আধুনিক কনের সাজসজ্জা ও ইসলাম

রিতু কুণ্ডু

বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ।এদেশের প্রত্যেকটি মুসলিম পরিবার ইসলামের আদব পুরোপুরি না মানলেও বিশেষ সময় গুলোতে কিছুটা হলেও মানে।তা না হোক অন্তত আল্লাহর কথা স্মরণে রাখে। বর্তমান সময়ে ইসলামের বিধানগুলো থেকে আমরা সরে আসছি।একটি মেয়ের বিয়ের সাজসজ্জার দিকে যদি আমরা তাকাই তাহলেই কিন্তু এটা লক্ষ করা যায়। বিয়ের মাধ্যমে একজন মুসলিমের দ্বীনের অর্ধেক পূরণ হয়।অথবা বলা যায় একজন মুসলিম যখন বিয়ে করে তখনই তার দ্বীনের পথে প্রবেশ ঘটে কারণ এর আগে সে ছিল সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং কোন কিছুর দায়িত্বই তাকে নিতে হত না।কিন্তু বিয়ে মানে দুটি পরিবার,দুটি মানুষ আর অনাগত সন্তানের দায়িত্ব নেয়া শুরু হয়। তো মুসলিমদের দ্বীনের পথে প্রবেশের প্রথম মুহূর্তেই ঠিক কতখানি আল্লাহর আদেশ ও হাদিসের অবাধ্যতা আমরা চেতন বা অবচেতন মনে করে ফেলি তা আমরা নিজেরাই বলতে পারবো না।যে মেয়েটা খুব আল্লাহভীরু সেও হয়তো সমাজের সয়ে যাওয়া কিছু অসামঞ্জস্যতার চাপে পড়ে আল্লাহ ও তার বিধানের অবাধ্য হয়ে ওঠে।

আজকালকার বিয়েতে চুল ফুলিয়ে সাজসজ্জা করার এক অবাস্তব নিয়ম চালু হয়েছে।বেশিরভাগ মেয়েকেই চুল ফুলানো অবস্থায় অস্বাভাবিক লাগে যা তার ন্যূনতম সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়।মুখের সাথে বেখাপ্পা চুল ফুলিয়ে কেমন অদ্ভুত মেকি একটা চেহারা তৈরি করে দেয়। অথচ ইসলামে স্পষ্ট নিষেধ আছে চুল ফুলিয়ে সাজসজ্জা করা নিয়ে। যে সাজটা সুন্দর তো নয়ই বরং জোকার বানিয়ে দেয় সেই সাজ কেমন করে দেয় বলা মুশকিল। ছবি তোলা হয়েছে আরেক যন্ত্রণা।ছবি তোলার হিরিক্কিতে অধিকাংশ সময় বর কনে দেখার আশা বাদ দিয়েই কাচ্চি খেয়ে আসতে হয়।আর লাখ লাখ পিস ছবি দেখে পরবর্তী এক বছরের মধ্যেও কেউ আর জামাই বউকে চিনতে পারবে না নিশ্চিত।সেই ছবি দিয়ে কি হবে যেটা দেখে আপন সন্তানই বলবে আন্টি!!!ইসলামে ছবি তোলাতেও নিষেধাজ্ঞা আছে।

হলুদের প্রয়োজন ছিল যখন পার্লার ছিল না।বিয়ের মূল আকর্ষণ বর কনেকে যেন ন্যাচারাল ব্রাইট লাগে এজন্য হলুদ মাখানোর রেওয়াজ ছিল।আজকাল পার্লারে সেজে এসে হলুদের বদলে উপটান মাখিয়ে কেন হলুদের অনুষ্ঠান হয় তা বোধগম্য না।।এখানেও আছে মূর্খতা আর অপচয়।

সর্বশেষ অবস্থা হল চন্দ্রমূখী সাজসজ্জা।বউ মানে চন্দ্রমূখী আর বর মানে বাজিরাও।কিন্তু সাজের অতিশয্যে মেয়েরা ভুলে গেছে চন্দ্রমুখীতে মূলতো যে সাজসজ্জা নেয়া হয় তা হল বাইজীদের সাজ।মানে রাজা বাদশাদের আমলে যারা নেচে গেয়ে অর্থ উপার্জন করতো।নিজের বিয়ের মত এত সুন্দর একটা দিনে অধিকাংশ শিক্ষিত বা অশিক্ষিত মেয়ে যাই হোক না কেন নিজ খরচে বায়েজী সাজতে চায় কেন এটাও বোধগম্য না।সমাজে একটা ক্লাস স্ট্রাকচার আছে,সাজেরও একটা রকমফের আছে।বায়েজীরাও মানুষ কিন্তু তাদের সাজ তাদের আর একটি পরিবারের মধ্যমণি যে তার সাজ আলাদা হবে এটাই স্বাভবিক।সৌন্দর্য বলেও তো কথা আছে।কেউ রাজরাণীর মতো সুন্দর দেখাতে চায়,কেউবা বায়েজীর মতো।আমাদের বিয়েতে কনেদের বায়েজী সাজার দিকেই ঝোক বেশি। বাংলাদেশের অধিকাংশ ছেলে মেয়ে এগুলোকে সাথে করে দ্বীনের পথে প্রবেশ করছে।যে কারনে পলেস্তারা উঠে খুব অল্পদিনেই সাজসজ্জার ন্যায় ভালোবাসা,সম্পর্ক আর শান্তিতে ক্ষত তৈরি হচ্ছে। সেই বিয়েই সবচেয়ে বরকতময় যেখানে খরচ সবচেয়ে কম।অবাধ্যতার পরিমান সবচেয়ে কম আর শান্তির পরিমাণ সর্বাধিক।আল্লাহর রহমত আর বরকত বর্ষিত হয় তাদের উপরেই যারা আল্লাহর আদেশে অর্ধেক দ্বীন পূরণ করে।

লেখকঃ রিভারটেড মুসলিম ও সহকারী অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.