাও বন্ধুদের সাথে যেতে পারত না। একবার আমাদের শহরে ছোটখাটো একটা বইমেলা হল। ওর ইচ্ছে সেখানে যাবে। বাসা থেকে নিশ্চয় এলাউ করত না। তাই ক্লাস ফাঁকি দিয়েই গেল। আমার সেদিন প্র‍্যাক্টিক্যাল খাতা সাইন করাবার ছিল তাই গেলাম না। মাহবুবা সহ আরও কয়েকজন গেল। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সেদিন ওর এক কাজিনও ওই মেলায় আসে। ও তখন বেরিয়ে যাচ্ছে।বাসায় গিয়ে দেখে ঝড়!… ওর তো পড়াই বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল “অবাধ্যতা”র অভিযোগে! মাহবুবা অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে জোর দিয়ে বলে ফেলে–আমার বন্ধুদের কাছে জিজ্ঞাসা কর!… পরিবার ভাবে বন্ধুরা মিথ্যে বলতে পারে। তারা ওইদিনের সব ক্লাসের এটেন্ডেন্স খাতা চেক করে!!… এবং যথারীতি “প্রেজেন্ট”…!!!

পরদিন মাহবুবা আমাকে জড়িয়ে ধরে সে কী দু’আ –দোস্ত দু’আ করি পৃথিবীর সেরা প্রক্সিবাজ হ তুই।তোর প্রক্সি যেন জীবনেও কেউ বুঝতে না পারে!!

যদিও সে আর কখনওই এমন অন্যায় রিস্ক নেই নাই।তওবা করে ভাল হয়ে গেছে।

 

ভার্সিটিতে কিছুদিন ভাল ছিলাম। পরে দেখি টুকটাক সবাইই একাজ করে থাকে। ফলে আমিও শুরু করলাম। এভারেজ প্রতিদিন একজনের প্রক্সি আমি দিয়ে চলেছি। কিন্তু সমস্যা হল চেয়ারম্যান স্যারের ক্লাসে একদিন। আমি নিজের টাও নিজের নাম লিখেছি, বন্ধু শিউলী’র টাও নিজের নাম লেখেছি!…  যাহ্‌ বাবা! স্যারের সেদিন ই চেক করতে হবে!… পড়লাম ধরা!… স্যার আমাকে দাড় করিয়ে নাম জানতে চাইলেন। আমি অনন্যা বলতেই পাশ থেকে বিন্দু বলে স্যার,ওর নাম প্রক্সি!… শালা জিভ পিছলে এমন শব্দ বলে ফেল্ল!!…সবাই হো হো করে হেসে উঠে। স্যার ও না হেসে পারলেন না… বল্লেন–ঠিকি বলেছ। ওর নাম প্রক্সিই হওয়া উচিৎ। আজ থেকে সে প্রক্সি।

 

সব শালি স্যারের সাথে তাল মিলিয়ে আমাকে প্রক্সি ডাকা শুরু করল। অবশ্য তার আগে আমাকে কনভিন্স করে নিয়েছিল–ভালবেসে তারা আমাকে প্রক্সিগুরু বলে ডাকতে চায়!!…যাদের জন্য চুরি করি,তারাই যখন চোর ডাকতে চায়–ডাকুক। স্কুলের প্র‍্যাক্টিক্যাল খাতায় স্যারের সাইন, কলেজে খাতায় লিখে দেয়া, একেঁ দেয়া, ভার্সিটিতে এ্যাসাইনমেন্ট লিখে দেয়া– কোথায় আমার প্রক্সির রেকর্ড নাই!… সেই আমি আজ প্রক্সি নাম ই উপাধি পেলাম। সাধু… সাধু।

 

আমাদের এক পাড়াত বোন ছিল নাম সুরভী। সেই বোনের ছোট বোন আবার আমার প্রাইমারীর ক্লাসমেট। হাইস্কুল পর্যায়ে আমরা আলাদা স্কুলে পড়েছি। তবে সম্পর্ক আগের মতই ছিল। পাড়া বেশ রমরমা ছিল সেই সুরভীর প্রেম কাহিনী। সুরভীর বাবা একটু রগচটা টাইপের ছিলেন। সুরভীর পরিবার আর তার ইয়ে মানে মামুন এর পরিবারের ও নাকি পুরানো সম্পর্ক ছিল। স্বার্থ-ইগোর দ্বন্দ্ব যদিও তা আড়াল করে দিয়েছে। তাই সুরভীর বাবা এই ছেলের কাছে মেয়ে বিয়ে দেবেন না। অবশ্য তখনো সুরভীর প্রেমিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। কয়েক বছর এমন টানটান উত্তেজনা শেষে হুট করে বিয়ে হয়ে  গেল সুরভীর।প্রেমিক সাহেব তখন পড়া শেষ করেছেন বটে,তবে চাকুরি মেলেনি। আমি বা আমরা তখন কলেজ ছাড়ি-ছাড়ি।

 

আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র এলাম, তখন সেই ভদ্রলোক খুব ভাল একটা জব নিয়ে “বেকার” থেকে “স্ব-কার” হয়ে গেলেন। চাকুরি পাবার সাথে সাথেই হটকেক এর মত দাম বেড়ে গেল তার। বিয়ের বাজারে যথেষ্ট দামে বিক্রি হলেন তিনি। তারও এক্কেবারে লস হয়নাই। সামাজিকতার দাঁড়িপাল্লায় বরং  একটু ভারিই পেয়েছে সুরভী’র তুলনায়।

 

বেশ ভালই চলছিল। কিন্তু খুব কম সময়ের মধ্যেই সুরভীর এক্স প্রেমিক থুক্কু প্রেমিক তার বিয়ে করা বৌকে জানিয়ে দেয় তার মধ্যে সুরভীর অবস্থান অক্ষয়। প্রথম প্রথম ভেঙ্গে পড়লেও মেয়েটি ধরে নিয়েছিল– সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু ঠিক তো কিছু হয়ই না, বরং দিনে দিনে মেয়েটি আবিষ্কার করে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মাঝখানে রবীন্দ্রনাথ এর মধ্যবর্তিনীর মত একজন উপস্থিত হয়ে চায়ের কাপে তোলা ঝড়টা থামিয়ে দিচ্ছে। খুব চেষ্টা করেও সে পারে না এই অস্তিত্বহীন ছায়াটাকে এভোয়েড করতে। তবু নিজেকে বোঝাতে থাকে– সে শুধু ছায়া, আমার দুঃস্বপ্ন। অথচ সেই দুঃস্বপ্ন কে সত্যি করে একদিন মামুন-সুরভীর দেখা হয়।মামুন জানত, তাদের বিখ্যাত প্রেমকাহিনী সবার জানা, সে সুত্রে তার বৌ নিশ্চয় জানে।তবু বৌয়ের অগোচরে দেখা করে। আর মিথ্যে বলে মেয়েটিকে।

 

মামুন তার বৌকে খুব উদার মনে করেছিল!… তার ধারনা ছিল–বৌ কিছু মনে করবে না। মেয়েটি হয়ত ব্যাপারটা স্বাভাবিক ভাবে নিত, কিন্তু মামুন এর মিথ্যেটা সে মেনে নিতে পারেনি। ফলাফল—? অস্তিত্বহীন ছায়া তার অন্তরে স্থায়ী অবিশ্বাস রূপে গেড়ে বসে। নাহ, মেয়েটি আর মামুন কে বিশ্বাস করেনা। তার আর নিজেকে মামুনের আপন মনে হয় না। মনে হয়–এইতো, এখনি এসে সেই ছায়াটা আসল হয়ে তাড়িয়ে দেবে তাকে। হয়ত চ্যালেঞ্জ ই ছুড়ে দেবে!… কেন সে একটা কাগজের সম্পর্ক নিয়ে পড়ে আছে!!… যদিও ঠাট্টার ছলে মামুনই বলেছিল–ওপারে হলেও সে আসবে।

 সংসারের বয়স অনেক হয়ে গেছে। তবু মামুন এর বৌ পারছে না এই সংসারের কর্তৃত্ব আদায় করতে। না, মামুন তাকে আটকায় নি। সে নিজেই নিজেকে আটকে রাখে। সবার অলক্ষ্যে মেয়েটি হয়ে পড়ে হতাশাগ্রস্ত,বিষাদগ্রস্ত, অমনোযোগী। এ নিয়ে মামুনের অভিযোগের শেষ নাই। কিন্তু মামুন জানে না– মেয়েটা ভিতরে ভিতরে কত টা ক্ষয়ে গেছে তার অবহেলায়।

ব্যক্তি হিসেবে মামুন যথেষ্ট দায়িত্ববান হলেও স্বামী হিসেবে সে বুঝতে চায় নি তার বিয়ে করা বৌ কে।একটা চঞ্চল দুরন্ত মেয়ে কেন নিশ্চুপ হয়ে গেল কখনো খুঁজে দেখেনি। হয়ত প্রয়োজন ই মনে করে নি।

 

আর তাই অনেক বছর সংসার করেও মেয়েটি আর তার কাগুজে স্বামীর প্রতি অধিকার ফলাতে পারে না।জোর করে কিছু বলতে পারে না। কিছু চাইতে পারে না।শুধু মনে হয়–আমি কে? কেন তার কাছে চাইব? সে ই বা কেন দেবে?… আমিত ক্ষনিকের অতিথি মাত্র!… সুরভীর অনুপস্থিতিতে বৌ-প্রক্সি মাত্র! 

 

ফুলের দোকান, বাদামের দোকানে প্রক্সি দেয়া ছিল উপভোগ্য,  কিন্তু জীবন নাটকে প্রক্সি দেয়া মোটেও সহজ ব্যাপার না।অথচ এই অসাধ্যসাধন করছি আমি– প্রক্সিগুরু প্রমি!

 

মাঝেমাঝে ইচ্ছে করে আমার সেই শুভাকাঙ্ক্ষী দোস্ত মাহবুবা কে জড়িয়ে ধরে বলি–দোস্ত ফিরিয়ে নে তোর দু’আ। আমি আর পারছি না। তোর কথামত “সবচেয়ে বড় প্রক্সিবাজ” হয়ে নিজের অনুভূতিকে প্রক্সি দিতে দিতে আমি ক্লান্ত। অথচ কেউ জানে না– আমিই দুনিয়ার মস্তবড় প্রক্সিবাজ।

#নন্দিত_নন্দিনী

আরও পড়ুন