নিহার দেনমোহর

 

রাত সাড়ে এগারো চোখে ঘুম আসেনি। ম্যাক্সিম গোর্কির মা পড়ছিলাম। মধ্যে পাড়ার জনির ফোন এলো। জনি বলছে, নজরুল কামারের মেয়ে নিহার বিয়ের লোক এসেছে। ইচ্ছে ছিল না তবুও গ্রামের জনসাধারন যখন শিক্ষক হিসেবে সম্মান করে তখন অনেক সময় না করা যায় না।
একে পায়ে দুয়ে পায়ে কামারের বাড়ি গেলাম। বেশি লোকজন নেই, কম বয়সী এক ছেলে বর।
বরের সাথে এক চাচা, এক প্রতিবেশি, দুই বন্ধু মোটেই ও
পাঁচজন। কামারের বাড়িতে ভাতিজা জনি নজরুল কামারের এক ভাই, দুই প্রতিবেশি আর চার থেকে ছয় জন মহিলা। কামারের মেয়ে নিহার বয়স ১৩ বছর। সপ্তম শ্রেনির ছাত্রী হিসেবে খুব চঞ্চলা আর মেধাবীও।
বর বেশে যে অপ্রস্তুত হয়ে এসেছে তার বয়স বেশি হলে ১৭ হবে।
আমি উভয় পক্ষকে কাছে ডাকলাম আর বললাম, আমাকে এখানে ডাকা মানে খাল কেটে কুমির আনা।
আমার পরামর্শ হলো –
* সংসার জীবনে সম্পর্কের মানে খুব বিশাল।
* সংসার জীবনে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব জরুরী।
* সন্তান প্রতিপালনে ধৈর্যের পাহাড় রচনা করতে হয়।
* শিক্ষা আর বয়স ভার ছাড়া পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি হয়।
* বাল্যবিবাহ আইনের আওতায় কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।
কারন, বাল্যবিবাহের ফলে মা ও সন্তানের মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ে।
এবার সবাই বলেন , এ বিয়ে কে পড়াবে? সাক্ষীই বা কে হবে?
অমীমাংসিত ভাবে বিয়ে ভেঙে গেল।
কিছু দিন পরে শুনতে পেলাম নিহার কোট ম্যানেজ করে দেড় লক্ষ টাকা মোহর নির্ধারণ করে বিয়ে হয়েছে। মুখে আলহামদুলিল্লাহ বলেছিলাম ঠিক কিন্তু মন থেকে মেনে নিতে পারিনি।
গড়িয়ে গেল আরো কিছু সময়। নিহা মাঝে মাঝে কামারের বাড়ি থাকে।
গোপনে জানতে পারলাম শ্বশুর মশাই পরিবার থেকে এক লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছে।
এ জন্য নিহাকে মানষিক যন্ত্রণাও দিয়েছে। এ অসহায় মেয়েটাকে পান্তা, বাসি খাবার খেতে দিত। বখাটে গাঁজা খোর ছেলে নিহাকে দরজার বাইরে রাখত। শেষ বারে নিহাকে লাঠি পেটা করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।
অপর দিকে নিহা মা হতে চলেছে!
পরিবারের এ কঠিন অবস্থায় কি করবে নিহা?
কি আছে নিহার ভাগ্যে?
নাকি নিহার দেনমোহর কখনো পাবেনা।
এভাবেই হয়তো চলছে হাজারও নিহার জীবন।

 

আব্দুল মতিন- কবি, সাহিত্যিক ও সহ সম্পাদক মহীয়সী।    

আরও পড়ুন