২৫ ফেব্রুয়ারী ২০০৯!

ডাঃ জোবায়ের আহমেদ

কতটুকু অশ্রু গড়ালে হৃদয় জলে সিক্ত,
কত প্রদীপ শিখা জ্বালালেই জীবন আলোয় উদ্দীপ্ত।
কত ব্যাথা বুকে চাপালেই তাকে বলি আমি ধৈর্য্য,
নির্মমতা কতদূর হলে জাতি হবে নির্লজ্জ।

আমি চিৎকার করে কাঁদিতে চাহিয়া করিতে পারিনি চিৎকার।
বুকের ব্যাথা বুকে চাপায়ে নিজেকে দিয়েছি ধিক্কার।

হায়দার হোসেন অশ্রুসিক্ত চোখে মিনতি করেছিলেন,হে আল্লাহ আমাকে যেন এমন গান আর লিখতে না হয়,গাইতে না হয়।।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী।
বাংলাদেশের নীল আকাশ ভারী হয়ে উঠেছিলো দেশ মাতৃকার সূর্য সন্তানদের লাশের স্তুপ ও স্বজনদের আহাজারিতে।

তখন এমবিবিএস ফাইনাল ইয়ারে পড়ি।
ইন্টার্ণী হোস্টেলের টিভি রুমে আমি ও আমার বন্ধুরা বসে বসে দেখলাম সেই নির্মমতার প্রকাশ।

শিউরে উঠেছিলাম সেদিন।
ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছিলো সেদিন।

সময়ের সাথে সাথে আমরা ভুলে গেছি।
সয়ে গেছি।
কিন্ত যার চলে যায় সেই বুঝে হায় বিচ্ছেদে কি যন্ত্রনা।

সেই পরিবার গুলোর কান্না কি কোনদিন থামবে??
ছোট্ট যে শিশুটি বাবাকে চিরতরে হারিয়েছে, সে কি আর বাবার কোলে উঠতে পারবে?
বাবার হাত ধরে মসজিদে যেতে পারবে।
আদুরে কন্যাটি আর কোনদিন বাবার কাছে বায়না করবে না।
প্রিয়তমা স্ত্রীর অপেক্ষার প্রহর কোনদিন আর শেষ হবেনা।
নিজ হাতের রান্না করা খাবার আর কোনদিন প্রিয়তম স্বামীর পাতে তুলে দিতে পারবেন না।

বাবা হারানো সেদিনের অবুঝ শিশু গুলো আজ বড় হয়ে গেছে অনেক।
কিন্ত বাবার স্মৃতি কি তারা ভুলে যেতে পারবেন।
বাবার সেই ক্ষতবিক্ষত লাশের ছবিটা যখন নির্ঘুম কোন রাতে চোখের আলোয় ভেসে উঠে তখন তাদের ভেতরে কতটা রক্তক্ষরণ হয় তার হিসাব আমরা রাখিনা।

এই মাটিতে মজলুমের আর্তনাদ কি থেমেছে না বেড়েছে?

আমরা আবরার ফাহাদ কেও ভুলে গেছি।
স্বপ্নবাজ দেশপ্রেমিক তরুণ মেধাবী ছেলেটি পুরো শরীরে ছোপ ছোপ রক্তজমাট বাঁধা আঘাতের চিহ্ন নিয়ে চিরতরে ঘুমিয়ে পড়েছে।
কিন্ত তার মায়ের আর্তনাদ কি থামবে কোনদিন??

অনেক প্রশ্ন মাথায় ঘুরে?
প্রশ্ন করার সাহস নেই আমাদের।
আমরা ভীরু কাপুরুষ।
আমাদের বাবা দাদারা জীবন দিয়ে এমন স্বাধীনতাই আমাদের উপহার দিয়েছেন যেখানে আমাদের কন্ঠ স্তিমিত রাখতে হয়।।

বিচার শব্দটি এই দেশে প্রহসনে পরিনত হয়েছে।
বিচার চাইও না।

মজলুমের ফরিয়াদ তাঁহার দরবার থেকে ফিরে আসেনা।
তিনিই উত্তম বিচারক।
তার দরবারে মিনতি জানাই, হে মহান প্রভু আপনি দেশমাতৃকার সকল সূর্য সন্তান শহীদদের জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করুন।
তাদের ব্যাথাতুর স্বজনদের এই শোক বয়ে বেড়ানোর শক্তি দিন।।

আরও পড়ুন