মশা মারার কেরানী চাই

রিতু আদ্রিতুল

ডেঙ্গু থেকে বেঁচে ফিরে অডোমাস বা যে কোন মসকিটো রিপিলেন্ট কিনতে গিয়েছিলাম লাজ ফার্মায়।কাউন্টারে বলল স্টকে নাই। একটু আড়ালে ডেকে বলল বেশি দাম দিলে দেয়া যাবে!!! আমার কাছে ওষুধের দোকানে ঘুষ দেয়ার চেয়ে মরে যাওয়াই ভাল মনে হল।মরতে তো একদিন হবেই।ঘুষ না দিয়ে মরি সেই ভালো।

বাংলাদেশে এন এস আই এ ৫ লাখ আবেদন পড়েছে।বিসিএসও তাই।সব চাকুরীতে লাখ লাখ আবেদন পড়ছে।সবাই কোট টাই পরে গাড়ি হাকিয়ে চেয়ার টেবিলে বসে চাকুরী করতে চায়।কেউ উদ্যোক্তা হতে চায় না। লাখে লাখে মাছি মারা কেরানী উৎপাদন করছে বাংলাদেশ আর মশা মারার একটি ওষুধের জন্য ভারতের ওডোমাস কিনতে হয়।সেই ওডোমাস নিয়ে ব্যবসা হয়, ঘুষ আদান প্রদান হয়!!! কিন্তু একটা তরুণও ওডোমাসের ফ্যাক্টরি বানায় না।

আমাদের শিক্ষিত কৃষক দরকার,শিক্ষিত ড্রাইভার দরকার,শিক্ষিত শ্রমিক দরকার ইভেন শিক্ষিত রিকশা ওয়ালা দরকার।।।শিক্ষিত মশা মারার উদ্যোক্তা দরকার। কিন্তু আমরা দলে দলে মাছি মারার কেরানী বানাচ্ছি। মাছি মারার দরকার নাই।বিজ্ঞান বলে মাছির এক পাখায় অসুখ অন্য পাখায় ওষুধ। হাদিসও তাই বলছে। তাই মশা মারার কেরানী লাগবে।

বৈশ্বিক উষ্ণতার সাথে রোগের প্রকোপ বাড়বে।সেটা প্রকাশ্য।।সেই রোগ প্রতিরোধের চিন্তায় মগ্ন তরুণ ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার,বিজ্ঞানী, আবিষ্কারক লাগবে। বিদেশ থেকে ডিগ্রী নিয়ে আসা সরকারের চরিত্রহীন জনতা লাগবে না।নিজের ঘর দ্বোর,টেবিল পরিষ্কার না করতে পারা অথর্ব সমাজ লাগবে না।

কর্মঠ তরুণ সমাজ লাগবে। যাদের একটা আধাপোয়া ফাইল এগিয়ে দিতে পাঁচজন লোক লাগবে না। জাতি ভুল পথে হাটছে।আমরা নিজেরা নিজেদের সন্তানের জন্য অসহনীয় সমাজ তৈরি করছি। ‘মানুষ যে আযাবে পড়ে তা তার নিজের হাতের কামাই।’আমরা নিজ হাতে ধ্বংসপ্রাপ্ত সমাজ কামাই করছি,যে সমাজের বাসিন্দা আমাদের সন্তানরা,আমাদের ভবিষ্যৎরা।

লেখকঃ সহকারী অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.