দ্বিতীয় বিয়ে

কামরুন নাহার মিশুঃ

বিয়ে হচ্ছে একজন মানুষের জৈবিক চাহিদা মেটানোর বৈধ উপায়। এমন কোনো প্রাণী নেই যাদের জৈবিক চাহিদা নেই। শারীরিক গঠনভেদে, অাবহাওয়া ও জলবায়ুর কারণে বিভিন্ন দেশে এই চাহিদার সময়সীমা ভিন্ন ভিন্ন।

বাংলাদেশে একটা ছেলের বিয়ের বয়স ২১ আর মেয়ের ১৮। বেশ ভালোই। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় ছেলেরা ৩৫ আর মেয়েরা ২৫য়ের আগে বিয়েই করছে না। আমি সেটাকেও উত্তম বলবো। যোগ্যতা অর্জন না করে কীসের বিয়ে।

কিন্তু অত্যন্ত লজ্জার বিষয় হলো, কোনো কারণে যদি একজন পুরুষ বিপত্নীক বা একটা নারী বিধবা হয় আমাদের সমাজের কিছু মুখোশধারী ভালো মানুষ কোনোভাবেই দ্বিতীয় বিয়েটাকে সাপোর্ট করে না।
বেশির ভাগ মানুষের জাত গেল জাত গেল মনোভাব।

গতকাল রাত ১১টার সময় আমাদের বাড়িতে পাশের বাসার এক ভাড়াটিয়ার আগমন। এত রাতে করোনা ভাইরাসের মধ্যে মহিলাকে আমাদের বাসায় আসতে দেখে ভাবলাম হয়তো কোনো বিপদ।
তাড়াহুড়ো করে গেইট খুলে দিলাম।
হাঁপাতে হাঁপাতে মহিলা শুধু একটা কথাই বলছে

” কোনমতে দরজা বাইর দিয়ে লক করে আসছি। দুই চারদিন এভাবে থাকলেই বিয়ের স্বাদ মিটে যাবে। কাউন্সিলর মামা যেন বাসায় গিয়ে দুই চার গা দিয়ে আসে। তাহলেই ভয় পাবে।”

প্রথমে মহিলার কথার মর্মার্থ কিছুই বুঝিনি। পরে শুনলাম মহিলার শ্বশুর বিয়ে করতে চায়।

তারা কোনভাবেই শ্বশুরের বিয়ে মানতে পারছে না। এই বয়সে বিয়ে করলে আত্মীয় -স্বজন ছিঃ ছিঃ করবে। সবচেয়ে বড় কথা সব সম্পদ নতুন বউকে দিয়ে দিবে।

আমি বিস্মিত একজন মানুষের জৈবিক প্রয়োজনে সে বিয়ে করবে, নোংরামি তো করবে না। আত্মীয় -স্বজন ছিঃ ছিঃ করবে কেন?
আর তার কষ্টার্জিত সম্পদ যদি নতুন বউকে দিয়েও দেয় ছেলের বউর সমস্যা কী? যে ছেলের বউ একজন আশির্ধো বয়সি শ্বশুরকে বিয়ে করার অপরাধে এলাকার কাউন্সিলর দিয়ে মার খাওয়াতে চাচ্ছে। তাদের বৃদ্ধ’র সম্পদ ভোগ করার কোনো অধিকার আছে?

প্লিজ একটু দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করুন। কোনভাবে আপনার আপনজন সে মহিলা হোক বা পুরুষ সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছে যদি একা হয়ে যান। তাকে সঙ্গী নির্বাচনের সুযোগ করে দিন। বিয়ে একটা বৈধ পবিত্র সম্পর্ক এখানে বিরূপ মনোভাবের কোনো সুযোগ নেই।

একজন বয়স্ক মানুষের মানসিক চাহিদা মেটানোর জন্য হলেও একজন সঙ্গীর প্রয়োজন। যেটা কেবল স্ত্রী বা স্বামীই মেটাতে পারে। ছেলে মেয়ে নয়।

লেখকঃ সাহিত্যিক।

আরও পড়ুন