বহুবিবাহ ও সামাজিক প্রেক্ষাপট

শরীফ হোসাইন

প্রথমে বলে নেই আমি কোন ফতোয়া দেওয়ার জন্য এখানে আলোচনা করছি না। আমি ইসলামের এবং মানুষের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয়ে আলোচনা করতে চাচ্ছি।বিবাহ একটি অতি সামাজিক এবং পবিত্রতম সম্পর্ক। এটি সেক্স/যৌনকামনা/মনোবাসনা বললে ভুল হবে।

“আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা রুম : আয়াত ২১)।

এটাই বিবাহ সম্পর্কে একটি মৌলিক ধারণা।বহুবিবাহ নিয়ে ইসলাম যৌক্তিক এবং কার্যকর আলোচনা করেছে। একটি ব্যাপক এবং বিস্তৃত আলোচনার বিষয়। আমি এখানে মৌলিক কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করব।

কোরআনে বলা হয়েছে-
“সেসব মেয়েদের মধ্যে থেকে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায় সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে একটিই, অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীদেরকে; এতেই পক্ষপাতিত্বে জড়িত না হওয়ার অধিকতর সম্ভাবনা।” [সূরা নিসা : আয়াত ৩]

বহুবিবাহ নামক মানবিক/সামাজিক/অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া বা সিস্টেম ইসলামে বিদ্যমান ।এটি সুযোগ বা best oppurtunity, অত্যাবশ্যকীয় নয় এটা ব্রেনে বদ্ধমুল করেন। না বুঝলে কোরআন/হাদীসে এ সংক্রান্ত আয়াত বারবার পড়ুন । এটি সমাজের ভারসাম্য রক্ষা করার একটি কার্যকর প্রক্রিয়া।

যেখানে এখনও খ্রিস্টান মিশনারীতে বিয়ে না করার শর্তে সিস্টার হিসেবে থাকে আশ্রমেও রয়েছে এক রকম অবস্থা। বাস্তবিকই এগুলোর প্রকৃত চিত্র খুবই খারাপ।

বহুবিবাহের কারণ যা ইসলামে উল্লেখ করা হয়েছে:
১. বিধবা নারীদের অসহায়াত্ব থেকে মুক্তি।
২. এতিম সন্তানদের প্রতিপালনের ব্যবস্থা করা।
৩. কোন সময় ১ম স্ত্রীর যৌক্তিক শারিরিক অক্ষমতা।
৪. ন্যায় সঙ্গত আচরণ ফরজ।

যারা বহুবিবাহ ইসলামে আছে বলে লাফান তারা কি উপরোক্ত কারণে করেন, নিশ্চয় বহুক্ষেত্রেই না।

এ পর্যন্ত পড়ে ঝাঁপ দিয়ে উঠবেন পোলাপান প্রেম করে না ২/৩ টা তারে নিষেধ করেন না কেন। আরে ভাই থামেন, পোলাপানের কুকামের যুক্তি দেন কেন যাদের একটা বৌ আছে তারা কি সব কুকাম করে। ইসলাম কোন সুযোগ দেওয়া মানে করতে বলা না। ইসলামের অনেক সিস্টেম রদ হয়নি কিন্ত সামাজিক কারণে তা আমরা করি না। কারণ সেই সময়ে সেটা অতি যৌক্তিক ছিল কিন্ত এখন নয়। যেমন যুদ্ধ বন্দিদের দাসী বানানো, দাসীদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন ইত্যাদি(এগুলো সে সময়ে কেউ বিরোধীতা করেনি)। আপনি এত বিষয়ে ধৈর্যধারনন করেন কিন্ত বিয়ের ব্যপারে সুযোগ খুঁজেন কেন? আপনি ঘুষ খান না, সুদ খান না , অন্যের সম্পদ দখল করেন না, মদ খান না। তাহলে এখানে আপনি সুযোগ খোঁজেন কেন?

আপনি যদি মানবতাবাদী হন মানবিক বিয়ে করতে চান একজন বিধবা মহিলাকে করেন, এতিম বাচ্চাসহ করেন। সমাজে এরা বড় অসহায়। সুতরাং বহুবিবাহ নামক  সৌন্দর্যকে বিতর্কিত না করে ইসলামের নিয়ম অনুসরণ করুন।

যারা বহুবিবাহ দিয়ে সোয়াব অর্জন করেত চান তারা তাদের আয়ের অংশ এসব এতিম, বিধবাদের এমনি এমনি বিনিময় ছাড়া দেন সোয়াব বেশি হওয়ার কথা।

বিবাহ নামক সামাজিক কর্মে বলা হয়েছে তোমরা পরস্পর শান্তিতে থাকবে এবং পরস্পরের মধ্যে দয়া ও সম্প্রীতি সৃষ্টি করা হয়। একজন নারী সন্তান ধারণের মাধ্যমে তার শরীরের মূল সৌন্দর্যহানি হয়। কিন্তু এই সন্তানের মাধ্যমে এই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অসম্ভব ভালোবাসাকে আরো গাঢ় করে। সন্তান যখন বাবার হাত ধরে হাঁটা শেখে তখন এই ভালোবাসার বন্ধন আরো দৃঢ় হয় (ইব্রাহিম আলাইহিসসালাম এর উদাহরণ দেখুন)। সন্তান যখন কৈশরে উপনিত হয় তখন বাবা-মার সমস্ত ভালোবাসা তাকে কেন্দ্রিক হয় (ইউনুস আঃ এর উদহারণ দেখুন)। যুবক বয়সে সন্তানের প্রতি পিতা মাতা নির্ভরশীল হয় (শোয়াইব আঃ এর কন্যাদের বিয়ের উদহারণ দেখেন)।

সুতরাং বিবাহ ব্যবস্থাকে আরও প্রগাঢ় করার জন্য আলেম সমাজ চেষ্টা করুন, বহুবিবাহ নয়।

শরীফ
৮ এপ্রিল ২০২১
পশ্চিম ধানমন্ডি।

লেখকঃ কলাম লেখক

আরও পড়ুন