পুরুষ নির্যাতনের চাল-চিত্র

আব্দুল্লাহ আরমান

নারী নির্যাতন আমাদের সমাজের একটি অতি সাধারণ চিত্র। স্ত্রীকে শারীরিক/মানসিক নির্যাতন এমনকি পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাও আমাদের নিকট অপরিচিত নয়। নারী ও শিশু অধিকার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার কঠোর আইন প্রনয়ণ করেছে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় ও সময়ের দাবীও বটে।এটা নিয়ে আপত্তি নেই বা থাকা উচিত নয়।

কিন্তু মুদ্রার আরেক পিঠ আমরা দেখেও না দেখার ভান করি। সংখ্যায় তুলনামূলক কম হলেও হাজারো ঘরে অতি গোপনে চলছে মানসিক ও শারীরিকভাবে পুরুষ নির্যাতন।আমরা প্রত্যেকেই কম বেশি এর সাক্ষী!

শুধুমাত্র নিজের মা ও পরিবারের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ না করার অপরাধে (!?) মা সহ স্বামীকে মানসিক ও শারীরিক টর্চার, এমনকি পিটতে পিটতে স্বামীকে বস্ত্রহীন করে দেয়া,সবার সামনে জুতা দিয়ে স্বামীকে প্রহারের দৃশ্য দেখা বা জানার দুর্ভাগ্য আমার হয়েছে!!

অফিস থেকে এসে বাড়ির অন্যান্য কাজ সহ প্লেট মাজার কাজটাও গৃহিনীর নির্দেশে করতে হয় গালিগালাজ ও ভাঙচুরের ভয়ে।কারণ তার স্ত্রী সিরিয়াল দেখার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত….. এটা আরেকটি পরিবারের দৃশ্য।

পত্রিকাতেও দেখলাম একদল সুন্দরী নারী চক্র পুরুষদের বিয়ে(?) করে জোরপূর্বক মোটা অঙ্কের মোহর(!) আদায় করে নারী নির্যাতন মামলার ভয় দেখিয়ে!এই কঠোর আইনের কাছে অসহায় পুরুষ পরাজিত হয়ে সর্বস্ব হারায়!

প্রবাসী স্বামীর ঘাম ঝরানো অর্থ,গহনা নিয়ে অন্যের হাত ধরে যাওয়ার ঘটনাও এখন কম নয়।পরকীয়ার কারণে স্বামী-সন্তান হত্যাও আজকাল অহরহই ঘটছে!ঘুমন্ত স্বামীর বিশেষ অঙ্গ কর্তনের সংবাদেও আমরা আর অবাক হইনা!

অনেকসময় পুরুষরা আত্মসম্মানের ভয়ে এসব প্রকাশ করেনা,নারীর মতো কেঁদে নিজেকে হালকাও করতে পারেনা কিংবা পুরুষালী স্বভাবের কারণে চোখ ভিজিয়ে বিচারও দিতে পারেনা! মোটা অঙ্কের মোহর পরিশোধ বা সন্তানের কারণে তালাক দেয়ারও উপায় নেই। মুখ বুজে সয়ে যায় আজীবন!
আমাদের সমাজে এরকম অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে!

কখনও কি দেখেছেন প্রচলিত মিডিয়া, অধিকার কর্মী,সমাজ কর্মী,রাজনীতিবিদ এসব বিষয় যথাযথ কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন? নারীদের বিরুদ্ধে কিছু বলা তো এখন ব্লাসফেমী টাইপের অপরাধ,তাই “নারী অধিকার বিরোধী” হওয়ার ভয়ে এই দায় হয়তো সবাই এড়াতে চায়!

যাইহোক নারী বা পুরুষ যেই নির্যাতিত হোক সমান আইনি সুবিধা পাওয়া তার অধিকার। নারী নির্যাতন আইন যেমন প্রয়োজন তেমনি এই আইনের অপব্যবহার যাতে না হয় তা দেখভাল করাও আইনেরই কাজ! তা না হলে আইন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

আমরা চাই নারী-পুরুষের ভালোবাসা পূর্ণ সহাবস্থান ও প্রত্যেকের যথাযথ অধিকার!!

লেখকঃ কলামিস্ট

 

আরও পড়ুন