ব্যক্তিস্বার্থে যেন ফতোয়া ম্যানিপুলেশন না হয়!

খন্দকার মারিয়াম হুমায়ুন

কয়েকদিন আগেই এক বোন ফাতোয়ার জন্য উতলা হয়ে যাচ্ছিলেন- হাজবেন্ডের পারমিশান ছাড়া বিয়ের পর চাকরী জায়েজ হওয়ার ব্যাপারে। কারণ তারা দুই বোন এবং তারা ছাড়া তাদের বাবা মাকে দেখার কেউ নেই। বৃদ্ধ বাবা মা একলা থাকেন। এদিকে তার ইন ল’স চায় না আপু চাকরী ইভেন ব্যবসাও করুক। উল্লেখ্য যে আপু একজন ডাক্তার। এদিকে আপুর হাজবেন্ডও আপুর বাবা মা কে নুন্যতম সাহায্য করতেও প্রস্তুত না। আপু ইন ল’স এর সাথেই থাকেন।

এইসব বোনদের আহাজারি খুব কষ্ট লাগে। হ্যা শারীয়াহগত ভাবে ভাই হয়তো বাধ্য না, কিন্তু বউয়ের আনন্দ-দুঃখ টা দেখা তো উচিৎ। কোন বোন যদি তার ইন ল’স এর জন্য কিছু করে, ভাইয়েরও উচিৎ তার ইন ল’স এর জন্য নুন্যতম হাদিয়া হলেও কিছু দেওয়া। ইহসান করলে, হাদিয়া দিলে তো সম্পদ কমে যায় না!!

আমাদের কমিউনিটিতে অনেক কিছু এক তরফা হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে হাজবেন্ড-ওয়াইফ-শশুড়বাড়ি এই পারিবারিক সমস্যা গুলোতে প্রকট। আর আমার ব্যক্তিগত মত হলো এর অন্যতম একটি কারণ, ইউটিউবে দুই একটা ভিডিও ক্লিপ দেখে- আলেমদেরকে সরাসরি জিজ্ঞাসা না করে ইসলামিক বিষয়গুলোতে একটা উপসংহারে চলে আসা।
আমার এক কাছের বোন হারাম সম্পর্ক থেকে বাঁচতে বিয়ে করে নিলো ওয়ালী ছাড়াই। তারা দুইজন নিজেদের সালাফী বলে পরিচয় দেয়। বিয়ের পরে আপুকে আর ভালো লাগে না, ছেলেটা অতঃপর ইউটিউবে ভিডিও ক্লিপ দেখিয়ে বললো ওয়ালী ছাড়া বিয়ে বাতিল সো তাদের বিয়ে হয় নাই। এই বলে সে সম্পূর্ণ যোগাযোগ অফ করে দিলো। এই নিয়ে মেয়েটা যারপরনাই ভোগান্তির শিকার হলো। ভাইয়ের দিক থেকে বিয়ে মেনে নিলে এখন তালাক ও মাহর দিতে হবে, এই থেকে বাঁচতে এমন ফাতোয়া শপিং এর আশ্রয় নিলো। আল্লাহ উনাদের মত ভাইদের হেদায়েত দিক। দ্বীনি কমিউনিটিতে এর থেকে বড় জালিয়াতি আমার চোখে পরে নাই ।

উপরের আপুটার ক্ষেত্রেও আপু কিছু বললে উনার বর ইউটিউব ভিডিও বের করে দেখায়। কিন্তু এদের দুইজনকেই সাজেশন দেওয়া হয়েছিলো একজন আলেমের সাথে বিস্তারিত তাদের সমস্যা গুলো নিয়ে কথা বলতে, কিন্তু তারা রাজী হয় না। তাদের কাছে ইউটিউব ভিডিওই হয়ে গেল দলিল।

পারিবারিক সমস্যা গুলো আসলে বিস্তারিত আলোচনার বিষয় কারণ এতে দুই জনের হক্ব জড়িত থাকে। যারা শুধুমাত্র ইউটিউব ভিডিও উপর ভিত্তি করে নিজের সুবিধার ক্ষেত্রে ফাতোয়া ম্যানুপুলেশন করে, তারা আসলে জালিয়াতি করে। আর এগুলো ধীরে ধীরে বেড়েই চলছে। এইসব ঘটনার উলটো টাও হয়, অনেক মেয়ে চায় না ইন ল’স এর সাথে থেকে ইহসান করতে আবার অনেক মেয়ে লুকিয়ে বিয়ে করে উচ্চ মাহর দাবি করে।

ভাই/বোনদের কাছে এই চাওয়া যেন তারা নিজের সুবিধার জন্য ফাতোয়া ম্যানিপুলেশন না করে । আর শুধুমাত্র ইউটিউব ভিডিও দেখে যেন পারিবারিক সমস্যা গুলোর মতো জটিল বিষয়ে ডিসিশন না নেয়। বরং একজন আলেমের সাথে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে যেন উপসংহারে পৌছায়। আলেমের কাছে সরাসরি জেনে নিলে বায়াসড বা পক্ষপাতিত্ব হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। একজন আলেম শারীয়াহ বাউন্ডারি দেখিয়ে দেওয়ার পরও উত্তম নাসীহা করতে পারে যা দুইজনকেই ইহসান পূর্ণ কাজে ইন্সপায়ার করবে। তাছাড়া ব্যক্তি-অবস্থা-পরিবেশে অনেক সময় ফিকহ রুলিংস ও ভিন্ন হতে পারে। এটা শুধুমাত্র একজন আলেমই জানবেন, আমরা আমজনতা তাদের থেকে যা জানি না জেনে নিবো।

লেখকঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং ডঃ বেলাল ফিলিপ্সের আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ( IOU) এর সাইকোলজি ও ইসলামিক স্টাডিজের স্টুডেন্ট

আরও পড়ুন