সংসার সুখের হয় দুজনের গুনে!

মোসাঃ নাসরিন সুলতান

বাসর রাতেই বিড়াল মারতে হয়! যদিও এটা একটা প্রবাদ বাক্য তবুও নিশ্চয়ই এর একটা ব্যাখ্যা আছে? ব্যাখ্যাটা একেক জনের কাছে একেক রকম হতেই পারে আমার কাছে যথার্থই মনে হয়! কারণ বিয়ে মানে নতুন জীবন শুরু! এটা প্রেমের বিয়ে হোক আর পারিবারিক ভাবেই হোক! দুইজন মানুষ দুই পরিবার ও দুইটি ভিন্ন পরিবেশ থেকে এসে এক সাথে থাকা! যদিও এটা প্রাপ্তবয়স্ক তবুও আমি বলব কাদাঁ মাটির মতন, আপনি শুরুটা যেমন করবেন বাকি জীবন সেভাবেই কাটবে!!! এ জীবন শুরু করার প্রথম দিনেই দুজনকে ঠিক করে নিতে হবে তাদের জীবন শুরুটা কেমন হবে? অর্থাৎ দুজনের পরিবারে সদস্য আছে তাদের একেক জনের ভুমিকা একের রকম এ সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা দিতে হবে তার পরিবারে কার গুরুত্ব কতটুকু! আপনি যদি আপনার বৌউ বা স্বামীকে আপনার পরিবারের বাবা, মা, ভাই বোন সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে না পারেন তবে কিছু দিন পরই, সে আপনার ঘাড়ে উঠে নাঁচবে বা আপনার কান ধরে ঘুরাবে! তখন মান সম্মানের ভয়ে আপনার আর কিছুই করার থাকবেনা! হয় মানতে হবে নয় ভাংতে হবে৷ তাই বাসর রাত বিড়াল মারাটাই উত্তম নয় কি?

কি করে দুজনই ভাল থাকবেন বা পরিবারকে ভাল রাখবেন তার চারটি পরামর্শ

১) পরিবারের সদস্যদের প্রতি দায়িত্ব

দুই পরিবারেরই সদস্য থাকবে তাই দুজনে ভাগ করে নেওয়া যেমন ছেলের পক্ষের গেস্ট আসলে সে জানে এরা তার কেমন আত্মীয়, তাদের কেমন আদর যত্ন করতে হবে তাই সে তাদের জন্য তার মতো করে সমস্ত আয়োজন করবেন এবং স্ত্রীর উচিত তার স্বামীকে সমর্থন করে সকল ধরনের সাহায্য করা! অপর দিকে স্ত্রীর পক্ষের গেস্ট আসলে তার পরামর্শে সব আয়োজন করা এবং স্বামী তাকে সাপোর্ট করে সাহায্য করা!

২) দৈনন্দিন কাজে অংশ গ্রহণ করা

প্রতিদিন একটা সংসারের হাজার রকম কাজ থাকে এসকল কাজগুলি ছেলের বা মেয়ের কাজ না ভেবে দুজনে মিলে শেষ করা! এটা হতে পারে বাজার করা, চা বানানো, বাচ্চাদের যত্ন নেওয়া, বাচ্চাদের স্কুলে নেওয়া ইত্যাদি! অর্থাৎ ছাড় দেওয়া মেন্টালিটি থাকতে হবে! তাছাড়া একজন যখন কোন কারণে রেগে যাবেন অন্যজন তখন চুপ থাকতে হবে! মাথা ঠান্ডা হলে সে বিষয়ে আলোচনা করে সমাধান করতে হবে! তাহলে অনেক জটিল কাজকে ও সহজ মনে হবে!

৩) সামাজিক দূরুত্ব বজায় রাখা

এটা কিন্তু করোনার দূরুত্ব না! একটি ভাল সম্পর্ক টিকে রাখতে হলে কিছু দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, যেমন ফেইসবুক এড না করা, একজনের ফোন অন্য জনে না ধরা, ব্যক্তিগত বিষয়ে ইন্টার‌ফ্রেয়ার না করা! অর্থাৎ সে সকল বিষয় গুলো নিয়ে দন্ধ হতে পারে সেগুলো এভয়েট করা! অন্য জনের জন্য কেন নিজের সম্পর্কে নষ্ট করব? ধরুন আপনার অনেক বন্ধু আছে কলিগ আছে বা কিছু সুভাকাঙ্খী আছেন যারা মজা করে এমন কিছু কমেন্ট করল যার জন্য আপনি প্রস্তুত ছিলেন না!!! ঐ দিকে আপনার বর অফিসে কাজ করছে আর হঠাৎ দেখল বৌউকে কে যেন কি বলল!!! বেশ শুরু হয়ে গেল যুদ্ধ!! এযুদ্ধ শেষ হলেও এর জের জমতে জমতে একদিন জলোচ্ছাসে পরিনত হবে এবং এর ফলাফল আর বলার অপেক্ষা রাখে না!!

৪) আত্মবিশ্বাস ও সম্মানবোধ

সবচেয়ে বেশি জরুরী এটা একে অন্যের প্রতি যদি বিশ্বাস না থাকে যেখানে কোন সম্পর্কই থাকতে পারেনা! তাই রিকশায় বৌউ এর সাথে অন্য কোন পুরুষ দেখলে আগে তাকেই প্রশ্ন করেন সঠিক উত্তর পাবেন সন্ধেহ করলেন তো মরলেন!!! তাই এক জন অন্য জনের পেশা ও কাজের মূলায়ন করতে হবে দেখবেন শুধু নিজেরাই না পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুখে থাকতে পারবেন!!! এগুলো একান্তই আমার মতামত আপনার ভিন্ন হতেই পারে!!!!

লেখকঃ কলামিস্ট অ থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার

 

 

আরও পড়ুন