Ads

আন্তঃধর্ম বিবাহে ইহকাল ও পরকালের প্রাপ্তি

।। ড. মুর্শিদা খাতুন ।।

আন্ত: ধর্ম বিবাহের বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করতে হলে প্রথমে আল-কোরআন ও হাদিসের মতামত পর্যালোচনা করতে হবে। ইসলামের বিধান মতে,  একজন মুসলিম পুরুষকে  ‘আহলে কিতাব’ (যারা ধর্মগ্রন্থে বিশ্বাস করে, যেমন খ্রিস্টান বা ইহুদী) নারীর সাথে বিবাহ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু মুসলিম মহিলাদেরকে মুসলিম পুরুষ ছাড়া অন্য ধর্মের পুরুষদের সাথে বিবাহ করার অনুমতি নেই।

আল-কোরআনের ভাষ্যমতে,

”আজ তোমাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করা হল। আহলে কিতাবদের খাদ্য তোমাদের জন্যে হালাল এবং তোমাদের খাদ্য তাদের জন্য হালাল। তোমাদের জন্যে হালাল সতী-সাধ্বী মুসলিম  নারী এবং তাদের সতী-সাধ্বী নারী, যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে । ”(সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৫)

এই আয়াতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে মুসলিম পুরুষরা আহলে কিতাব নারীদের সাথে বিবাহ করতে পারে।

হাদিসের ভাষ্যমতে,

“আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেন: ‘যে কোনো মুসলিম পুরুষ আহলে কিতাবের নারীর সাথে বিবাহ করতে পারে, কিন্তু মুসলিম মহিলারা অমুসলিম পুরুষদের সাথে বিবাহ করতে পারবে না।'” (সাহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ৩৪৭২)

এই হাদিসের মাধ্যমে বুঝা যায় যে, মুসলিম পুরুষদের জন্য কিছু ছাড় দেওয়া হলেও, মুসলিম মহিলাদের ক্ষেত্রে এমন অনুমতি নেই।

আরও পড়ুন-

যে কারণে রাতের ইবাদাত অধিক ফলপ্রসূ

ইহকাল ও পরকালের প্রাপ্তি

ইহকালীন প্রাপ্তি

আন্তঃধর্ম বিবাহ, যেখানে একজন  মুসলিম  ও অমুসলিমের মধ্যে বিবাহ বন্ধনকে বুঝায়।  ইসলামে এটি  একটি বিতর্কিত বিষয়। আল-কোরআন এবং হাদিসের আলোকে এই বিবাহের ফলাফল এবং প্রভাবগুলি বিশ্লেষণ করা জরুরি।

১. ধর্মীয় দ্বন্দ্ব এবং পারিবারিক সংঘাত

আন্তঃধর্ম বিবাহের ক্ষেত্রে, ধর্মীয় পার্থক্যগুলি বিবাহিত জীবনে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করতে পারে। কোরআনে বলা হয়েছে,

আর তোমরা মুশরিক নারীদের বিয়ে করো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। একজন ঈমানদার দাসী একজন মুশরিক নারীর চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদের খুব পছন্দ হয়।” (সুরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২২১)

২. সন্তানদের ধর্মীয় পরিচয়

আন্তঃধর্ম বিবাহের ক্ষেত্রে সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা এবং পরিচয় নিয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে। সন্তানদের ইসলামিক শিক্ষায় লালন-পালন করা কঠিন হতে পারে যদি বাবা-মা বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী হয়ে থাকে।

মোটকথা আন্তঃধর্ম বিবাহে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পার্থক্যের কারণে জীবনযাপনে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ হতে পারে। সঠিক বোঝাপড়া এবং সম্মানজনক সম্পর্ক রক্ষার মাধ্যমে এ সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যেতে পারে।

সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি বজায় রাখা একে অপরের সম্মানের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।

আরও পড়ুন-

সন্তানকে মুমিন হিসেবে গড়ে তুলতে করণীয়

পরকালীন প্রাপ্তি

আন্তঃধর্ম বিবাহের পরকালীন প্রাপ্তি সম্পর্কেও ইসলামে কিছু সতর্কতা রয়েছে। আল-কোরআন এবং হাদিসে এ বিষয়ে কিছু নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

১. ঈমান ও ঈমানের অভাব

আন্তঃধর্ম বিবাহের ফলে একজন মুসলিম তার ধর্মীয় বিশ্বাস এবং অনুশীলনে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কোরআনে বলা হয়েছে, “তোমরা কাফিরদের বন্ধু বানিও না।” (সুরা আলে ইমরান, আয়াত ২৮)

২. জান্নাত ও জাহান্নামের প্রশ্ন

আন্তঃধর্ম বিবাহের ফলে একজন মুসলিম তার ধর্মীয় নির্দেশনা থেকে দূরে সরে যেতে পারে, যা তার জান্নাত লাভের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

“যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের অনুসরণ করবে, তা কখনোই তার কাছ থেকে গ্রহণ করা হবে না এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (সুরা আল-ইমরান, আয়াত ৮৫)

ইসলামের  দৃষ্টিতে , একজন মুসলিম হিসেবে আল্লাহর নির্দেশাবলীর প্রতি আনুগত্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আন্তঃধর্ম বিবাহের ক্ষেত্রে এটি একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে যদি ধর্মীয় বিষয়গুলোতে আপোষ করতে হয়।

আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য বিবাহ হল যেখানে উভয় পক্ষই আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও ইবাদত পালনে সচেষ্ট থাকে।

উপসংহার

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, একজন মুসলিম পুরুষ আহলে কিতাবের নারীর সাথে বিবাহ করতে পারে, কিন্তু মুসলিম নারীর জন্য এটি নিষিদ্ধ। আন্তঃধর্ম বিবাহে উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইহকাল ও পরকালে সুখী জীবন যাপন করতে হলে আল্লাহর নির্দেশাবলী মেনে চলা আবশ্যক।

মূলত: আন্তঃধর্ম বিবাহ ইসলামে একটি জটিল বিষয় এবং এর বিভিন্ন প্রভাব রয়েছে ইহকাল এবং পরকালের উপর। ইসলামের নির্দেশিত উপায়ে জীবন পরিচালনা করাই একজন মুসলিমের জন্য উত্তম। আল-কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা মেনে চললে আমাদের ইহকাল এবং পরকাল উভয়ই সফল হতে পারে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করুন। আমিন

 

লেখকঃ ডিরেক্টর, ইনস্টিটিউট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেস রিসার্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট, রাজশাহী-৬২০৬

মহীয়সীর প্রিয় পাঠক ! সামাজিক পারিবারিক নানা বিষয়ে লেখা আর্টিকেল ,আত্মউন্নয়নমূলক অসাধারণ লেখা, গল্প  ও কবিতা  পড়তে মহীয়সীর ফেসবুক পেজ মহীয়সী / Mohioshi  তে লাইক দিয়ে মহীয়সীর সাথে সংযুক্ত থাকুন। আর হা মহীয়সীর সম্মানিত প্রিয় লেখক! আপনি আপনার পছন্দের লেখা পাঠাতে পারেন আমাদের ই-মেইলে-  [email protected]  ও  [email protected] ; মনে রাখবেন,”জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও উত্তম ।” মহীয়সীর লেখক ও পাঠকদের মেলবন্ধনের জন্য রয়েছে  আমাদের ফেসবুক গ্রুপ মহীয়সী লেখক ও পাঠক ফোরাম ; আজই আপনিও যুক্ত হয়ে যান এই গ্রুপে ।  আসুন  ইসলামী মূূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রজন্ম গঠনের মাধ্যমে সুস্থ,সুন্দর পরিবার ও সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখি । আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা সৎ কাজে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে চলো ।” (সূরা বাকারা-১৪৮) । আসুন আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মাধ্যমে সমাজে অবদান রাখতে সচেষ্ট হই । আল্লাহ আমাদের সমস্ত নেক আমল কবুল করুন, আমিন ।

আরও পড়ুন