সুখ তৈরির গল্প

ড. আজিজা সুলতানা রোজী

নুমাইরদের ছোট্ট পরিবার। মা বাবা আর ছোট্ট নুমাইর। বাবা ফেরার সময়টাতে চঞ্চল নুমাইর আরও চঞ্চল হয়ে ওঠে। কাজ শেষে বাড়ি ফেরা বাবা ভীষণ টায়ার্ড। ছোট্ট নুমাইর অতশত বোঝে না। তার বাবার কোলে ওঠা চাই। সে বাবার জামা টানাটানি শুরু করে।

বাবা – সরে যাও বলছি। গায়ে বাইরের ধুলোবালি।
ফ্রেশ হয়ে নাস্তা খেতে বসলো বাবা। নুমাইর এর বাবা নাজিব।নুমাইর হুটোপুটি করছে। অনেক মজা করছে। তার কচি দু হাতে কমলার রস ভরিয়ে বাবার শার্টে মেখে দিল। নাজিব গেল রেগে।

বাবা- সরে যাও বলছি। দিন দিন কি যে হচ্ছে বাচ্চাটা।মুহূর্তে নুমাইরের হাসিখুশি মুখটা ফোঁপাতে লাগলো। ঘরের ভেতরটা গুমোট হয়ে গেল।

নাজিব কম্পিউটারের সামনে বসল। একটু আগের বকা ভুলে নুমাইর আবার বাবার কিবোর্ড টিপতে লাগল।

বাবাঃ যাও বলছি। তোমার আম্মুর তো কাজের শেষ নেই।

নুমাইর কে বের করে দরজা লাগিয়ে দেয়।

আম্মু-একটু একা খেলা তো নুমাইর।মা-বাবাকে বিরক্ত করো না। আমি রাতের খাবার তৈরি করছি।

নুমাইর ঘরে একা বসে ছবি আঁকতে লাগলো। আব্বু আম্মুকে এক পাশে, নিজেকে অন্যপাশে।

বিছানায় ঘুমানোর আগে নুমাইরের মাথায় রাজ্যের গল্প। সে কথা বলা শুরু করলো। আর থামতেই চায় না।

বাবা- তুমি থামবে, না আমি অন্য ঘরে যাব।
রাগ করে পাশের ঘরে চলে গেল বাবা।

পরেরদিন বাবা বাড়ি ফিরলে অন্য মায়ের আর কদিন দরজার কাছে ছুটোছুটি করে না। খাবার সময় মায়ের সাথে খুনসুটি করে। কম্পিউটারের বন্ধ ঘরের দরজায় কয়েকবার থাবা দিয়ে চলে যায়। রাতে ঘুমানোর সময় মাকে বলে আমরা একাই ঘুমাই আম্মু। আমার ভয় লাগবে না।

কদিন পরে নাজিব নুমাইরের জন্য খেলনা নিয়ে ঘরে ফিরছে।
বাবা- আসসালামু আলাইকুম। সোনামণিটা কোথায় আমার?

ভয়ে নুমাইর একটু একটু করে কাছে যেতেই নুমাইরের মাথায় চুমু দিয়ে বলে

বাবা-বাবা ফ্রেশ হয়ে আসছি একটু অপেক্ষা করো। একসাথে খেলব।

তারপর কমলালেবুর খোসা ছোড়াছুড়ি খেলা শুরু হল। নুমাইর অনেকদিন এমন প্রাণ খুলে হাসেনি। (হিহিহিহি)

বাবা-বাবার সাথে অফিসের কাজ করবে? কিন্তু পাঁচ মিনিট। তারপর আমাকে একটু উঠার পারমিশন দিতে হবে, ওকে বাবা বুঝেছ?

বাবা- ফারিজা ঘুমানোর আগে ৫ মিনিট আর ঘুম থেকে উঠার পরের পাঁচ মিনিট বাচ্চাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দিন শুরু আর শেষটা যাতে খুশি আর আলহামদুলিল্লাহর সাথে হয়।

বাচ্চাদের অনুভূতি এত তীব্র আর স্পর্শকে ওরা এত বেশি ফিল করে এটা আগে জানতাম না ফারিজা।

ফারিজা বুঝতে পারল না হঠাৎ করে বাড়ির পরিবেশটা এমন স্নিগ্ধ হলো কেমন করে! নুমাইরকে কোলের মধ্যে টেনে নিল ফারিজা। নাজিব নুমাইরের চুলে হাত বুলাতে লাগলো। আর নুমাইর সোনা কোলের ভেতর গুটিসুটি হয়ে চুপ রইল মিষ্টি একটা ছানার মতো।

লেখকঃ শিক্ষক ও সাহিত্যিক

সুখ তৈরির গল্প – সুখ তৈরির গল্প – সুখ তৈরির গল্প

আরও পড়ুন –

আপনার সন্তানকে বন্ধু বানান

আরও পড়ুন