যে পরামর্শ করে সে ব্যর্থ হয় না

আজিজা সুলতানা রোজী

হযরত ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো কাজ করার জন্য পরামর্শ করে, আল্লাহ তায়ালা তাকে সঠিক ও সহজ পথ প্রদর্শন করেন। (বায়হাকী)

নিজের মতটা প্রতিষ্ঠিত করতে চাওয়া মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। কিন্তু মানুষ যখন পরামর্শ করে তখন তাতে আল্লাহর রহমত থাকে, বিনয় এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাও প্রকাশ পায়। পরিবারের প্রধান হিসেবে আপনি অনেক কিছু জোর করে চাপিয়ে দিতে পারেন অথবা পরামর্শ করতে পারেন।
আপনি কোনটা করবেন? সর্বকনিষ্ঠ সদস্যটির সাথেও পরামর্শ করুন। দেখবেন সবার মুখে কেমন হাসি ফুটেছে। যদিও বাইরের বিষয়গুলোতে বাবার অভিজ্ঞতা বেশি, আর ভেতরের বিষয়ে মায়ের দক্ষতা বেশি। আবার এমন কিছু বিষয় আছে যা ছোটরাই ভালো বোঝে।

নীলা ও আরিফের প্রায়ই এমন কথা হয়।
নীলা বলে
: এটা কিনলে ভালো হয় না?
: বেশি বকবক করো না। সবসময় খালি উপদেশ আর উপদেশ।

নীলার মনটা খারাপ হয়ে যায়। নিজেকে তুচ্ছ আর অবহেলিত মনে হয়। বাসায় সে ছিলো প্রিন্সেস। আর এখানে কথাও বলা যাবে না।

সংসার নাকি দুজনের। কিন্তু কাজের বেলায় আরিফই সর্বেসর্বা। এমন অনেক স্বৈরাচারী পরিবার আছে যেখানে নারীদের চতুর্থ শ্রেণির মনে করা হয়।
কি রান্না হবে, কি বাজার হবে, কোন জানালা খুলবে, দরজা খুলবে কিনা, লাইট জ্বালানো, রিমোট চালানো এসব ছোটখাটো বিষয়ও আরিফ বলে দেয়। নারীরা ঘরের পরিচালিকা। নারীদের ঘর ও রান্নাঘরের বিষয়ে পরামর্শ দেয়া যেতে পারে, হস্তক্ষেপ নয়।
আরিফের মত কিছু পুরুষ নারীর সব বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে যেন কোনো বিষয়ে যেন মেয়েদের স্বাধীন ইচ্ছা বা মত থাকতে পারে না। অথচ আল্লাহ পাক নারীকে স্বতন্ত্র সৃষ্টির গৌরবে গৌরবান্বিত করেছেন। এজন্য যা করা যেতে পারে-

১. প্রতিমাসে ফ্যামিলি মিটিংয়ের ব্যবস্থা করে।

২.পারিবারিক সমস্যা বা কোনো সিদ্ধান্তে সবার মতামত নেয়া( একান্ত ব্যক্তিগত হলে গোপনে বলা)

৩. ব্যক্তিগত পছন্দ, অপছন্দ, ক্যরিয়ার,বিয়ে ইত্যাদি চাপিয়ে না দিয়ে জিজ্ঞেস করা বা বুঝিয়ে বলা।

৪. কথা বলার আন্তরিক পরিবেশ তৈরি করা। যেখানে কেউ অপমানিত, হাসির পাত্র, হেয় বা নেগেটিভ কমেন্টের শিকার হবেন না।

আমাদের নবীজি (সা.) রাষ্ট্রপ্রধান হবার পরও পরামর্শ নিতে অসুবিধা হয়নি। উমর (রা.) মোহর বিষয়ে পরামর্শ শুনে বলেছিলেন, ‘উমর ভুলে পতিত হয়েছে আর একজন নারী সত্যটাই বলেছে।’

তাদের কিসের অভাব ছিলো? যোগ্যতা, প্রজ্ঞা না অভিজ্ঞতার? আমার কথামত সব চলবে -এই ইগো তাদের ছিলো না। তারা ছিলেন উত্তমের পক্ষে। তা সে যেই উত্তম জিনিস উপস্থাপন করুক না কেন।

সূরা কাসাস খুললে দেখতে পাই আল্লাহর রাসুল শুয়াইব (আ.) কে তাঁর মেয়েরা পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি তা মেনে নিচ্ছেন।
একনায়কতান্ত্রিক পরিবার নয়, পরামর্শ ভিত্তিক পরিবারই পারে মনের ব্যথা লাঘব করতে ও বাচ্চার কথা বলার পরিবেশ তৈরি করে দিতে। সব বিষয়ে না হলেও কিছু বিষয়ে পরামর্শ করুন,ভালো থাকুন।

লেখকঃ শিশু ও নারী বিষয়ে কলাম লেখক 

আরও পড়ুন